৯/১১ ট্র্যাজেডির ২৫তম বার্ষিকী পালনের ঠিক কিছুদিন আগে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠারও বেশি নথি প্রকাশ করেছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলার পর সেখানকার বাতাস মারাত্মক বিষাক্ত হয়ে পড়লেও, শহরটির কর্মকর্তারা কীভাবে বারবার নগরবাসীকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিলেন—এই নথিতে তা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে বলেছে, এসব তথ্য সামনে আসায় ট্র্যাজেডি-পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়া মানুষদের ভোগান্তি এবং প্রাণহানির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। একইসঙ্গে, টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং লোয়ার ম্যানহাটন পুনরায় চালু করার জন্য কর্তৃপক্ষ ঠিক কীভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিল, সে সম্পর্কেও সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্ট ধারণা পাবে।
নথির তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের শারীরিক কষ্ট—সবকিছু বাতাসের বিষাক্ততার কথা বললেও, গ্রাউন্ড জিরোর আশেপাশের মানুষদের কর্মকর্তারা বারবার আশ্বস্ত করেছিলেন যে, বাতাস একদম ‘নিরাপদ’।
প্রকাশিত এসব নথিতে গ্রাউন্ড জিরোর বাতাসের গুণগত মানের পুরো চিত্র হয়ত নেই, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে।
২০০১ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরের কিছু নথিতে পরিবেশগত পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কর্মকর্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। কারণ, সেদিনের পরীক্ষাগুলোতে নিয়মিতই মারাত্মক অ্যাসবেস্টস এবং সহজে ধরা পড়ে না—এমন সব বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছিল।
জরুরি সেবাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ব্যর্থতা, অ্যাসবেস্টস পরীক্ষার তথ্য গোপন করা এবং সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে কর্তাব্যক্তিদের দেওয়া পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এতে।
গত মঙ্গলবার এসব নথি প্রকাশের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, “সময় যত গড়াচ্ছে, মানুষের প্রাণহানি তত বাড়ছে। যখনই কোনো নিউইয়র্কবাসী এভাবে অকালে আমাদের ছেড়ে যান, তখনই ১১ সেপ্টেম্বরের সেই নির্মম সত্য আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়।”
৯/১১ মেমোরিয়ালের তথ্যমতে, ওই হামলায় সরাসরি প্রায় ৩ হাজার মানুষ মারা যান। তবে এরপর উদ্ধারকাজে যোগ দেওয়া হাজার হাজার কর্মী ও সাধারণ মানুষ ৯/১১-সংক্রান্ত ক্যানসার এবং বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগে মারা গেছেন।
নথি প্রকাশের সময় সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: এক্স
কর্মকর্তারা জানান, খুব শিগগিরই একটি সার্চযোগ্য অনলাইন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে যে কেউ যেকোনো সময় এসব নথি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন। আগামী মাসগুলোতে সেখানে আরও নথি যুক্ত করা হবে।
নথিগুলো এখন কেন প্রকাশ করা হলো?
সিএনএন জানিয়েছে, শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগর প্রশাসনের একটি অফিসে সংরক্ষিত ৬৮টি বাক্সের মধ্যে এই কাগজপত্রগুলো লুকিয়ে ছিল, যা গত বছর খুঁজে পাওয়া যায়। এরপর হামলার ২৫তম বার্ষিকীর ঠিক আগমুহূর্তে নথিগুলো জনসমক্ষে আনা হলো।
হামলার পর বিষাক্ত বাতাসের কারণে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন—এমন উদ্ধারকর্মী, বেঁচে যাওয়া মানুষ ও ভুক্তভোগীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে আসছিল এবং নথিগুলো প্রকাশের জন্য চাপ দিচ্ছিল।
চলতি সপ্তাহে এই নথি প্রকাশের মাধ্যমে ‘৯/১১ হেলথ ওয়াচ’ নামক একটি সংগঠনের করা মামলার নিষ্পত্তি হলো। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বেঞ্জামিন শেভাত জানান, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সহায়তা বাড়াতে এবং আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা গবেষণায় গতি আনতেই তারা এই নথিগুলো চেয়ে শহরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
কর্মকর্তারা কী ধরনের মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন?
