হাস্যকর বিষয় হলো, ২০২৪ সালের একটি ধর্মঘটের সময় এই ইউনিয়ন সদস্যরাই এআইয়ের জোয়ার কাজে লাগাতে না পারার জন্য স্যামসাং কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিল।
চরচা ডেস্ক

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বেশ বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় সক্ষমত বজায় রাখতে না পারা এবং বাজারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ২০২৪ সালে দুঃখ প্রকাশ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার এই ‘জায়ান্ট’ প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমান সময়ে তাদের আর সেই অনুশোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে বিশ্বজুড়ে বিপুল বিনিয়োগের ওপর ভর করে চলতি মাসে স্যামসাংয়ের বাজার মূল্য গত বছরের তুলনায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এই প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আট গুণেরও বেশি বেড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বিশেষ করে স্যামসাংয়ের উন্নত মেমরি চিপের চাহিদার কারণে এই মুনাফা আরও দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকবে।
রেফ্রিজারেটর থেকে শুরু করে স্মার্টফোনসহ সব ধরনের পণ্য তৈরি করে এক বিশাল বলয় পরিচালনা করে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। তবে দিন দিন তাদের ব্যবসা চিপ তৈরির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রথম প্রান্তিকে তাদের মোট বিক্রির ৬১ শতাংশ এবং পরিচালন মুনাফার ৯৪ শতাংশই এসেছে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) খাত থেকে।
এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় মেমরি চিপ ব্যাপকভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম–বিশ্বে এমন মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি হলো স্যামসাং। বাকি দুটি হলো তাদের দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ‘এসকে হাইনিক্স’ ও আমেরিকার ‘মাইক্রন’। আগের তিন মাসের তুলনায় বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের মেমরি চিপ বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
তবে চিপের গড় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চিপের সংকটে পড়া ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তির জন্য নিজে থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্যামসাং ধারণা করছে, চিপের এই ঘাটতি আগামী বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
স্যামসাং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবে তা তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে। চলতি বছরের শেষের দিকে তাদের একটি নতুন কারখানায় বিক্রির জন্য তারা অধিক চিপের উৎপাদন শুরু করবে। এ ছাড়া আগামী জুলাইয়ে তারা প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আরেকটি কারখানা নির্মাণ শুরু করবে। তবে ‘পি৫ ফ্যাব ২’ নামের এই কারখানাটি ২০৩০ সালের আগে প্রস্তুত হবে না।
ম্যাককুয়ারি ব্যাংকের ড্যানিয়েল কিমের মতে, যদিও এই বছর কোম্পানিটির মূলধনী ব্যয় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে চলেছে, তাও সামগ্রিক রাজস্বের অনুপাত হিসেবে এটি আসলে কমছে।
স্যামসাংয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেশ সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলছে, যা খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়। চিপ তৈরির কারখানাগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এগুলো সম্পূর্ণ হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। যার ফলে এই শিল্পে আগে থেকেই এক ধরনের উত্থান-পতনের চক্র দেখা যায়।
চিত্রিনী রিসার্চের বিশ্লেষক জুকান চো উল্লেখ করেছেন, গত ফ্ল্যাশ-মেমরি চক্রের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি স্যামসাং এবার চাইবে না। সে সময় চাহিদা বাড়ায় স্যামসাং অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছিল, যার ফলে ২০১৯ সালে তাদের পরিচালন মুনাফা অর্ধেক হয়ে যায়।
একই সঙ্গে স্যামসাং তাদের ‘ফাউন্ড্রি’ (লোহা, অ্যালুমিনিয়াম বা অন্যান্য ধাতু গলিয়ে তরল করে ছাঁচে ঢালার মাধ্যমে বিভিন্ন ধাতব যন্ত্রাংশ বা পণ্য তৈরি) ব্যবসাও সম্প্রসারিত করছে, যা মূলত অন্য কোম্পানির ডিজাইন করা চিপ তৈরি করে দেয়। আমেরিকান গ্রাহকদের সেবা দিতে টেক্সাসে তাদের একটি নতুন কারখানা এই বছর চালু হবে। লোকসানে থাকা এই বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের টিএসএমসির চেয়ে পিছিয়ে ছিল এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের কাজের ধারাবাহিকতা নিয়ে বেশ অভিযোগও উঠেছিল। বিশাল গ্রাহক ভিত্তি থাকার কারণে টিএসএমসি বড় স্কেলে কাজ করার সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছে, যা তাদের বাজারে একচেটিয়া সুবিধা দেয়।

