চরচা ডেস্ক

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি শেষ হতে আর বেশিদিন বাকি নেই। এই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক ভুলভাবে পরিচালিত ও সময়ের আগেই সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের কারণে শান্তি চুক্তির অগ্রগতি ভেঙে পড়েছে। এসব ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পোস্টে তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
ইরানের এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে কমতে শুরু করে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১২ ডলার কমে যায়।
তেহরানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় পাকিস্তান। পোস্টের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্পও ইরানকে ধন্যবাদ জানান। তিনিও এই তথ্য সত্য বলে নিশ্চিত করেন।
তবে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, আরাঘচির এই পোস্টটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বা অসম্পূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হয়। ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তেলের দাম কমে যাওয়া এবং ট্রাম্পের এই খবরকে স্বাগত জানানো ও অতিরিক্তভাবে ব্যাখ্যা করা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা নাকি প্রণালি খুলে দিয়েছে এবং তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। এমনকি ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, আরাঘচির পোস্টটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে প্রভাব ফেলতে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের আইনপ্রণেতা মোর্তেজা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি না থাকলে আরাঘচির এই মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিশংসন আনা উচিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আরাঘচি বারবার ‘অপ্রাসঙ্গিক’ মন্তব্য করছেন।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, আরাঘচির পোস্টটি ভুল বা অসম্পূর্ণ। তাদের ভাষ্য, “পোস্টটি প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে যাতায়াতের শর্ত, বিস্তারিত ও প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।” কট্টরপন্থী পত্রিকা কায়হানও আরাঘচির পোস্ট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ইরানের ভেতরে আরাঘচির প্রতি সহানুভূতিশীল কিছু রাজনীতিবিদও মনে করেন, এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মাধ্যমে নয় বরং আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া উচিত ছিল। কারণ এতে ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার সুযোগ থাকে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার আবারও বিজয়ের দাবি করেন ট্রাম্প। আবার বুধবারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি না হলে ইরানে আবারও হামলা হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে ইরান জানিয়েছে, সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেওয়ার কোনো তাদের পরিকল্পনা নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো খুবই কঠোর।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, তেহরান কোনো অবস্থাতেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাতে রাজি নয় এবং এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি।

দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ইরানের কঠোর অবস্থান মূলত দেশটির বৈদেশিক নীতিতে আইআরজিসির প্রভাবের কারণে। পাশাপাশি আরাঘচি ওয়াশিংটনের কাছে আগেভাগেই বেশি ছাড় দিচ্ছেন বলেও আশঙ্কা রয়েছে তাদের।
ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একের পর এক পোস্টের কারণে আইআরজিসি আরও বেশি ক্ষুব্ধ। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প যেসব দাবি করেছেন, তারমধ্যে অনেক মিথ্যা রয়েছে।
হরমুজ খোলা নিয়ে আরাঘচির পোস্টের ব্যাখা দিয়ে পরে তেহরান জানায়, তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন, যে জাহাজগুলো আইআরজিসির অনুমতি পাবে, তাদের জন্যই হরমুজ খোলা থাকবে। জাহাজগুলো নির্ধারিত রুট ব্যবহার করবে এবং প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করবে।
গালিবাফ বলেন, প্রণালি খোলা বা বন্ধ থাকবে কিনা—এ সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, সামরিক বাহিনী নেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন। তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছেন যা তার পুরো নিয়ন্ত্রণে নেই এবং যার জন্য তেহরানের সম্মতি দরকার। অন্যদিকে ইরান মনে করছে, হরমুজ তাদের একটি শক্তিশালী কৌশলগত সুবিধা এবং পরিস্থিতি তাদের পক্ষে রয়েছে। তাই আলোচনায় ফিরতে তাদের তাড়াহুড়ো নেই।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আস্থা তৈরির জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। এরমধ্যে ছিল ট্রাম্পের চাপের মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানো। পরিকল্পনা ছিল এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে হরমুজ খোলা এবং ইরানের জব্দ হওয়া সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া।
তবে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ট্রাম্পের অস্থিরতা ও অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। তিনি এমন কিছু ঘোষণা দেন, যার পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল না। সেই সঙ্গে দাবি করতে থাকেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাবে।
এর জবাবে হরমুজ আবার বন্ধ করার ঘোষণা দেয় তেহরান। তারা অভিযোগ করে যে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া লেবাননের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে তারা ইসরায়েলের ওপর আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করতে পারে বলেও সতর্ক করে ইরান।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, আরও একটি গভীর সমস্যা হলো– ইরান মনে করে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের একটি আইনগত ও নৈতিক অধিকার রয়েছে।
ইরানের আইনজীবী রেজা নাসরি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি প্রণালি ‘নিরপেক্ষ পথ’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা পায়, যা দুইটি উন্মুক্ত সমুদ্র বা অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যদি এর এক পাশে অন্য দেশের বিরুদ্ধে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি বা আক্রমণ চালানোর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়, তাহলে সেই জলপথ আর সাধারণ আন্তর্জাতিক প্রণালি হিসেবে থাকে না। তখন এটি বিদ্বেষপূর্ণ সামরিক এলাকার অংশে পরিণত হয়।”

