ads

শেখ হাসিনার ‘ফেরা’: জামায়াত বলছে বিএনপির ষড়যন্ত্র, বিএনপি বলছে ভারতের

শেখ হাসিনার ‘ফেরা’: জামায়াত বলছে বিএনপির ষড়যন্ত্র, বিএনপি বলছে ভারতের
জুলাইয়ের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সুদীপ্ত সালাম

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ‘সময়’ জানার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে–এটি কি সত্যিই দেশে ফেরার বাস্তব প্রস্তুতি, নাকি আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে আবারও সক্রিয় করার একটি কৌশল? বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার দেশে ফেরা কতটা সম্ভব? যদি তিনি ফেরেনও, তাহলে সেটি দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে? এসব প্রশ্নের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি দলের নেতাদের নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করতে চান। শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ে দণ্ডিত আসামি।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শেখ হাসিনার দেশে ঘোষণাকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন। কেউ বলছেন, দেশে ফিরলে তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সবকিছু নির্ধারিত হবে। কেউ মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে নতুন করে রাজনৈতিক মান্যতা দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন চেষ্টার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং ষড়যন্ত্রের কথাও এসেছে।

আবার এমনও মত রয়েছে, এই ঘোষণা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

এর আগেও দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। গত ২৮ জুন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে ইমেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সেই বক্তব্য ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। পরে আওয়ামী লীগের কয়েকটি অভ্যন্তরীণ অনলাইন বৈঠকের পর দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ডিসেম্বরে তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

এখন রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সভাপতি ডিসেম্বরে দেশে ফেরার একটা সুনির্দিষ্ট সময়ের কথা বলেছেন। ফলে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই সময়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

বিএনপি বলছে ‘ভারতের প্রেসক্রিপশন’

তবে শেখ হাসিনার পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিচার চলছে। একই সময়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েছে।

যদিও রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে তিনি ফিরছেন না। তার দাবি, তিনি নিজ উদ্যোগেই দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চরচা বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা, স্থায়ী কমিটির দুজন, একজন উপদেষ্টা ও অংগসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিশেষ করে ভারতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা হচ্ছে।

তাদের দাবি, এসব প্রতিবেদনের মধ্যে ভারত সরকারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু গণমাধ্যমও রয়েছে। এ কারণে বিএনপির নেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পেছনে ভারতের কোনো কোনো মহলের ভূমিকা বা উৎসাহ থাকতে পারে।

বিএনপি নেতাদের আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো–ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মতো ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই সময় নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

তাছাড়া শেখ হাসিনার ঘোষণাকে অনেকেই তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনার চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা, দলীয় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং সমর্থকদের মধ্যে আস্থা তৈরির কৌশল হিসেবেও দেখছেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির একজন বর্ষীয়ান নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাতে ভারতের প্রভাব রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতা চরচাকে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান গত দুই বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে আছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তৈরি হওয়া শীতল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের এই ঘোষণাটি থেকে এটাই ধারণা করা যায় যে, এর পেছনে ভারতের হাত রয়েছে। এটা তাদের প্রেসক্রিপশন।”

তার মতে, শেখ হাসিনার দেশের ফেরার বিষয়টি ভবিষ্যতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চরচাকে বলেন, “শেখ হাসিনার অপরাধের বিষয়ে আদালতই সিদ্ধান্ত নেবে। দেশে ফিরবেন কি ফিরবেন না, বা আওয়ামী লীগের নেতারা কী করবেন, সেটি তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। আদালতে সেই বিচার চলছে এবং আইনের ভিত্তিতেই রায় হবে। সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করছে না। আদালত স্বাধীনভাবেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।”

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

শেখ হাসিনার এ বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, “তিনি এখন বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অথচ তার সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক বিচারকের একটি কথোপকথন প্রকাশ হওয়ার পর সেই বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এখন তিনি ন্যায়বিচারের কথা বলছেন…হাস্যকর।”

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান চরচাকে বলেন, “এটা একটা অবাস্তব ঘোষণা। তিনি যদি সত্যি প্রাণের মায়া না করতেন, তাহলে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সাথে বেইমানি করে পালিয়ে যেতেন না। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন শত অবিচারের পরও দেশেই ছিলেন, আর সেটিই ছিল বিএনপির মনোবল। এখন তিনি (হাসিনা) ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে নেতাকর্মীদের চাঙা করতে চান।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘঠিত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হচ্ছে।

