Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

যেভাবে তোলা হলো যিশুর ছবি!

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৭
যেভাবে তোলা হলো যিশুর ছবি!

ইতালীয় আলোকচিত্রী সেকুন্দো পিয়ার জন্ম ১৮৫৫ সনে। তিনি আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও আলোকচিত্রী। তবে আলোকচিত্রী হিসেবেই সবাই তাকে চেনে। অসংখ্য ছবি তুলে নয়, একটি মাত্র ছবির জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। যিশু খ্রিস্টের মরদেহ যে কথিত কাফন দিয়ে মোড়ানো হয়েছিল তার প্রথম ছবি তুলেছিলেন তিনি। ধর্ম নয়, তিনি বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় আগ্রহী ছিলেন, তার তোলা ছবিই কিনা হয়ে উঠলো পবিত্র ধর্মীয় প্রতীক। 

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বাইবেলে বলা হয়েছে ‘‘…যীশু যে এতো শীঘ্র মরিয়া গিয়াছেন, ইহাতে পীলাত আশ্চর্য্য জ্ঞান করিলেন, এবং সেই শতপতিকে ডাকাইয়া, তিনি ইহার মধ্যই মরিয়াছেন কি না, জিজ্ঞাসা করিলেন; পরে শতপতির নিকট হইতে জানিয়া যোসেফকে দেহটি দান করিলেন। যোসেফ একখানি চাদর কিনিয়া তাঁহাকে নামাইয়া ঐ চাদরে জড়াইলেন এবং শৈলে ক্ষোদিত এক কবরে রাখিলেন; পরে কবরের দ্বারে একখান পাথর গড়াইয়া দিলেন।’’

এই যে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মরদেহ একটি চাদরে মুড়ে গুহার মতো কবরে রাখা হলো, খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সেই চাদরটি এখনো টিকে আছে। আর তা আছে ইতালির উত্তরাঞ্চলের শহর তুরিনের সেন্ট জন ব্যাপটিস্ট ক্যাথেড্রালে। সারা বিশ্বে সেই লিনেনের চাদরটি ‘শ্রাউড অব তুরিন’ বা তুরিনের কাফন হিসেবে পরিচিত। এটি ৪ দশমিক ৩৬ মিটার লম্বা এবং ১ দশমিক ১০ মিটার চওড়া। 

Advertisement
Advertisement
Advertisement
রোমান ক্যাথলিক চার্চের দেওয়া ছবির সত্যতার স্বীকৃতি। ছবি: সংগৃহীত
রোমান ক্যাথলিক চার্চের দেওয়া ছবির সত্যতার স্বীকৃতি। ছবি: সংগৃহীত

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে এই কথিত কাফনটির ইতিহাস জেনে নেয়া যাক। যিশুর কথিত কাফনটি চতুর্দশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে ফ্রান্সের লিঁরে এলাকায় পাওয়া যায়। বলা হয়ে থাকে, জেফ্রোই দে শার্নি নামে একজন সৈনিক কাফনের কাপড়টি স্থানীয় একটি গির্জায় দান করে দাবি করেছিলেন যে, এটিই যিশুর কাফন। তবে তিনি এই কাফন কোথা থেকে পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। তারপর চার্চে কাফনটি প্রদর্শন করে প্রচুর অর্থ রোজগার করা শুরু হয়। ১৩৮৯ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্সে ট্রয়েসের বিশপ পিয়ের দা’র্কিস ঘোষণা করেন, এটি যিশুর কাফন নয়। তিনি যিশুর কাফনের নামে জালিয়াতির তীব্র নিন্দাও জানান।

তারপর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যকার যুদ্ধ তীব্র হতে শুরু করে। ১৪১৮ খ্রিস্টাব্দে জেফ্রোই দে শার্নির নাতনি মার্গারেট দে শার্নি তাদের প্রাসাদে কাফনটি রাখার প্রস্তাব দেন। বলেছিলেন, যুদ্ধের পর এটি ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু আর ফেরত দেননি এবং ঘুরে ঘুরে প্রচার করতে থাকেন যে, এটিই যিশুর আসল কাফনের কাপড়। পরে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে মার্গারেট কাফনটি দুটি প্রাসাদের বিনিময়ে ফ্রান্সের সাভয় রাজবংশের কাছে বিক্রি করে দেন। এই রাজবংশ তখন আধুনিক ফ্রান্স, ইতালি ও সুইজারল্যান্ডের কিছু অংশ শাসন করছিল। পরে তারা ইতালির শাসনভার গ্রহণ করে। কাফনটি বিক্রির অপরাধে মার্গারেটকে নির্বাসন দেয়া হয়েছিল।

