ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এসেছিল আমেরিকার সেনারা। তারপর থেকে ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার মোটামুটি সদ্ভাব বজায় ছিল। কিন্তু এই সম্পর্ক এখন একটা সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের ‘এমএজিএ’ (মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) মতাদর্শের লোকজন তাদের ট্রান্সআটলান্টিক মিত্রদের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে।
একসময় ইউরোপকে কটাক্ষ করা হতো ‘খোলা আকাশের নিচে জাদুঘর’ বলে। আর এখন ইউরোপকে উপহাস করা হচ্ছে ‘অভিবাসী ভরা এক সমাধিক্ষেত্র’ হিসেবে, যা রক্ষার যোগ্যও নয়। আসলে উভয় পক্ষই আগের সেই পুরোনো টান অনুভব করছে না।
ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের অভিযোগ, তাদের একসময়ের সেরা ভূরাজনৈতিক বন্ধু এখন এক ‘অস্থিরচিত্ত নির্বোধের’ কবলে পড়েছে। ইউরোপ অনেক বছর ধরে নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এই মহাদেশ যখন বাস্তবিক সমস্যার মধ্যে নিপতিত, তখন সম্পর্কের অবনতি আমেরিকার চেয়ে ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে আমেরিকারও আরেকটু সতর্ক পদক্ষেপ ফেলা উচিত। ইউরোপ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরিদের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বহুগুণে বাড়াত। কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্পের আচরণের ফলে আমেরিকান শক্তি ইউরোপে প্রতিরোধের মুখে পড়বে।
ইউরোপকে দূরে ঠেলে দেওয়া আমেরিকার স্বার্থবিরোধী- ‘আমেরিকা-ফার্স্ট’ কট্টর সমর্থকদের এটা বোঝানো অরণ্য রোদনের শামিল। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি বছরের শেষে আমেরিকার সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপীয় সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করার হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে আতঙ্কিত ইউরোপীয়রা একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি মেনে নিয়েছে এবং যতদূর সম্ভব আমেরিকাকে তোষামোদও করেছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের বৈরি আচরণ একটা কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, ইউরোপকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। একসময় ফরাসিরা ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এ বিশ্বাসী ছিল। এখন আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস কিংবা নর্ডিক দেশগুলোও এই বুলি আওড়াচ্ছে।
আমেরিকার কাছে ইউরোপ ব্যবসায়িক কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিকভাবে স্থবিরতার মধ্যে আটকে থাকলেও, এর ভোক্তারা প্রতি বছর আমেরিকান কোম্পানির কাছ থেকে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনে। আমেরিকার ব্যবসায়ীদের জন্য ইউরোপ দ্বিতীয় বাড়ির মতো। চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো ধনীর তালিকায় থাকলেও, আপাতত ইউরোপই সবচেয়ে সহজলভ্য বাজার, যেখানে সচ্ছল মানুষজন ২০০ ডলারের নাইকি জুতো বা মাসে ২৫ ডলারের নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশনে টাকা খরচ করতে রাজি। ইউরোপীয়রা আমেরিকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব অপছন্দ করলেও আমেরিকান পণ্য কিনতে থাকবে, তবে আগের স্রোতে কিছুটা ভাটা পড়তে পারে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
বিশেষ করে আমেরিকান প্রযুক্তিখাতের ওপর চাপ বাড়ছে। দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মাইক্রোসফট অফিস ছেড়ে ইউরোপীয় সফটওয়্যার স্যুটে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন ইইউ অ্যান্টিট্রাস্ট আইন ভাঙার জন্য আমেরিকান টেক কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করে, এই ঘটনার জেরে প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে। আমেরিকা যেমন চীনা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তেমনি ইউরোপও ক্রমশ আমেরিকান পণ্য ও সেবা থেকে স্বাধীন হতে চাইছে। কেউ কেউ উদ্বিগ্ন যে আমেরিকান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস- যার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপ- রুশ পাইপলাইনের গ্যাসের মতোই নির্ভরতা তৈরি করছে। আমেরিকান সামরিক সরঞ্জামের সবচেয়ে আগ্রহী ক্রেতাও ইউরোপ। ইউরোপের দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ালেও যতটা সম্ভব নিজেদের উৎপাদিত সরঞ্জামে খরচ করতে চাইছে, আমেরিকা থেকে রপ্তানি করতে নয়।
ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও ইউরোপকে কোণঠাসা করা আমেরিকার জন্য সহজ হবে না। ছোট এই উপদ্বীপটি আমেরিকার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া বা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে ইউরোপকে প্রয়োজন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় কার্যক্রম চালাতে দেয়। নিষেধাজ্ঞা সহজভাবে কার্যকর হয় যখন আটলান্টিকের দুই পাড় একসঙ্গে থাকে। ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য মেনে নিয়ে ইউরোপীয়রা প্রায় বাধ্য হয়েই আমেরিকার বয়কট কার্যকর করে, এমনকি তারা একমত না হলেও। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি এইসব বিষয়কে বাধাগ্রস্থ করতে পারে।
ইউরোপীয়রাই প্রথম বিভিন্ন নতুন জায়গা আবিষ্কার করে বিশ্বায়নের সূচনা করেছিল, এমনকি বর্তমান আমেরিকানদের পুরনো নিবাসও ইউরোপ। সেই ইউরোপই ধীরে ধীরে আমেরিকান আধিপত্যকে মেনে নিয়েছে। ইউরোপ পাশে থাকায় আমেরিকার পছন্দগুলো “পশ্চিমা বিশ্বের” পছন্দে রূপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ- আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এমনকি জাতিসংঘও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইউরো-আমেরিকান যৌথ উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক উদারনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই আমেরিকার প্রভাব বিশ্বের সর্বত্র পৌঁছেছে, অথচ ট্রাম্প নিজেই এখন এই ব্যবস্থার বিরোধী। আমেরিকানরা আজ তা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে না করলেও একদিন তা গুরুত্ব পাবে, আর তখন আমেরিকা আফসোস করতে পারে যে, সে তার বিশ্বস্ত মিত্রকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল।
কারও কারও কাছে ট্রান্সআটলান্টিক মুক্ত বিশ্বের ধারণা সেকেলে মনে হতে পারে। কিন্তু বিংশ শতকে ইউরোপ যদি বৈশ্বিক আধিপত্যের ব্যাটন আমেরিকার হাতে তুলে দিয়ে থাকে, তবে একবিংশ শতাব্দী গড়ে উঠবে আমেরিকা ও চীনের প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে।
ইউরোপ নিশ্চিতভাবেই সম্প্রসারণবাদী স্বৈরতন্ত্রের চেয়ে তাদের গণতান্ত্রিক মিত্রকেই সমর্থন দেবে। কিন্তু ইউরোপের প্রতি আমেরিকার অসহযোগিতামূলক আচরণের ফলে ইউরোপ কতটা আন্তরিকভাবে পক্ষ নেবে–আমেরিকানদের এ কথাটা ভেবে দেখা উচিত।
ইউরোপের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এসেছিল আমেরিকার সেনারা। তারপর থেকে ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার মোটামুটি সদ্ভাব বজায় ছিল। কিন্তু এই সম্পর্ক এখন একটা সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের ‘এমএজিএ’ (মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) মতাদর্শের লোকজন তাদের ট্রান্সআটলান্টিক মিত্রদের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে।
একসময় ইউরোপকে কটাক্ষ করা হতো ‘খোলা আকাশের নিচে জাদুঘর’ বলে। আর এখন ইউরোপকে উপহাস করা হচ্ছে ‘অভিবাসী ভরা এক সমাধিক্ষেত্র’ হিসেবে, যা রক্ষার যোগ্যও নয়। আসলে উভয় পক্ষই আগের সেই পুরোনো টান অনুভব করছে না।
ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের অভিযোগ, তাদের একসময়ের সেরা ভূরাজনৈতিক বন্ধু এখন এক ‘অস্থিরচিত্ত নির্বোধের’ কবলে পড়েছে। ইউরোপ অনেক বছর ধরে নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু এই মহাদেশ যখন বাস্তবিক সমস্যার মধ্যে নিপতিত, তখন সম্পর্কের অবনতি আমেরিকার চেয়ে ইউরোপের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে আমেরিকারও আরেকটু সতর্ক পদক্ষেপ ফেলা উচিত। ইউরোপ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বসূরিদের কর্মকাণ্ড এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বহুগুণে বাড়াত। কিন্তু বর্তমানে ট্রাম্পের আচরণের ফলে আমেরিকান শক্তি ইউরোপে প্রতিরোধের মুখে পড়বে।
ইউরোপকে দূরে ঠেলে দেওয়া আমেরিকার স্বার্থবিরোধী- ‘আমেরিকা-ফার্স্ট’ কট্টর সমর্থকদের এটা বোঝানো অরণ্য রোদনের শামিল। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে মিউনিখে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উসকানিমূলক ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি বছরের শেষে আমেরিকার সর্বশেষ জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে ইউরোপীয় সভ্যতা নিশ্চিহ্ন করার হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে আতঙ্কিত ইউরোপীয়রা একটি অসম বাণিজ্য চুক্তি মেনে নিয়েছে এবং যতদূর সম্ভব আমেরিকাকে তোষামোদও করেছে। কিন্তু ওয়াশিংটনের বৈরি আচরণ একটা কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, ইউরোপকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। একসময় ফরাসিরা ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এ বিশ্বাসী ছিল। এখন আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস কিংবা নর্ডিক দেশগুলোও এই বুলি আওড়াচ্ছে।