নথি প্রকাশে এত বছরের বিলম্ব কোনো ‘তথ্য গোপনের চেষ্টা’ ছিল কি না—এমন প্রশ্নে মামদানি বলেন, “পরপর কয়েকটি মেয়র প্রশাসন নিউইয়র্কবাসীদের এই প্রাপ্য তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।”
নথি থেকে জানা যায়, ভেতরের তথ্য সম্পূর্ণ উল্টো হওয়া সত্ত্বেও তৎকালীন মেয়র রুডলফ জুলিয়ানি এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের বারবার আশ্বস্ত করেছিলেন যে বাতাস সম্পূর্ণ নিরাপদ।
২০০২ সালের ফেব্রুয়ারির এক খবরে দেখা যায়, জুলিয়ানির পর মেয়র হওয়া মাইকেল ব্লুমবার্গও দাবি করেছিলেন, “পরীক্ষাগুলোতে বাতাসের মান গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যেই পাওয়া গেছে। তবে আমার মনে হয় কিছু মানুষ তা কখনোই বিশ্বাস করবে না।” অবশ্য মঙ্গলবার ব্লুমবার্গের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নথিগুলোতে জুলিয়ানির নানা পাবলিক বক্তব্যের কথা বলা হয়েছে, যেখানে তিনি বাতাস নিরাপদ দাবি করে সবাইকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে বলেছিলেন।
যেমন, ২০০১ সালের ৬ অক্টোবরের এক অভ্যন্তরীণ মেমোতে স্বাস্থ্য দপ্তরের অ্যাসোসিয়েট কমিশনার কেলি ম্যাককিনি সতর্ক করেছিলেন যে ‘অ্যাসবেস্টসের কারণে এসব এলাকা এখনো থাকার উপযোগী নয়।’ ঠিক একই দিনে জুলিয়ানি প্রকাশ্যে দাবি করেন বাতাস একদম নিরাপদ। পরবর্তীতে অনেক বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীরা জুলিয়ানির এই দাবিকে ভুল প্রমাণ করেন।
নথিতে আরও উঠে এসেছে, বায়ু ও পরিবহন দপ্তরের কার্যালয়ে অ্যাসবেস্টস এবং বিষাক্ত সিসার মারাত্মক উপস্থিতির তথ্য কর্মকর্তারা চেপে গিয়েছিলেন। এমনকি উদ্ধারকর্মীদের মাস্ক ব্যবহারেও নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল।
সন্ত্রাসী হামলার পর দীর্ঘদিন ধরে গ্রাউন্ড জিরোর আশেপাশের এলাকার বাতাস বিষাক্ত ছিল। ছবি: রয়টার্স
জুলিয়ানি এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) প্রশাসক ক্রিস্টি হুইটম্যানের কথায় আশ্বস্ত হয়ে যেসব বাসিন্দা ছাইয়ে ভরা ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন, তারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েন।
বিষাক্ত ও ক্ষারীয় ধূলিকণা নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে যাওয়ার কারণে অনেকে অনবরত নাক দিয়ে রক্ত পড়া, ত্বকে র্যাশ, তীব্র মাথাব্যথা, হাঁপানি এবং দীর্ঘমেয়াদি কাশিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হন।
কারা বাতাসের ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করেছিলেন?