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি শেষ হতে আর বেশিদিন বাকি নেই। এই দুই দেশের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক ভুলভাবে পরিচালিত ও সময়ের আগেই সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের কারণে শান্তি চুক্তির অগ্রগতি ভেঙে পড়েছে। এসব ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। পোস্টে তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে।
ইরানের এই আকস্মিক ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে কমতে শুরু করে। ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১২ ডলার কমে যায়।
তেহরানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় পাকিস্তান। পোস্টের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্পও ইরানকে ধন্যবাদ জানান। তিনিও এই তথ্য সত্য বলে নিশ্চিত করেন।
তবে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, আরাঘচির এই পোস্টটি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বা অসম্পূর্ণ ছিল বলে ধারণা করা হয়। ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তেলের দাম কমে যাওয়া এবং ট্রাম্পের এই খবরকে স্বাগত জানানো ও অতিরিক্তভাবে ব্যাখ্যা করা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা নাকি প্রণালি খুলে দিয়েছে এবং তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। এমনকি ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেন, আরাঘচির পোস্টটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে প্রভাব ফেলতে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের আইনপ্রণেতা মোর্তেজা মাহমুদ বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি না থাকলে আরাঘচির এই মন্তব্যের জন্য তার বিরুদ্ধে অভিশংসন আনা উচিত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, আরাঘচি বারবার ‘অপ্রাসঙ্গিক’ মন্তব্য করছেন।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, আরাঘচির পোস্টটি ভুল বা অসম্পূর্ণ। তাদের ভাষ্য, “পোস্টটি প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়া প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে যাতায়াতের শর্ত, বিস্তারিত ও প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।” কট্টরপন্থী পত্রিকা কায়হানও আরাঘচির পোস্ট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ইরানের ভেতরে আরাঘচির প্রতি সহানুভূতিশীল কিছু রাজনীতিবিদও মনে করেন, এই ঘোষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের মাধ্যমে নয় বরং আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া উচিত ছিল। কারণ এতে ভুলভাবে ব্যাখ্যা হওয়ার সুযোগ থাকে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার আবারও বিজয়ের দাবি করেন ট্রাম্প। আবার বুধবারের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি না হলে ইরানে আবারও হামলা হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে ইরান জানিয়েছে, সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ দেওয়ার কোনো তাদের পরিকল্পনা নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো খুবই কঠোর।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই বলেছেন, তেহরান কোনো অবস্থাতেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাতে রাজি নয় এবং এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়নি।

দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ইরানের কঠোর অবস্থান মূলত দেশটির বৈদেশিক নীতিতে আইআরজিসির প্রভাবের কারণে। পাশাপাশি আরাঘচি ওয়াশিংটনের কাছে আগেভাগেই বেশি ছাড় দিচ্ছেন বলেও আশঙ্কা রয়েছে তাদের।
ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একের পর এক পোস্টের কারণে আইআরজিসি আরও বেশি ক্ষুব্ধ। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, আলোচনা নিয়ে ট্রাম্প যেসব দাবি করেছেন, তারমধ্যে অনেক মিথ্যা রয়েছে।
হরমুজ খোলা নিয়ে আরাঘচির পোস্টের ব্যাখা দিয়ে পরে তেহরান জানায়, তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন, যে জাহাজগুলো আইআরজিসির অনুমতি পাবে, তাদের জন্যই হরমুজ খোলা থাকবে। জাহাজগুলো নির্ধারিত রুট ব্যবহার করবে এবং প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করবে।
গালিবাফ বলেন, প্রণালি খোলা বা বন্ধ থাকবে কিনা—এ সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, সামরিক বাহিনী নেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন। তিনি এমন একটি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চাচ্ছেন যা তার পুরো নিয়ন্ত্রণে নেই এবং যার জন্য তেহরানের সম্মতি দরকার। অন্যদিকে ইরান মনে করছে, হরমুজ তাদের একটি শক্তিশালী কৌশলগত সুবিধা এবং পরিস্থিতি তাদের পক্ষে রয়েছে। তাই আলোচনায় ফিরতে তাদের তাড়াহুড়ো নেই।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আস্থা তৈরির জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল। এরমধ্যে ছিল ট্রাম্পের চাপের মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানো। পরিকল্পনা ছিল এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে হরমুজ খোলা এবং ইরানের জব্দ হওয়া সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া।
তবে দ্য গার্ডিয়ান বলছে, ট্রাম্পের অস্থিরতা ও অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। তিনি এমন কিছু ঘোষণা দেন, যার পুরো নিয়ন্ত্রণ তার হাতে ছিল না। সেই সঙ্গে দাবি করতে থাকেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাবে।
এর জবাবে হরমুজ আবার বন্ধ করার ঘোষণা দেয় তেহরান। তারা অভিযোগ করে যে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া লেবাননের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে তারা ইসরায়েলের ওপর আবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করতে পারে বলেও সতর্ক করে ইরান।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, আরও একটি গভীর সমস্যা হলো– ইরান মনে করে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণের একটি আইনগত ও নৈতিক অধিকার রয়েছে।
ইরানের আইনজীবী রেজা নাসরি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী একটি প্রণালি ‘নিরপেক্ষ পথ’ হিসেবে বিশেষ মর্যাদা পায়, যা দুইটি উন্মুক্ত সমুদ্র বা অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যদি এর এক পাশে অন্য দেশের বিরুদ্ধে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি বা আক্রমণ চালানোর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়, তাহলে সেই জলপথ আর সাধারণ আন্তর্জাতিক প্রণালি হিসেবে থাকে না। তখন এটি বিদ্বেষপূর্ণ সামরিক এলাকার অংশে পরিণত হয়।”

গত ১০ এপ্রিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল যখন সাপ্তাহিক ছুটির আগে কাজ শেষ করে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন তিনি অফিসের অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার সিস্টেমে লগ-ইন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তিনি দ্রুত নিশ্চিত হয়ে যান যে তাকে সিস্টেম থেকে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এতে কাশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।