আমেরিকার কাছে ইউরোপ ব্যবসায়িক কারণেও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অর্থনৈতিকভাবে স্থবিরতার মধ্যে আটকে থাকলেও, এর ভোক্তারা প্রতি বছর আমেরিকান কোম্পানির কাছ থেকে ৩.৬ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনে। আমেরিকার ব্যবসায়ীদের জন্য ইউরোপ দ্বিতীয় বাড়ির মতো। চীনসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলো ধনীর তালিকায় থাকলেও, আপাতত ইউরোপই সবচেয়ে সহজলভ্য বাজার, যেখানে সচ্ছল মানুষজন ২০০ ডলারের নাইকি জুতো বা মাসে ২৫ ডলারের নেটফ্লিক্স সাবস্ক্রিপশনে টাকা খরচ করতে রাজি। ইউরোপীয়রা আমেরিকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব অপছন্দ করলেও আমেরিকান পণ্য কিনতে থাকবে, তবে আগের স্রোতে কিছুটা ভাটা পড়তে পারে।
ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
বিশেষ করে আমেরিকান প্রযুক্তিখাতের ওপর চাপ বাড়ছে। দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত মাইক্রোসফট অফিস ছেড়ে ইউরোপীয় সফটওয়্যার স্যুটে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন ইইউ অ্যান্টিট্রাস্ট আইন ভাঙার জন্য আমেরিকান টেক কোম্পানিগুলোকে জরিমানা করে, এই ঘটনার জেরে প্রতিষ্ঠানটি কালো তালিকাভুক্ত হতে পারে। আমেরিকা যেমন চীনা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়, তেমনি ইউরোপও ক্রমশ আমেরিকান পণ্য ও সেবা থেকে স্বাধীন হতে চাইছে। কেউ কেউ উদ্বিগ্ন যে আমেরিকান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস- যার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপ- রুশ পাইপলাইনের গ্যাসের মতোই নির্ভরতা তৈরি করছে। আমেরিকান সামরিক সরঞ্জামের সবচেয়ে আগ্রহী ক্রেতাও ইউরোপ। ইউরোপের দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ালেও যতটা সম্ভব নিজেদের উৎপাদিত সরঞ্জামে খরচ করতে চাইছে, আমেরিকা থেকে রপ্তানি করতে নয়।
ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও ইউরোপকে কোণঠাসা করা আমেরিকার জন্য সহজ হবে না। ছোট এই উপদ্বীপটি আমেরিকার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া বা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে ইউরোপকে প্রয়োজন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলো বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় কার্যক্রম চালাতে দেয়। নিষেধাজ্ঞা সহজভাবে কার্যকর হয় যখন আটলান্টিকের দুই পাড় একসঙ্গে থাকে। ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য মেনে নিয়ে ইউরোপীয়রা প্রায় বাধ্য হয়েই আমেরিকার বয়কট কার্যকর করে, এমনকি তারা একমত না হলেও। অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি এইসব বিষয়কে বাধাগ্রস্থ করতে পারে।
ইউরোপীয়রাই প্রথম বিভিন্ন নতুন জায়গা আবিষ্কার করে বিশ্বায়নের সূচনা করেছিল, এমনকি বর্তমান আমেরিকানদের পুরনো নিবাসও ইউরোপ। সেই ইউরোপই ধীরে ধীরে আমেরিকান আধিপত্যকে মেনে নিয়েছে। ইউরোপ পাশে থাকায় আমেরিকার পছন্দগুলো “পশ্চিমা বিশ্বের” পছন্দে রূপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ- আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এমনকি জাতিসংঘও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ইউরো-আমেরিকান যৌথ উদ্যোগ। আন্তর্জাতিক উদারনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই আমেরিকার প্রভাব বিশ্বের সর্বত্র পৌঁছেছে, অথচ ট্রাম্প নিজেই এখন এই ব্যবস্থার বিরোধী। আমেরিকানরা আজ তা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে না করলেও একদিন তা গুরুত্ব পাবে, আর তখন আমেরিকা আফসোস করতে পারে যে, সে তার বিশ্বস্ত মিত্রকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল।
কারও কারও কাছে ট্রান্সআটলান্টিক মুক্ত বিশ্বের ধারণা সেকেলে মনে হতে পারে। কিন্তু বিংশ শতকে ইউরোপ যদি বৈশ্বিক আধিপত্যের ব্যাটন আমেরিকার হাতে তুলে দিয়ে থাকে, তবে একবিংশ শতাব্দী গড়ে উঠবে আমেরিকা ও চীনের প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে।
ইউরোপ নিশ্চিতভাবেই সম্প্রসারণবাদী স্বৈরতন্ত্রের চেয়ে তাদের গণতান্ত্রিক মিত্রকেই সমর্থন দেবে। কিন্তু ইউরোপের প্রতি আমেরিকার অসহযোগিতামূলক আচরণের ফলে ইউরোপ কতটা আন্তরিকভাবে পক্ষ নেবে–আমেরিকানদের এ কথাটা ভেবে দেখা উচিত।