ট্র্যাজেডির পরপরই বাতাসের মারাত্মক বিষাক্ততা নিয়ে কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা মুখ খুলেছিলেন। তাদের মধ্যে নিউইয়র্কের কংগ্রেস সদস্য জেরি নাডলার অন্যতম।
২০০২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেয়র ব্লুমবার্গের কার্যালয়ে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে নাডলার তার গভীর উদ্বেগের কথা জানান। এতে তিনি স্পষ্ট বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) গ্রাউন্ড জিরোর ভেতরের (ইনডোর) বাতাসের মান পরীক্ষা করার বিষয়ে চরম অবহেলা করেছে।
নথি অনুযায়ী নাডলার দাবি করেন, হামলার পর পরই ইপিএ প্রধান ক্রিস্টি হুইটম্যান ঘরের ভেতরের বাতাস পরীক্ষা না করেই জনগণকে বিভ্রান্ত করে বলেছিলেন “বাতাস নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য নিরাপদ।”
নাডলার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডেভিস) গবেষকদের একটি রিপোর্টের তথ্যও মেয়র কার্যালয়কে জানান। ওই গবেষণায় দেখা যায়, বাতাসে এমন কিছু অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা ছিল যা মানুষের ফুসফুসের একদম গভীরে গিয়ে জমা হতো।
তবে মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে হুইটম্যান দাবি করেন, বাতাসের মান নিয়ে তার দেওয়া বক্তব্য পুরোপুরি ইপিএ বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছিল।
হুইটম্যান বলেন, “ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই সব তথ্য দিয়ে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয় এবং তা নিয়মিত আপডেট করা হতো। ওই সময়ে আমাদের কাছে থাকা তথ্য ও প্রযুক্তির আলোকেই আমরা সেরা কাজটা করার চেষ্টা করেছিলাম।”
হুইটম্যান আরও জানান, ইপিএ বারবার সতর্ক করেছিল যে, মূল ঘটনাস্থলের বায়ু পরিস্থিতি শহরের অন্যান্য এলাকার মতো নয়। তবে সেই জায়গাটির তদারকির দায়িত্বে ছিল নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ, ইপিএ-এর হাতে ঘরের ভেতরের বাতাস নিয়ন্ত্রণের কোনো আইনি ক্ষমতা ছিল না।
ওই সময় সবচেয়ে কঠোর ও স্পষ্ট প্রতিবাদ তুলেছিলেন ইপিএ-এর রসায়নবিদ কেট জেনকিন্স। তিনি পরবর্তীতে অভিযোগ করেন যে সংস্থাটি বাতাসের নিরাপত্তা নিয়ে চরম মিথ্যা বলেছিল এবং বিষাক্ত ধূলিকণার ভয়াবহতাকে চেপে গিয়েছিল। মুখ খোলার অপরাধে তাকে চাকরিচ্যুত করা হলেও পরবর্তীতে সংস্থাটি তাকে আবার ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
২০০১ সালের ৩ ডিসেম্বরের এক মেমোতে জেনকিন্স শহরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পদ্ধতি, অকার্যকর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিজ্ঞানের সত্যকে তোয়াক্কা না করে শহরের কর্মকর্তাদের দেওয়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন।
নথিতে কী বলা হয়েছে?
৯/১১ মেমোরিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, এই ট্র্যাজেডির শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির ক্ষত এখনো দেশের হাজার হাজার মানুষকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত ধূলিকণার কারণেই মূলত এই দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার হেলথ প্রোগ্রাম’-এ নাম লিখিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪৯ হাজার মানুষের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়েছে।
গত মঙ্গলবার মামদানি জানান, এই কর্মসূচিতে যত মানুষ যুক্ত হয়েছেন, প্রকৃতপক্ষে সরকারি সহায়তার পাওয়ার যোগ্য মানুষ তার চেয়েও অনেক বেশি। বিশেষ করে গ্রাউন্ড জিরোর আশেপাশের যে বাসিন্দাদের কাছে সিটি কর্তৃপক্ষ পৌঁছাতে পারেনি এবং যারা বর্তমানে নিউইয়র্কের বাইরে থাকেন, তারা এখনো এই সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন।
এই পোর্টালে যে কেউ ঢুকে ১ লাখ ৭০ হাজার পৃষ্ঠার নথিগুলো দেখতে পারবেন। ছবি: এনওয়াইসি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
২০১১ সালে মার্কিন কংগ্রেস যখন এই স্বাস্থ্য কর্মসূচি চালু করে, তখন এতে ক্যানসারের চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। দীর্ঘ আন্দোলন এবং গবেষণায় উদ্ধারকর্মী ফায়ারফাইটারদের মধ্যে ক্যানসারের উচ্চ হার ধরা পড়ার পর, ২০১২ সালে এটি কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।
নথি অনুযায়ী, গ্রাউন্ড জিরো সীমানার মধ্যে থাকা চায়নাটাউনের বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহান। তাদের ঘরে জমে থাকা বিষাক্ত ধুলোবালি পরবর্তীতে শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের জন্ম দেয়।
নথিতে আরও উঠে এসেছে, ইপিএ এশীয় ভাষায় দক্ষ কর্মী নিয়োগ না করায় চায়নাটাউনের অনেক অসুস্থ মানুষ জানতেই পারেননি যে ঘরের বাতাস বা ঘরবাড়ি পরিষ্কারের জন্য সরকারি কোনো কর্মসূচি চালু ছিল।
এমনকি সেসময় চায়নাটাউনে চিকিৎসা নেওয়া শিশু শিশুদের মধ্যে হাঁপানির সমস্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গিয়েছিল বলে একটি গবেষণায় দেখা গেছে।
এ ছাড়া ভৌগোলিক সীমানার মারপ্যাঁচে পড়ে এই এলাকাটি শহর ও রাজ্য সরকারের অনেক অনুদান থেকে বঞ্চিত হয়, যার ফলে তাদের পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি আক্ষেপ করে বলেন, “মানুষগুলো কেবল এ কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, কারণ যাদের তারা বিশ্বাস করতেন সেই নেতারা মিথ্যে বলে বিষাক্ত বাতাস নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।”
কোনো আইনি জটিলতা বা মামলার মুখোমুখি হতে হবে?
