Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

কোরবানি নিয়ে ‘গো-জীবন’-এ মীর মশাররফ কী বলেছিলেন?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৯: ১৩
কোরবানি নিয়ে ‘গো-জীবন’-এ মীর মশাররফ কী বলেছিলেন?

ভারতে ঈদুল আজহায় প্রয়োজনীয় সনদপত্র ছাড়া ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছেন কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, আদালত বলেছে, ইসলাম ধর্মে গরু কোরবানি করা কোনো বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রথা নয়। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ১৩ মে (২০২৬) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়ে দেয়, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর ও মহিষের মতো পশু সুনির্দিষ্ট সনদপত্র ছাড়া জবাই করা যাবে না। ২০১৮ সালে হাইকোর্টের একটি নির্দেশনার আলোকেই রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তিটি জারি করেছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয় মশাররফ হোসেনের ‘গো-জীবন’ শিরোনামের প্রবন্ধের বই। এই বইয়ে তিনি মুসলমানদের গরু জবাইয়ের তীব্র বিরোধিতা করেন। বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তাকে সে সময়ের মুসলিম সমাজের নিন্দার মুখে পড়তে হয়। ‘আখবারে এসলামিয়া’ পত্রিকায় প্রতিবাদ ছাপা হয়, তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি ও মামলা হয়। শুধু তাই নয়, সভা ডেকে তাকে কাফের এবং তার স্ত্রীকে হারাম ঘোষণাও করা হয়েছিল। তাকে ‘তওবা’ করতে চাপ দেওয়া হয়। মশাররফ হোসেন বইটি ছাপা বন্ধ করে দিলে মুসলিম সমাজের ক্ষোভ কমে আসে।

খাদ্য সম্বন্ধে বিধি আছে যে, খাওয়া যাইতে পারে, খাইতেই হইবে, গোমাংস না খাইলে মোসলমানি থাকিবে না, মহাপাপী হইয়া নরক যন্ত্রণা ভোগ করিতে হইবে—এ কথাও কোথাও লিখা নাই।

‘গো-জীবন’ প্রবন্ধে আসলে কী লিখেছিলেন তিনি? লিখেছেন, “শাস্ত্রে একথা লেখা নাই যে গোহাড় কামড়াতেই হইবে, গোমাংস গলাধ করিতেই হইবে, না করিলে নরকে পচিতে হইবে। বরং যাহা অখাদ্য—যথা বরাহ সে বিষয় পবিত্র কোরান শরিফে স্পষ্টভাবে বরাহ নাম উল্লেখে ‘খাইওনা’ লিখা আছে। খাইলে প্রধান নরক ‘জাহান্নাম’, তাহাতেই চিরবাস করিতে হইবে, আর নিস্তার নাই। খাদ্য সম্বন্ধে বিধি আছে যে, খাওয়া যাইতে পারে, খাইতেই হইবে, গোমাংস না খাইলে মোসলমানি থাকিবে না, মহাপাপী হইয়া নরক যন্ত্রণা ভোগ করিতে হইবে—এ কথাও কোথাও লিখা নাই।”

তারপর লিখেছেন, “খাইবার অনেক আছে। ঘোডা খাইতে পারি; –খাইনা। ফড়িং ধরিয়া ঘৃতে ভাজিয়া টপাটপ গিলিতে পারি—শাস্ত্রের কথা,–গিলি না। গোসাপ উদরসাৎ করিতে পারি—বিধি আছে, ভয়ে তাহার নিকটেও যাই না। ছাগলের মধ্যে পাঁঠাও খাদ্য, সে পাঁঠার দিকে তত ঘেষিনা, যে ছাগিতে দুগ্ধ দেয় তাহাকেই ‘আল্লাহ আকবর’ শুনাই। পাঁঠার সঙ্গে একেবারেই যে সম্বন্ধ নাই তাহা বলিতে পারি না। রসনা পরিতৃপ্ত আশ্রয়ে তাহার বংশবৃদ্ধির ক্ষমতা রহিত করিয়া দিয়া দিব্বি মোটাগোটা চব্বিদার জিনিস বানাইয়া কোরমা, কালিয়া, কাবাবে পেট পুরিয়া থাকি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
কোরবানির বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুত ডিএনসিসির ১৬ হাজার কর্মীDNCC

