রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাবেক উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দুটি ধারায় মোট ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোস্তফা পাভেল রায়হান এ রায় ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহী জেলা সমন্বিত দুদকের সহকারী পরিচালক আমির হোসেন জানান, ২০১৯ সালে গোদাগাড়ী থানার ঘুষের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামি নৃপেন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৪ মে গোদাগাড়ী পৌর সদরের সরমঙ্গলা একতা মৎস্য চাষী সমবায় সমিতির নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেন আব্দুল বাতেন নামে এক ব্যক্তি। নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তৎকালীন উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা নৃপেন্দ্রনাথ দাস তার কাছে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর মধ্যে আগে ৭ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন অভিযোগকারী। পরে বিষয়টি দুদকের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে জানানো হলে দুদক ফাঁদ পাতে।
সেদিন দুপুর ২টার দিকে উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে বসে অবশিষ্ট ৮ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় দুদকের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোরশেদ আলমের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি দল নৃপেন্দ্রনাথ দাসকে হাতে-নাতে আটক করে। পরে তাকে গোদাগাড়ী থানায় সোপর্দ করে মামলা দায়ের করা হয়।
রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় তাকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, মামলার তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য আদালতে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় এ রায় এসেছে। এতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে বলেও মন্তব্য করেন তারা।