তবে এআইয়ের এই সময়ে স্যামসাংয়ের ফাউন্ড্রি ব্যবসাকে দুটি উপায়ে সাহায্য করছে। প্রথমত, টিএসএমসির বুকিং এখন পুরোপুরি পূর্ণ। এর ফলে টেসলা এবং কোয়ালকমের মতো কিছু বড় গ্রাহক স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মেমরি ব্যবসায় বিপুল মুনাফা হওয়ার কারণে কোম্পানিটির হাতে এখন বিনিয়োগ করার মতো প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে।
তবুও, মেমরি বিভাগের এই সাফল্য অন্য কিছু সমস্যাও তৈরি করেছে। চিপের চড়া মূল্যের কারণে স্যামসাংয়ের একসময়ের ‘কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স’ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্মার্টফোন বিভাগেও লাভের পরিমাণ কমে গেছে। এমনকি এই বছর বিভাগটি লোকসানের মুখও দেখতে পারে।
পাশাপাশি রাজনৈতিক জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। গত ১১ই মে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের উপদেষ্টা কিম ইয়ং-বম চিপ ব্যবসার মুনাফা নাগরিকদের মাঝে পুনর্বণ্টন করার জন্য একটি ‘জাতীয় লভ্যাংশ’-এর প্রস্তাব করেন। যদিও পরবর্তীতে মি. লি স্পষ্ট করেছেন, কোনো নতুন কর নয়, বরং চিপের ব্যবসা থেকে আসা অতিরিক্ত কর রাজস্বই কেবল বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের ইউনিয়নগুলোর একটি জোট দাবি করছে, মেমরি বিভাগের মুনাফার ১৫ শতাংশ শ্রমিকদের মাঝে বণ্টন করতে হবে, যা ইতোমধ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সে চালু রয়েছে। দাবি না মানলে তারা ২১ মে থেকে কয়েক সপ্তাহের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। যার ফলে স্যামসাংয়ের প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ওয়ানের ক্ষতি হতে পারে।
হাস্যকর বিষয় হলো, ২০২৪ সালের একটি ধর্মঘটের সময় এই ইউনিয়ন সদস্যরাই এআইয়ের জোয়ার কাজে লাগাতে না পারার জন্য স্যামসাং কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিল।
সাফল্যের কারণে তৈরি হওয়া এসব সমস্যা হয়তো স্যামসাংয়ের কাছে এক দিক থেকে স্বস্তির। কারণ ব্যবসা ভালো চলছে। তবে দিনশেষে এগুলোও কিন্তু বড় ধরনের সমস্যাই।
(লেখাটি দ্য ইকোনোমিস্ট থেকে নেওয়া)

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স বেশ বাজে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় সক্ষমত বজায় রাখতে না পারা এবং বাজারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার জন্য ২০২৪ সালে দুঃখ প্রকাশ করেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার এই ‘জায়ান্ট’ প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমান সময়ে তাদের আর সেই অনুশোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোতে বিশ্বজুড়ে বিপুল বিনিয়োগের ওপর ভর করে চলতি মাসে স্যামসাংয়ের বাজার মূল্য গত বছরের তুলনায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে এই প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পরিচালন মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আট গুণেরও বেশি বেড়ে ৩৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বিশেষ করে স্যামসাংয়ের উন্নত মেমরি চিপের চাহিদার কারণে এই মুনাফা আরও দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকবে।
রেফ্রিজারেটর থেকে শুরু করে স্মার্টফোনসহ সব ধরনের পণ্য তৈরি করে এক বিশাল বলয় পরিচালনা করে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স। তবে দিন দিন তাদের ব্যবসা চিপ তৈরির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রথম প্রান্তিকে তাদের মোট বিক্রির ৬১ শতাংশ এবং পরিচালন মুনাফার ৯৪ শতাংশই এসেছে সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) খাত থেকে।
এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় মেমরি চিপ ব্যাপকভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম–বিশ্বে এমন মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি হলো স্যামসাং। বাকি দুটি হলো তাদের দেশীয় প্রতিদ্বন্দ্বী ‘এসকে হাইনিক্স’ ও আমেরিকার ‘মাইক্রন’। আগের তিন মাসের তুলনায় বছরের প্রথম প্রান্তিকে স্যামসাংয়ের মেমরি চিপ বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
তবে চিপের গড় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চিপের সংকটে পড়া ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি ক্রয় চুক্তির জন্য নিজে থেকেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। স্যামসাং ধারণা করছে, চিপের এই ঘাটতি আগামী বছর পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
স্যামসাং তাদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবে তা তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে। চলতি বছরের শেষের দিকে তাদের একটি নতুন কারখানায় বিক্রির জন্য তারা অধিক চিপের উৎপাদন শুরু করবে। এ ছাড়া আগামী জুলাইয়ে তারা প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আরেকটি কারখানা নির্মাণ শুরু করবে। তবে ‘পি৫ ফ্যাব ২’ নামের এই কারখানাটি ২০৩০ সালের আগে প্রস্তুত হবে না।
ম্যাককুয়ারি ব্যাংকের ড্যানিয়েল কিমের মতে, যদিও এই বছর কোম্পানিটির মূলধনী ব্যয় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে চলেছে, তাও সামগ্রিক রাজস্বের অনুপাত হিসেবে এটি আসলে কমছে।
স্যামসাংয়ের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বেশ সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলছে, যা খুব একটা আশ্চর্যজনক নয়। চিপ তৈরির কারখানাগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এগুলো সম্পূর্ণ হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়। যার ফলে এই শিল্পে আগে থেকেই এক ধরনের উত্থান-পতনের চক্র দেখা যায়।
চিত্রিনী রিসার্চের বিশ্লেষক জুকান চো উল্লেখ করেছেন, গত ফ্ল্যাশ-মেমরি চক্রের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি স্যামসাং এবার চাইবে না। সে সময় চাহিদা বাড়ায় স্যামসাং অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা তৈরি করে ফেলেছিল, যার ফলে ২০১৯ সালে তাদের পরিচালন মুনাফা অর্ধেক হয়ে যায়।
একই সঙ্গে স্যামসাং তাদের ‘ফাউন্ড্রি’ (লোহা, অ্যালুমিনিয়াম বা অন্যান্য ধাতু গলিয়ে তরল করে ছাঁচে ঢালার মাধ্যমে বিভিন্ন ধাতব যন্ত্রাংশ বা পণ্য তৈরি) ব্যবসাও সম্প্রসারিত করছে, যা মূলত অন্য কোম্পানির ডিজাইন করা চিপ তৈরি করে দেয়। আমেরিকান গ্রাহকদের সেবা দিতে টেক্সাসে তাদের একটি নতুন কারখানা এই বছর চালু হবে। লোকসানে থাকা এই বিভাগটি দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানের টিএসএমসির চেয়ে পিছিয়ে ছিল এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের কাজের ধারাবাহিকতা নিয়ে বেশ অভিযোগও উঠেছিল। বিশাল গ্রাহক ভিত্তি থাকার কারণে টিএসএমসি বড় স্কেলে কাজ করার সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছে, যা তাদের বাজারে একচেটিয়া সুবিধা দেয়।

