Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

শিঙাড়ার ভেতর আলু ঢুকল কীভাবে

কাজী সাজিদুল হক

কাজী সাজিদুল হক

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৩: ০৩
শিঙাড়ার ভেতর আলু ঢুকল কীভাবে

কয়েক মাস আগে ভারতের বিহারে শিঙাড়া নিয়ে বচসা থেকে ভয়ানক এক কাণ্ড ঘটেছিল। একজনের প্রাণ চলে গিয়েছিল। সে ঘটনার আদ্যোপান্ত নিয়ে বেশি কথায় যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু, ভাবুন একবার সামান্য শিঙাড়া নিয়ে এত বড় কাণ্ড! যাক সে কথা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সকালের নাশতা পর বেলা একটু বাড়লে কিংবা সন্ধ্যাবেলা গরম শিঙাড়া খেতে অনেকেই খুব ভালোবাসেন। ডাক্তাররা যতই একে অস্বাস্থ্যকর বলুক না, তাকে থোড়াই কেয়ার না করেই অনেকে মজে থাকেন শিঙাড়ার মধ্যে। কিন্তু এই শিঙাড়া আমাদের কাছে এলো কীভাবে?

শিঙাড়া আদ্যন্ত বাঙালি নিরামিষ খাবার হলেও এরজন্ম কিন্তু মাংসের পুর ভরা সামোসা বা যাকে সমুচা বলি তার থেকে। এই সমুচা কিন্তু আবার আমাদের পরিচিত সমুচা নয়। তখন এর নাম ছিল সানবোসাগ। সেখান থেকে সামোসা।

সামোসার জন্ম পারস্যে। জন্মলগ্ন থেকেই খাবারটি জনপ্রিয়। বাগদাদের খ্যাতনামা ঐতিহাসিক আবুল ফজল বেহাকি ‘তারিখ-এ-বেহাকি’ বইতে এর কথা লিখেছেন। গজনবী সুলতানদের দরবারে বেশ কদর পেত সামোসা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সামোসা এই উপমহাদেশে আসে হাজার বছর আগে আরব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। খিলজি সাম্রাজ্যের নানা কিছুর সাক্ষী আমীর খসরু থেকে শুরু করে তুঘলক আমলে এদেশে আসা ইব্‌ন বাতুতা– প্রত্যেকের লেখায় সামোসার কথা উল্লেখ আছে। ইব্‌ন বাতুতার ‘সফরনামা’-তে মুহম্মদ বিন তুঘলকের দরবারের পরিবেশিত মাংসের কিমা দিয়ে বানানো ঘিয়ে ভাজা ‘সাম্বুসাক’-এর কথা লেখা আছে।

ইব্‌ন বাতুতার ‘সফরনামা’-তে মুহম্মদ বিন তুঘলকের দরবারের পরিবেশিত মাংসের কিমা দিয়ে বানানো ঘিয়ে ভাজা ‘সাম্বুসাক’-এর কথা লেখা আছে। ছবি: এআই দিয়ে বানানো
ইব্‌ন বাতুতার ‘সফরনামা’-তে মুহম্মদ বিন তুঘলকের দরবারের পরিবেশিত মাংসের কিমা দিয়ে বানানো ঘিয়ে ভাজা ‘সাম্বুসাক’-এর কথা লেখা আছে। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

এরও দুশো বছর পর আবুল ফজলের লেখা ‘আইন-ই-আকবরি’-তে ‘সামবুসা’র কথা পাওয়া যায়। অর্থাৎ কয়েক শতাব্দী ধরে সুলতানি দরবারে সামোসা জনপ্রিয় ছিল। যে সমস্ত অঞ্চলে সুলতানি রাজত্ব কায়েম ছিল, প্রায় সব জায়গাতেই সাম্বুসা পৌঁছে গিয়েছিল।

এই যে এতক্ষণ যে বস্তুটির কথা বলা হচ্ছে তার পুর কিন্তু সব সময় মাংস। আলু বা শীতকালের ফুলকপি তখনও শিঙাড়ায় ঢোকেনি। ঢুকবেইবা কীভাবে তখন পর্যন্ত এ দুটো সবজি আমাদের উপমহাদেশে এসে পৌঁছায়নি। অর্থাৎ শিঙাড়া অনেক দিন পর্যন্তই আমিষ ছিল। এখনও যে আমরা কলিজা শিঙাড়া, কিংবা হালের প্যাকেটজাত চিকেন সমুচা খাই সেটা সেই পারস্যের সামসোরই ধারাবাহিকতা।