এই ট্রাইব্যুনালে একটি মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে গত বছরের ১৭ নভেম্বর। ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সারা দেশে ৬৬৩টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ৪৫৩টি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাই আত্মগোপনে চলে যান। তাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল নেতারাও ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাদের অনেকের ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অন্যদিকে দেশে থাকা আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হন।

গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমানে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা মূলত অনলাইনভিত্তিক। মাঝেমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ঝটিকা মিছিল দেখা গেলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে এগুলোকে সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শনের চেয়ে দলটির অস্তিত্ব জানান দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এবং নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা দেশে ফিরে স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তবে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেখ হাসিনার উল্লেখ করা ডিসেম্বরের সময়সীমাকে দলটির ভেতরে অনেকে প্রতীকী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

তাদের মতে, এই ঘোষণা নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি, আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিকে জোরালো করা এবং হারানো রাজনৈতিক পরিসর পুনরুদ্ধারের কৌশলের অংশও হতে পারে।

ষড়যন্ত্র দেখছেন জামায়াত নেতারা

এদিকে শেখ হাসিনার ঘোষণাকে ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলছেন, এই ঘোষণার পেছনে রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য বা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার চরচাকে বলেন, “শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। শুধু বাইরের নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিরও কেউ কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।”

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন–জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কড়া কথা বলছেন। কিন্তু, নিশ্চিত না হলেও আমরা মনে করি যে, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের অভ্যন্তরের কোনো একটা অংশ এর পেছনে রয়েছে।”

দলীয়ভাবে এই প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না–জানতে চাইলে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আইনের দৃষ্টিতে কোনো মামলার অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান, তাহলে তা তার আইনি অধিকার। সে ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।”

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছেন বিএনপি সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই প্রতিমন্ত্রী চরচাকে বলেন, “জামায়াতের এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। বরং তাদের প্রশ্ন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো গোপন সমঝোতা রয়েছে কি না। জামায়াতের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সুবিধা অনুযায়ী অবস্থান নেওয়ার কারণে দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচিত হয়েছে। তারা কোন ছায়াতলে কী করেছেন…তা সবার জানা।”

জামায়াতের আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, “সরকারের একজন মন্ত্রী ও বিএনপির কয়েকজন নেতা যেভাবে আওয়ামী লীগপ্রীতি দেখান নানান ইঙ্গিতে, তাদের অনেক বক্তব্য পাবলিকলিও এসেছে, এতে একদম নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, এই যে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা এর পেছনে তারাই রয়েছেন।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দলের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চরচাকে বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা (আওয়ামী লীগ) এখন অপাঙক্তেয় হয়ে গেছেন। কখনো বলেন বর্ডারের আশপাশে আছেন, টুপ করে ঢুকে পড়বেন। এগুলো আসলে নেতা-কর্মীদের সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য। উনি আলোচনায় থাকার জন্যই এমন কথা বলেন। যাতে মিডিয়াতে আপনারা (সাংবাদিকরা) একটু কথাবার্তা বলেন, লেখালেখি করেন। তিনি দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন, তার দেশে আসার কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।”

ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি এনসিপির

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তা কেবল তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে আসেন, তাহলে কেবল ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্যই ফিরবেন। আমরাও চাই, শেখ হাসিনাসহ যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের রায় হয়েছে, তা কার্যকর করা হোক।”

নাহিদ ইসলামের দাবি, শেখ হাসিনার এ ধরনের বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা তৈরি করছে।

‘সরকার বিষয়টি আইনের দৃষ্টিতেই দেখছে’

শেখ হাসিনার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকার এবং দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চরচাকে বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে চলমান বিচার প্রক্রিয়া এবং আদালতের সিদ্ধান্তই মূল বিষয়। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে একটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশের গণমাধ্যমগুলো আদালতের নির্দেশনা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান দেখাবে বলেই তিনি আশা করেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সরকার রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে নয়, বরং চলমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা বা অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

জহির উদ্দিন স্বপনের মতে, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের ক্ষেত্রে আইনের সীমারেখাই চূড়ান্ত বিবেচ্য হবে।

সম্পর্কিত