সাভয় রাজবংশ ১৫০২ খ্রিস্টাব্দে কাফনটি ফ্রান্সে চেম্বেরির সেন্ট-চ্যাপেলে রাখে। ১৫৩২ খ্রিস্টাব্দে সেখানে আগুন লাগলে কাফনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশেষে ১৫৭৮ খ্রিস্টাব্দে এটিকে পাঠানো হয় বর্তমান ইতালির তুরিনে।

আলোকচিত্রী সেকুন্দো পিয়া। ছবি: সংগৃহীত
আলোকচিত্রী সেকুন্দো পিয়া। ছবি: সংগৃহীত

আলোকচিত্রী সেকুন্দো পিয়া কীভাবে এর সঙ্গে যুক্ত হলেন, সে প্রসঙ্গে আসা যাক। ১৮৯৮ সনে তুরিন ক্যাথেড্রালের ৪০০তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান পিয়া। যদিও তিনি পেশাদার আলোকচিত্রী ছিলেন না। কিন্তু অনেকদিন ধরে ইতালির স্থাপত্য, চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্যের ছবি তুলে তার নামডাক ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় সর্বসাধারণের জন্য সেই কাফনটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। পিয়া সেটির ছবি তোলার সুযোগ হাতছাড়া করেননি। সেবারই প্রথমবারের মতো আলোচিত কাফনটির ছবি তোলা হয়।

সেই ছবি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পিয়ার ছবির কারণে এই প্রথম দেখা গেল, কাফনে এক ‘ব্যক্তির মুখচ্ছবি’ ফুটে উঠেছে! অনেকের বিশ্বাস এই মুখের ছবি যিশু ছাড়া আর কারো নয়। এই বিশ্বাস আরো জোরালো হয়, যখন ছবিটির সত্যতার স্বীকৃতি দিয়ে বসে রোমান ক্যাথলিক চার্চ!

ছবিতে তথাকথিত মুখচ্ছবিটি ধরা পড়ার সম্ভাব্য কারণ, ছাপটি আগে ছিল এক ধরনের নেগেটিভ চিত্র। ছবি তোলার কারণে তা পজিটিভ রূপ পায়। আরেকটি কারণ হতে পারে, ছবি তোলার সময় অর্থোক্রোমাটিক প্লেটের ব্যবহার। এই প্লেটগুলো শুধু ৩৫০ থেকে ৬০০ ন্যানোমিটারের তরঙ্গদৈর্ঘ্যের রঙের স্পেক্ট্রাম ধারণ করে। আর এ জন্য লাল ও হলুদ টোনগুলো কালচে দেখায়, অন্যদিকে নীল ও বেগুনি রঙ সাদা হয়ে যায়। তার অর্থ হলো, ছবিতে কাপড়ের বেশি লাল টোনগুলো কালচে হয়ে যায়, কিন্তু অনুমিত শরীরের ছাপগুলো হালকা রঙে সামনে চলে আসে।

যা হোক। ছবিতে যে যিশুর মুখ ভেসে উঠেছে, সেকুন্দো পিয়া নিজে তা বিশ্বাস করতেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, এই ছবির কপি বিক্রি করে সেসময় তিনি প্রচুর রোজগার করেছিলেন। ১৯৪১ সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু যিশুর নামের সঙ্গে তার নামটি অমর হয়ে গেল!

কাপড়টি নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে, চলছে গবেষণাও। ১৯৮০ সনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাপড়টি ১২৬০ এবং ১৩৯০ খ্রিস্টাব্দের। কোন কোন গবেষকের মতে, এটি মধ্যযুগের, কোনোভাবেই যিশুর মৃত্যুর সময়কার হতে পারে না। ২০২৪ সনে হেরিটেজ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়, এটি যিশুর কাফন হতে পারে, কারণ এটি নাকি ২ হাজার বছরের প্রাচীন! 

সূত্র: কোয়ারফেল্ডেন ম্যাগাজিন, হিস্ট্রি ডটকম, দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট ও ডেইলি মেইল

বিষয়: ছবিখ্রিষ্টানইতালিআলোকচিত্রআলোকচিত্রীশিল্প
সর্বশেষ
  • ১

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ২

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৩

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৪

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

  • ৫

    ‘২৪ ঘণ্টা হল খোলা চাই, এইখানে একটা মিসলিডিং আছে’

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।