স্যান্ডউইচ যেভাবে আদালতে উঠেছিলsandwich-ai

বাঙালি শিঙাড়া কীভাবে হলো

সুলতানি আমলে বাংলায় পৌঁছানো সাম্বুসা/সামেসা হলো শিঙাড়া। আর এর জন্ম নিয়ে এমন এক গল্প আছে যা সামোসাকে কাছে ঘেঁষতে দেয়নি। নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের ডায়াবেটিস ছিল, তখন এই রোগটি মধুমেহ নামে পরিচিত ছিল। রাজবাড়ির পাচক একদিন রাজার জন্য লুচি করে পাঠালেন। কিন্তু রাজার সামনে আসতে আসতে সেই লুচি ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। এমন কয়েক দফা হওয়ার পর পাচক রাজসভায় মিষ্টি পাঠানোর অনুমতি চেয়েছিলেন। মধুমেহ আক্রান্ত রাজা খুব রেগে গেলেন। রাজ কবিরাজের পরামর্শে পাচকের মৃত্যুদণ্ডের হুকুম দিয়েছিলেন। অনেক অনুরোধ করে নিজের প্রাণ রক্ষা করলেন হালুইকর।

কিন্তু রাজা আদেশ দিলেন, পাচককে তিন দিনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে। দ্বিতীয় দিন হালুইকরের স্ত্রী ঠিক করলেন একটা শেষ চেষ্টা করবেন। রাজদরবারে গেলেন তিনি। রাজাকে জানালেন, তিনি এমনভাবে লুচি তরকারি করতে পারেন, যা আধঘণ্টা বাদে খেলেও গরম রাজা পাবেন। সন্দিহান রাজা একটু কিঞ্চিৎ কৌতূহলীও হলেন। পাচকের স্ত্রী চলে গেলেন রান্নাঘরে।

পাচক গিরিধারীর স্ত্রী ধরিত্রী বেহারা রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়কে প্রথম শিঙাড়া খাইয়েছিলেন বলে কথিত আছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
পাচক গিরিধারীর স্ত্রী ধরিত্রী বেহারা রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়কে প্রথম শিঙাড়া খাইয়েছিলেন বলে কথিত আছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

পাচকের স্ত্রী বসলেন ময়দা নিয়ে। লেচি কেটে লুচি বেলে, কাঁচা ময়দার ভেতর লুচির জন্য তৈরি সাধারণ তরকারি ভরে দিয়ে, তিনে কোনা করে রেখে দিলেন। তারপর সময়মতো ফুটন্ত ঘি ভর্তি কড়াইয়ে ফেলে দিয়ে তৈরি করলেন শিঙাড়া।

প্রাণদণ্ড পাওয়া সেই পাচকের নাম ছিল গিরিধারী। আর তার স্ত্রীর নাম ছিল ধরিত্রী বেহারা। গল্প আছে কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারেই শিঙাড়ার সঙ্গে রবার্ট ক্লাইভের প্রথম সাক্ষাৎ হয়।

তবে এটা আসলে পারস্যের সামোসা উপমহাদেশে আসার অনেক পরে তৈরি গল্প। ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ প্রথম উপমহাদেশের উপকূলে পা রেখেছিল। আর রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজস্ব করেছিলেন ১৭২৮ থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত। অর্থাৎ আলু রাজার রাজত্বের আগেই এসেছে। মাংসের বদলে শিঙাড়ার ভেতর আলু ভরা হয়তো তার আগেই শুরু হয়েছে।

ফরাসি স্যারদের ফিতা যেভাবে চিকেন কডোন ব্লুcordon blu.jpg-edt

নাম শিঙাড়া হলো কীভাবে

আবার ফিরে যাই ধরিত্রী বেহারার কাছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার বানানো খাবারটি দেখে অভিভূত হয়ে নাম জানতে চাইলে পাচক-স্ত্রী বললেন, এর নাম সমভুজা। তিনি সমবাহু ত্রিভুজের মতো করে বানিয়েছিলেন বলে এর নাম দিয়েছিলেন সমভুজা।

অনেকে বলেন, সাম্বোসাগ>সামবোসা>সম্ভোজা>সমভূজা।

মতান্তরে, সমভুজা>সম্ভোজা>সিভুসা>সিঙুরা (নদীয়ার কথ্যভাষার প্রভাবে)>সিঙ্গাড়া>শিঙাড়া।

অনেকে আবার বলেন পানিফলকে হিন্দিতে সিঙ্গারা বলে সেখান শিঙাড়া এসেছে।

শিঙাড়ার জন্ম, নাম নিয়ে মতান্তর থাকলেও ভারতীয় উপমহাদেশে আসার পর এর স্বাদ আর উপকরণে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর পুরো উপমহাদেশ এর স্বাদে মেতে আছে, বহু দিন ধরে।

বিষয়: খাবারখাদ্য সংস্কৃতিখাবারদাবারখাদ্যাভ্যাসইতিহাস
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।