তবে এআইয়ের এই সময়ে স্যামসাংয়ের ফাউন্ড্রি ব্যবসাকে দুটি উপায়ে সাহায্য করছে। প্রথমত, টিএসএমসির বুকিং এখন পুরোপুরি পূর্ণ। এর ফলে টেসলা এবং কোয়ালকমের মতো কিছু বড় গ্রাহক স্যামসাংয়ের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মেমরি ব্যবসায় বিপুল মুনাফা হওয়ার কারণে কোম্পানিটির হাতে এখন বিনিয়োগ করার মতো প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে।
তবুও, মেমরি বিভাগের এই সাফল্য অন্য কিছু সমস্যাও তৈরি করেছে। চিপের চড়া মূল্যের কারণে স্যামসাংয়ের একসময়ের ‘কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স’ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্মার্টফোন বিভাগেও লাভের পরিমাণ কমে গেছে। এমনকি এই বছর বিভাগটি লোকসানের মুখও দেখতে পারে।
পাশাপাশি রাজনৈতিক জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। গত ১১ই মে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউংয়ের উপদেষ্টা কিম ইয়ং-বম চিপ ব্যবসার মুনাফা নাগরিকদের মাঝে পুনর্বণ্টন করার জন্য একটি ‘জাতীয় লভ্যাংশ’-এর প্রস্তাব করেন। যদিও পরবর্তীতে মি. লি স্পষ্ট করেছেন, কোনো নতুন কর নয়, বরং চিপের ব্যবসা থেকে আসা অতিরিক্ত কর রাজস্বই কেবল বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, স্যামসাংয়ের ইউনিয়নগুলোর একটি জোট দাবি করছে, মেমরি বিভাগের মুনাফার ১৫ শতাংশ শ্রমিকদের মাঝে বণ্টন করতে হবে, যা ইতোমধ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সে চালু রয়েছে। দাবি না মানলে তারা ২১ মে থেকে কয়েক সপ্তাহের ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছে। যার ফলে স্যামসাংয়ের প্রায় ৩০ ট্রিলিয়ন ওয়ানের ক্ষতি হতে পারে।
হাস্যকর বিষয় হলো, ২০২৪ সালের একটি ধর্মঘটের সময় এই ইউনিয়ন সদস্যরাই এআইয়ের জোয়ার কাজে লাগাতে না পারার জন্য স্যামসাং কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছিল।
সাফল্যের কারণে তৈরি হওয়া এসব সমস্যা হয়তো স্যামসাংয়ের কাছে এক দিক থেকে স্বস্তির। কারণ ব্যবসা ভালো চলছে। তবে দিনশেষে এগুলোও কিন্তু বড় ধরনের সমস্যাই।
(লেখাটি দ্য ইকোনোমিস্ট থেকে নেওয়া)

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের একটি বিশেষ মুহূর্ত এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সফরের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিজেই ট্রাম্পকে নিয়ে যান ব্যক্তিগত বাগান ঝংনানহাইয়ে, যা সাধারণত বিদেশি নেতাদের জন্য খুব কমই উন্মুক্ত করা হয়।