সংবাদ সম্মেলনে শহরের প্রতিনিধিত্বকারী করপোরেশন কাউন্সিল স্টিভ ব্যাঙ্কসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এসব নথি প্রকাশের ফলে শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপের পথ খুলে যাবে কি না। জবাবে ব্যাঙ্কস বলেন, “মামলার ভয়ে যদি সিটি হলে বসে থেকে কাজ আটকে রাখেন, তবে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া সত্যিই দরকার তা আপনি কখনোই নিতে পারবেন না।”
ব্যাঙ্কস জানান, আদালতের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আগামী মাসগুলোতে শহর কর্তৃপক্ষ তাদের অগ্রগতির তথ্য জমা দিতে থাকবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত নথিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘হার্ডিং মেমো’ নামে পরিচিত একটি বার্তা, যা তৎকালীন ডেপুটি মেয়র রবার্ট হার্ডিংয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
আইন দপ্তরের ওই নথিতে বলা হয়, ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ফলে সম্ভাব্য বাদীর সংখ্যা হতে পারে প্রায় ৩৫ হাজার—যার মধ্যে অন্তত ১০ হাজার মানুষ ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে পারেন। এতে শহরের আইনি ঝুঁকি ও দায় কমানোর বিভিন্ন কৌশলও বাতলে দেওয়া হয়েছিল।
নথিতে বলা হয়, “সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হলো, মামলাগুলো আদালতে গড়ালে বিচারক ও জুরি বাদীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারেন এবং বড় অঙ্কের জরিমানা নির্ধারণ করে বসতে পারেন (যদিও শহরের আইনি যুক্তি বেশ শক্ত)।”
এদিকে মামদানি জানান, অনলাইন পোর্টাল চালুর মাধ্যমে ‘৯/১১ হেলথ ওয়াচ’-এর করা মামলা দুটির নিষ্পত্তি হলো। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ইতি ঘটল এবং বাতাসের মান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কিত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্কবাসীদের ওপর এতদিন যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তাও দূর হলো।
আরও নথি প্রকাশ করা হবে?
পোর্টালে নথির এই প্রথম ধাপের প্রকাশটি কেবল শুরু মাত্র বলে জানান ব্যাঙ্কস। তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে এবং নতুন নথি আসার সাথে সাথে জনগণকে জানানো হবে।
নথিগুলো প্রকাশ করাকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়ে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্কবাসীদের ক্ষতিপূরণের জন্য যোগ্যতা প্রমাণ সহজ করার পাশাপাশি আরেকটি বিষয় খুব জরুরি ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে যারা তথ্য পাওয়ার জন্য লড়াই করেছেন, নিউইয়র্ক শহরের অবশেষে তাদের বলা উচিত, “আপনারাই সঠিক ছিলেন। আন্দোলন আর দাবি তোলার সিদ্ধান্ত আপনাদের ভুল ছিল না। এই শহর অবশেষে তার নিজের ভুল শুধরে নিচ্ছে।”