Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

মানুষের মস্তিষ্ক সুখ তৈরি করে কীভাবে?

তৌকির আহমেদ

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ০৯
মানুষের মস্তিষ্ক সুখ তৈরি করে কীভাবে?
আমাদের পজিটিভ অনুভূতির সময়ে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সচল হয়ে ওঠে, যেখানে প্রধান ভূমিকা রাখে চারটি জৈব-রাসায়নিক। ছবি: এআই দিয়ে নির্মিত

আমাদের জৈবিক ও বিবর্তনীয় ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, মানুষের মস্তিষ্ক কিন্তু আমাদের ‘সারাক্ষণ সুখী রাখার জন্য’ তৈরি হয়নি। এটি তৈরি হয়েছে মূলত আমাদের ‘টিকিয়ে রাখার বা বাঁচিয়ে রাখার’ (survival) জন্য। বিবর্তনের ধারায় যে কাজগুলো মানুষকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে–যেমন পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ, বিপদ থেকে আত্মরক্ষা কিংবা গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে একসাথে বসবাস করা–মস্তিষ্ক সেই কাজগুলোকে এক ধরনের পুরস্কার বা উৎসাহ হিসেবে দেখেছে এবং ইতিবাচক আবেগ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আমাদের পজিটিভ অনুভূতির সময়ে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সচল হয়ে ওঠে, যেখানে প্রধান ভূমিকা রাখে চারটি জৈব-রাসায়নিক। প্রথমটি ডোপামিন, যা মূলত কোনো লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যাশা ও প্রেষণা জাগিয়ে মস্তিষ্ককে তাড়া দেয়। দ্বিতীয়টি সেরোটোনিন, যা মেজাজ, সম্মান ও আত্মবিশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের শান্ত ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। তৃতীয়টি অক্সিটোসিন, যা প্রিয়জনের স্পর্শ বা স্নেহের মুহূর্তে নিঃসৃত হয়ে ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধন মজবুত করে। আর শেষটি হলো এন্ডোরফিন, যা শারীরিক পরিশ্রম বা হাসির মাধ্যমে নিঃসরিত হয়ে শরীরের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক ও আনন্দদায়ক হিসেবে কাজ করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে স্নায়ুবিজ্ঞানীরা একটি বিষয়ে স্পষ্ট যে মস্তিষ্কে সুখের কোনো একক ‘সুইচ’ নেই। জটিল রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া শরীরের নিউরো-নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে আনন্দ তৈরি করে সত্যি, কিন্তু সেই রাসায়নিক নিঃসরণের পেছনে আমাদের চিন্তাভাবনা, পরিবেশ এবং অভ্যাসের ভূমিকা অপরিসীম।

সুখের প্যারাডক্স: কেন আমরা যা চাই, তা পেয়েও সুখী হই না? peace

অর্জনের আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয় না কেন?

শুরুতে আমরা যে চাকরির বা পরীক্ষার উদাহরণ দিয়েছিলাম, মনোবিজ্ঞানে সেই ঘটনাটিকে একটি বিশেষ নামে ডাকা হয়–‘হেডোনিক অ্যাডাপটেশন’ (Hedonic Adaptation) বা সুখের অভিযোজন।

১৯৭১ সালে গবেষক ব্রিকম্যান ও ক্যাম্পবেল প্রথম ‘হেডোনিক ট্রেডমিল’ (Hedonic Treadmill) তত্ত্বটি প্রস্তাব করেন। ট্রেডমিলে মানুষ যেমন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দৌড়েও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে, মানুষের মানসিক অবস্থাও কিছুটা তেমনই। লটারি জেতার মতো প্রকাণ্ড আনন্দের ঘটনা ঘটুক, কিংবা পদোন্নতির মতো সুখবর আসুক–সাময়িকভাবে আমাদের সুখের পারদ অনেক ওপরে ওঠে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ বা মাস পেরোতেই আমাদের মস্তিষ্ক সেই নতুন আনন্দময় বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেয়। ফলে ব্যক্তির সুখের পারদ আবার আগের স্বাভাবিক স্তর বা ‘সেট পয়েন্ট’-এ নেমে আসে।

ড্যানিয়েল গিলবার্ট তার বিখ্যাত গবেষণাভিত্তিক বই Stumbling on Happiness-এ দেখিয়েছেন, মানুষ নিজের ভবিষ্যতের আবেগীয় প্রতিক্রিয়া অনুমান করতে গিয়ে প্রায়শই ভুল করে। আমরা মনে করি নির্দিষ্ট কোনো সাফল্য না পেলে আমরা ধ্বংস হয়ে যাব, বা তা পেলে আমরা সারা জীবন মেঘের ওপর ভাসব। কিন্তু আদতে মানুষের অভিযোজন ক্ষমতা এবং মানসিক সহনশীলতা আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।

