চলতি গ্রীষ্মে ধারাবাহিক প্রাণঘাতী বন্যা ও ভূমিধসের পর প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ, ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং মোকাবিলায় চীনের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রচার ও নীতিবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সাময়িকী ছিউশিতে আজ শনিবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে সির এসব মন্তব্য তুলে ধরা হয়। চলতি বছর চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন এবং একের পর এক ভূমিধসে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর পর তিনি এসব কথা বলেন। ঘটনাগুলো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে চরম আবহাওয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরেছে।
নিবন্ধে সির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, “বৈশ্বিক উষ্ণায়ন অব্যাহত থাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা, টাইফুন ও খরার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা ও দুর্যোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে এবং এগুলোর ধ্বংসাত্মক প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে।”
সি দুর্যোগ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্যোগের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং উত্তর চীনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামোর দুর্বলতা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন।
নিবন্ধে বলা হয়, এসব মন্তব্য সি গত ২৮ এপ্রিল পলিটব্যুরোর এক শিক্ষা অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে করেছিলেন।
চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুনটি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্লাবিত হয় এবং যানবাহন আটকা পড়ে। একই সঙ্গে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায়ও ঝড়ের প্রভাব পড়ে।
গত মাসে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশে আকস্মিক বন্যার কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে ২৫ জনের মৃত্যু হয়। আর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চংছিংয়ে পাহাড় ধসে সৃষ্ট আরেকটি ভূমিধসে ৫১ জন নিহত হয়।
চীন ক্রমেই আরও ধ্বংসাত্মক আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক দেখছেন। বিশেষ করে চলতি বছর এল নিনো পরিস্থিতি তাপমাত্রা বাড়িয়ে আরও ঘন ঘন ও শক্তিশালী টাইফুনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
সি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা ও দক্ষতার মাত্রা আমরা ধারাবাহিকভাবে বাড়াব এবং জনগণের জীবন ও সম্পদ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা কার্যকরভাবে সুরক্ষিত করব।”
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগের ঝুঁকি যেন অর্থনীতি, জ্বালানি, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর ছড়িয়ে পড়তে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারেরও আহ্বান জানান চীনা প্রেসিডেন্ট।