Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

মোগলাই পরোটার বাড়ি কোথায়?

কাজী সাজিদুল হক

কাজী সাজিদুল হক

প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ৪২
মোগলাই পরোটার বাড়ি কোথায়?

ময়দা গোল্লা বেলে টেনে টেনে বেশ অনেকটা বড় করে তার ওপর ডিম ভেঙে আরও নানা কিছু দিয়ে আবার চারদিক মুড়ে তেলে ভাজা জিনিসটাকে আমরা বলি মোগলাই পরোটা। এই মোগলাই পরোটা কি আসলেই মোগল? জানেন কি, মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের অতি পছন্দ এই পরোটার সঙ্গে একজন বাঙালির নাম জড়িয়ে আছে। চলুন তাহলে মোগলাই পরোটার গল্প শোনা যাক।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মোগলাই পরোটা যিনি আবিষ্কার করেছিলেন সেই মানুষটির বাড়ি ছিল অবিভক্ত বাংলার (এখন পশ্চিমবঙ্গ) বর্ধমানে। আদিল হাফিজ উসমান। যিনি ছিলেন মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের বাবুর্চি। গল্প আছে, একইরকম খাবার খেতে খেতে সম্রাটের অরুচি চলে এসেছিল। ডাক পড়ল আদিল হাফিজের। মোগল সাম্রাজ্যের প্রতাপশালী সম্রাট আকবর তনয় জাহাঙ্গীর দশ দিন সময় দিয়ে আদেশ দিলেন নতুন পরোটা বানাতে হবে। একই পরোটা খেয়ে খেয়ে তিনি বিরক্ত। আদিল হাফিজ পড়লেন চিন্তায়। শুরু করলেন কাজ। নবম দিনের মাথায় নতুন পরোটা ‘জাবির ফালা’ নিয়ে হাজির হলেন সম্রাটের সামনে।

সম্রাট জাহাঙ্গীর অর্থাৎ মির্জা নূর উদ্দিন মুহাম্মদ সেলিম পরোটা খেয়ে এতটাই খুশি হলেন যে হাফিজ উসমানকে ১০০১ স্বর্ণমুদ্রা বখশিস দিলেন। বাবুর্চি সাহেবতো পুরস্কার পেলেন। এদিকে পৃথিবী পেল মোগলাই পরোটা। যদিও অনেকে বলেন আদিল হাফিজের বানানো পরোটা আসলে তুর্কি ‘গোজেলেমাহ’র আরেক রূপ। আদিল হাফিজ তার ছেলেকে এই পরোটা বানানোর কৌশল শিখিয়ে বলে দিলেন আর কেউ যেন না জানে। তিনি নিজেও এই রেসিপি অন্য শাহী খানসামাদের থেকে লুকিয়ে রাখলেন। দিল্লি এবং লখনৌর বাবুর্চিরাও নাকি এর হদিস পাননি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
দুই মিনিটের নুডলস এলো কীভাবেinstant noodle

গল্প আছে, বহু বছর ধরে হাফিজ উসমানের পরিবার এই পরোটার রেসিপি বাইরে কারও কাছে প্রকাশ করেননি। ব্রিটিশ রাজত্বের সময় পরিবারটির সদস্যরা এটি বাইরে বিক্রি শুরু করেন বলে অনেকেরই বিশ্বাস।

ওপরে মুচমুচে আর ভেতরে নরম, গরম গরম মোগলাই পরোটা খেতে খেতে হুট করে মাথায় আসে একজন বাঙালি কীভাবে মোগলাই পরোটা তৈরি করতে পারেন? তাহলে মনে রাখবেন, সম্রাট জাহাঙ্গীরের তিনশ বছর আগে থেকে বাংলায় তুর্ক-আফগানি প্রভাব ছিল। আর ওই ‘গোজলেমাহ’ তো তুর্কি বস্তু। শুধু ডিম নয়, তার সঙ্গে মাংসের কিমা ও নানা ধরনের মশলা ভরা থাকত। তুরস্কের আনাতোলিয়ার গ্রামে যে খাবারের জন্ম তা এখন বলা যায় দেশটির অন্যতম জনপ্রিয় ফাস্টফুড।

মোগলাই পরোটা। ছবি: চরচা
মোগলাই পরোটা। ছবি: চরচা

বিরিয়ানি আগে এসেছে কোথায়, ঢাকা না কলকাতায়?biryani

আবার ‘বায়দা রুটি’ নামের যে বস্তু আজকের ভারতের মহারাষ্ট্রে পাওয়া যায় সেও তো সেই ‘জাবির ফালা’। ‘জাবির’ আর ‘বায়দা’ দুটোর অর্থইতো ডিম। তাহলে যারা মনে করেন, মোগলাই পরোটা আসলে গোজলেমাহ’র আরেকটা রূপ তাদের ভাবনাটাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এই ঢাকা শহরেইতো একসময় ‘বায়দা রুটি’ পাওয়া যেত।

এই বায়দা রুটি ‘বার্মা রুটি’ নামেও পরিচিত। বার্মায় (বর্তমান মিয়ানমার), এই রুটির একটি সংস্করণ ‘পালাটা’ নামে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারতে বার্মা রুটির আগমন ঘটে ব্রিটিশ শাসনামলে, যখন সমগ্র ভারত এবং বার্মা ও শ্রীলঙ্কার কিছু অংশ ব্রিটিশদের অধীনে ছিল। ধারণা করা হয়, সেই সময়ে যারা বার্মা থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তারাই এই রেসিপিটি ভারতীয় উপকূলে নিয়ে এসেছিলেন।

খাদ্য সমালোচক বিক্রমজিৎ রায় মোগলাই পরোটার সাথে আরবি বা লেবানিজ রুটির অনেক মিল খুঁজে পান; সেখানেও মাংসের পুর ভরা চারকোনা আকৃতির ডুবো তেলে ভাজা রুটি বা র‍্যাপ দেখা যায়।

এবার ফুড-হিস্টোরিয়ান পুস্পেশ পান্থ কী বলছেন একটু শুনি। দিল্লি জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক বলছেন, খাবারের আগে ‘মোগলাই’ কথাটা জুড়ে দেওয়াটা আসলে ব্রিটিশদের কাজ। মোগল সাম্রাজ্যের পতন ইংরেজদের হাতেই। মোগলদের ‘যোগ্য উত্তরসূরি’ হিসেবে নিজেদের পরিচিত করাতে তারা এই ‘মোগলাই’ অভিধা বিভিন্ন জায়গায় যুক্ত করে দেয়।

এদিকে, দিল্লি সালতানাতের পতনের পর শাহী খানসামারা ছোট ছোট রাজ্যের রাজা, নবাবদের হেঁশেলে ঠাঁই পেলেন। সেখানে গিয়ে বানাতে শুরু করলেন নানা পদ। যেহেতু তারা একসময় মোগলদের হেঁশেলে কাজ করতেন তাই তাদের খাবার হয়ে গেল ‘মোগলাই’। আর ব্রিটিশদের অবদানতো আছেই। ব্যাস! খাবার পেল রাজকীয় রূপ।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে শেফ সব্যসাচী গরাই বলেছেন, তার মতে, মোগলাই পরোটা ১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে ঢাকা হয়ে কলকাতা পৌঁছেছিল!

বিষয়: খাদ্যখাবারখাদ্য সংস্কৃতিখাবারদাবারখাদ্যাভ্যাস
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।