উট এদেশে নাই, থাকিলেও তাহার কাছে যাওয়া যাইত না। কারণ শরীরের গঠন দেখিয়াই পাকস্থলী ঠাণ্ডা হয়। মহিষ খাদ্য, তাহার কাছে ছুরি হাতে করিয়া যায় কে? কাজেই নিরীহ গোজাতির গলায় ছুরি বসাইতে আর এদিক ওদিক চাহি না। এত খাদ্য থাকিতেও কি গো-মাংস না খাইলেই চলে না? ঘোড়া, মহিষ, বনগরু, মেষ, ছাগল, মৃগ, খরগোস সকলি তো চলিতে পারে? এ সকল খাইলেও তো ক্ষুধা নিবৃত্ত হয়। এই থাকিতে গরুর মাংসে জিহ্বার জল পড়ে কেন? ইহার উত্তর কে দিবে?”

হিন্দু মোসলমানে কেহই কাহাকে পরিত্যাগ করিতে পারে না—-পরস্পর কেহই কাহাকে ছাড়িতে পারে না। জগত যত দিন—সম্বন্ধও ততদিন। এমন গুরুতর সম্বন্ধ যাঁহাদের সঙ্গে তাঁহাদের মনে ব্যথা দিতে আমাদের মনে কি একটুক ব্যথা লাগে না?

বঙ্গদেশে কেন গরু কোরবানি দেওয়া উচিত নয়, তার পক্ষে মশাররফ হোসেন আরও একটি যুক্তি উত্থাপন করেন, “এই বঙ্গরাজ্যে হিন্দু-মুসলমান উভয় জাতিই প্রধান। পরস্পর এমন ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যে, ধর্ম্মে ভিন্ন, কিন্তু মর্মে এবং কর্ম্মে এক—সংসার কার্য্যে ভাই না বলিয়া আর থাকিতে পারি না। আপদে বিপদে, সুখে দুঃখে, সম্পদে পরস্পরের সাহায্য ভিন্ন উদ্ধার নাই। সুখ নাই, শেষ নাই, রক্ষার উপায় নাই। এমন ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ যাহাদের সঙ্গে এমন চিরসঙ্গি যাহারা, তাহাদের মনে ব্যথা দিয়া লাভ কি?

ধর্ম্মে আঘাত লাগে না, গোমাংস পরিত্যাগ করিলে ঘরকন্নারও ব্যাঘাত জন্মে না। উন্নতির পথেও কাঁটা পড়ে না। প্রাণের হানিও বোধহয়—হয় না। এ অবস্থায় গো হিংসা পরিত্যাগ করিলে হানি কি?” তিনি আরও বলেছেন, “গোবধে দণ্ড নাই বলিয়া ভ্রাতার মনে মর্মান্তিক আঘাত করিব? আমার মতে একথা কথাই নহে। কালে আমবা রাজাকে পরিত্যাগ কবিতে পারি। রাজাও আমাদিগকে পরিত্যাগ করিতে পাবেন। কিন্তু হিন্দু মোসলমানে কেহই কাহাকে পরিত্যাগ করিতে পারে না—-পরস্পর কেহই কাহাকে ছাড়িতে পারে না। জগত যত দিন—সম্বন্ধও ততদিন। এমন গুরুতর সম্বন্ধ যাঁহাদের সঙ্গে তাঁহাদের মনে ব্যথা দিতে আমাদের মনে কি একটুক ব্যথা লাগে না?”

বিষয়: ধর্ম ও জীবনকোরবানি ঈদগরুকোরবানিপশ্চিমবঙ্গ
সর্বশেষ
  • ১

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ২

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৩

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ৪

    সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক তুললেন কত টাকা

  • ৫

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।