তবে কি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের সুখের মাত্রা কখনোই বদলায় না? সাম্প্রতিক সময়ের দীর্ঘমেয়াদী গবেষণাগুলো দেখায় যে, এই সেট পয়েন্ট একেবারে পাথরে লেখা নয়। যেমন–ফুজিতা ও ডায়নার দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৪ শতাংশ মানুষের জীবনের মূল সুখের স্তরে ইতিবাচক বা নেতিবাচক স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে। অর্থাৎ, হেডোনিক অ্যাডাপটেশন একটি শক্তিশালী জৈবিক সত্য হলেও সচেতন চর্চা ও পরিবেশ পরিবর্তনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণের মাত্রায় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

বিচ্ছিন্নতার এই যুগে সমাজের মানবিক রূপান্তরের পথ কী? fomo1

সুখের নির্ধারক কী: জিনগত ভাগ্য নাকি অভ্যাস?

আমাদের জীবনের সুখের পাল্লাটা ঠিক কোন দিকে ভারী? এটি কি জন্মসূত্রে পাওয়া জিনগত ভাগ্য, নাকি আমাদের প্রতিদিনের নিজস্ব অভ্যাস? আমাদের আনন্দের কতটুকু নির্ধারণ করে দেয় জন্মের আগে লিখিত বংশগতি, আর কতটুকুই-বা থেকে যায় আমাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে?

মনোবিজ্ঞানী সোনিয়া লিউবোমিরস্কি (Sonja Lyubomirsky) এবং তার সহযোগীরা দীর্ঘ গবেষণার পর সুখের এই গাণিতিক সমীকরণটিকে একটি চমৎকার মডেলে প্রকাশ করেছেন, যা মনস্তত্ত্বের জগতে ‘হ্যাপিনেস পাই মডেল’ নামে পরিচিত।

এই মডেল অনুযায়ী, যমজ সন্তানদের ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা এবং জিনোমিক স্টাডি থেকে দেখা যায়, আমাদের সুখের মূল রেখা বা ‘সেট পয়েন্ট’-এর প্রায় অর্ধেক অংশ (প্রায় ৫০%) নির্ধারিত হয় জন্মসূত্রে। মানুষের সহজাত ব্যক্তিত্বের গঠন–যেমন বহির্মুখিতা কিংবা মানসিক স্থিতিশীলতা–জিনগতভাবেই আমাদের মধ্যে প্রবাহিত হয়।

গান যেভাবে মানসিক অস্থিরতা কমায়music

তথ্যটি শুনে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন। কিন্তু আমাদের সামাজিক অবস্থান, আয়, বৈবাহিক অবস্থা বা ভৌগোলিক পরিস্থিতির মতো বাহ্যিক বাস্তবতাগুলো (বা জীবনের পরিস্থিতি) মানুষের দীর্ঘমেয়াদী সুখের মাত্রায় মাত্র ১০ শতাংশের মতো প্রভাব ফেলে। আমরা সাধারণত মনে করি প্রচুর অর্থ, সামাজিক মর্যাদা, সুন্দর রূপ কিংবা পছন্দের জায়গায় বসবাস করাটাই সুখের মূল চাবিকাঠি, কিন্তু বিজ্ঞান তা বলছে না।

বাকি বিশাল ৪০ শতাংশ সুখ সম্পূর্ণ নির্ভর করে মানুষের নিজস্ব ইচ্ছাকৃত আচরণ ও অভ্যাসের ওপর–অর্থাৎ, আমাদের প্রতিদিনের চিন্তাভাবনা, দৈনন্দিন অভ্যাস, মানসিক চর্চা এবং সামাজিক সম্পর্কের যত্নের মাধ্যমে। এই অংশটি সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে।

যদিও পরবর্তী সময়ে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, জিন এবং পরিবেশের এই সম্পর্কটি অত্যন্ত জটিল এবং এদের নির্দিষ্ট শতাংশের সীমানায় বেঁধে রাখা কঠিন, তবুও এই মডেল থেকে মূল বার্তাটি স্পষ্ট যে, বাহ্যিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আমাদের যতটা না সুখী করে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলে আমাদের দৈনন্দিন চিন্তা ও আচরণের ধরন। ভাগ্য বা পরিবেশ যাই হোক না কেন, নিজের সুখের একটা বড় চাবিকাঠি সবসময় আমাদের নিজেদের হাতেই থেকে যায়।

আগামীকাল পড়ুন: প্রকৃত সুখ লুকিয়ে আছে কোথায়?

বিষয়: মানুষমস্তিষ্কমানসিক স্বাস্থ্যজীবনধারাবিজ্ঞানবিজ্ঞানীমনোবিজ্ঞানী
সর্বশেষ
  • ১

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ২

    তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা তুলেছেন

  • ৩

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

  • ৪

    বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান: শামা ওবায়েদ

  • ৫

    হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ: রয়টার্স

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।