Advertisement Banner

ক্রেডিট প্যারালাইসিসে শিল্পখাত থমকে গেছে, দাবি ব্যবসায়ীদের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ক্রেডিট প্যারালাইসিসে শিল্পখাত থমকে গেছে, দাবি ব্যবসায়ীদের
‘সিনার্জাইজিং দ্য ব্যাংকিং সেক্টর: লেন্ডার্স অ্যান্ড বরোয়ার্স পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক আলোচনায়

দেশের ব্যাংক খাতে ৩.২১ লাখ কোটি টাকার রেকর্ড উদ্বৃত্ত লিকুইডিটি থাকলেও ‘ক্রেডিট প্যারালাইসি’ বা ঋণ পক্ষাঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে শিল্প উৎপাদন থমকে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আজ বুধবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সিনার্জাইজিং দ্য ব্যাংকিং সেক্টর: লেন্ডার্স অ্যান্ড বরোয়ার্স পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক এক আলোচনায় এমন উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।

সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ৭.৬৭ শতাংশ থেকে কমে মাত্র ২.১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং শিল্প ঋণের কিস্তি আদায় বা রিকভারিতে ৫০.৪৬ শতাংশ ধস নেমেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ডিসিসিআই প্রেসিডেন্ট তাসকিন আহমেদ বলেন, “আমাদের ডলার রিজার্ভ কমে গেল, ইন্টারেস্ট রেট ৯ শতাংশ থেকে ১৬-১৭ শতাংশে চলে এসেছে। তার ওপর ল’ অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন এবং এনার্জি ক্রাইসিস আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।”

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নেতা তানভীর মোহাম্মদ দিপু ব্যাংকিং ব্যবস্থার বৈষম্য তুলে ধরে বলেন, “আপনারা (ব্যাংক) প্রথম অবস্থায় ইন্টারেস্টটা নিয়ে যান, কিন্তু মূল টাকা বা প্রিন্সিপাল থেকে আপনারা কখনো কাটেন না। ঋণের বোঝা চাপতে চাপতে আমরা মাঠের নিচে তলিয়ে যাই, কিন্তু ব্যাংক ভালো থাকে।”

সভায় বক্তারা বলেন, সরকার এ বছর যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৭৩ শতাংশ বেশি। এর প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ী তানভীর মোহাম্মদ বলেন, “সরকার যদি আগামী কয়েক মাসে দেড় থেকে দুই লাখ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে লোন নেয়, তাইলে আমরা যারা সাধারণ ব্যবসায়ী, তারা ব্যাংকের দরজার কাছেও যাইতে পারব না।”

কাগজে-কলমে বিপুল লিকুইডিটি দেখালেও প্রকৃত নগদ অর্থের সংকট নিয়ে সিটি ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আশানুর রহমান বলেন, “ব্যাংকিং সেক্টরে এক্সেস লিকুইডিটি বলা হলেও ক্যাশ ফর্মে আছে মাত্র ২৭ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। ডলারের দাম এক টাকা বাড়লে এই টাকা এমনিতে ওয়াইপ আউট হয়ে যাবে।”

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর অতীতের প্রণোদনা প্যাকেজের অপব্যবহারের সমালোচনা করে নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “কোভিডের প্রণোদনা প্যাকেজের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। যারা নিয়েছেন তারা আসলে স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতার সিন্ডিকেটের সাথে ছিলেন। এখন আমাদের পারফরম্যান্স বেইজড স্টিমুলাস প্যাকেজের দিকে যাওয়া দরকার।”

ব্যবসায়ীরা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকটের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রচুর শ্রমিক ফিরে আসার আশঙ্কা আছে। যা ভয়াবহ সংকট তৈরি করতে পারে। এছাড়া, তেলের সংকটের কারণে এবং সাতটা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার মতো পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক চাকা থেমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বিকল্প অর্থায়ন হিসেবে বন্ড মার্কেটকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসাবে তুলে ধরে বলেন, “ব্যাংক নির্ভর ফিন্যান্সিংয়ের ওপর পুরোপুরি তাকিয়ে না থেকে আমাদের বন্ড মার্কেটের দিকে যাওয়া উচিত। বন্ড মার্কেটে নির্ধারিত কুপন রেট থাকে এবং প্রিন্সিপাল পেমেন্টের সময় জানা থাকে, যা লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট সহজ করে।”

সম্পর্কিত