Advertisement Banner

ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন নিয়ে আবারও যা হলো সংসদে

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন নিয়ে আবারও যা হলো সংসদে
জাতীয় সংসদের অধিবেশন। ছবি: বাসস

সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দা দেওয়ার দাবি নিয়ে আবারও আলোচনা হয়েছে সংসদে।

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের ওই প্রস্তাব সংসদকে ‘লজ্জা দেয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা-১ আসনের আন্দালিব রহমান পার্থ।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ওই কথা বলেন আন্দালিব। তার বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় নেতা জাসায়াত আমির শফিকুর রহমান প্রশ্ন রাখেন, “ওনার কাছে চাইছে নাকি?”

আন্দালিভের বক্তব্যের বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক না বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে পার্থ বলেন, “আগামীতে ওনার (মিজানুর রহমান) যদি পর্দা-মাইক্রোওভেন লাগে, তাহলে আমি আমার তরফ থেকে দিতে চাই।”

প্রধানমন্ত্রীকে ওয়াশিং মেশিন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পর্দা কিনে দেওয়ার অনুরোধ করে পার্থ আরও বলেন, “ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম, তারপরও আমাদের সংসদকে উনি বিব্রত না করেন।”

গতকাল বুধবার আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের ফ্ল্যাটে পর্দা, ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার দাবি তুলে ধরেন।

মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা বাজেটের উপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে থাকার জন্য যেটা দেওয়া হয়েছে, তার জানালা-দরজার পর্দাটি এখনো পর্যন্ত ঝোলানো হয়নি। আমরা শুনেছিলাম যে আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেনও দেওয়া হবে। এই পর্দা, মাইক্রোওভেন এবং ওয়াশিং মেশিনগুলো আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

তার ওই বক্তব্য প্রসঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “অনেক কষ্টের পরে আমরা এ সংসদ পেয়েছি। এখানে স্বৈরাচারের দোসর বা ফ্যাসিস্টদের কেউ নেই। গত সংসদ শুধু সংসদীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেনি, সংসদের স্ট্যান্ডার্ডকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। আমরা দেখেছি এখানে মমতাজ থেকে শুরু করে গান হয়েছে, অন্য কিছু হয়েছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে সরাসরি ওই দিকে না গেলেও কিছু জায়গায় আমরা ওই দিকে চলে যাচ্ছি।”

জামায়াতের মিজানুর রহমানের ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন নিয়ে বক্তব্যের পর বিভিন্নজনের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন বলে দাবি করেন পার্থ। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমে প্রতিবেদন লেখা হয়েছে জামায়াত এমপি ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন, পর্দা চেয়েছে। এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি সংসদকে অনেক লজ্জা দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে যেখানে জনগণের কথা বলবেন, সেখানে একজন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে ওয়াশিং মেশিন পেল, না মাইক্রোওভেন পেল, না পর্দা পেল তা নিয়ে কথা বলছে।”

পার্থ বলেন, “আমি খুব সিরিয়াসলি বলছি, তারপরও যদি আমার ভাই, যেহেতু মন্তব্য করেছেন উনি চান, আমি ওনাকে বিব্রত না করে আগামীতে ওনার যদি পর্দা, মাইক্রোওভেন লাগে, তাহলে আমি আমার তরফ থেকে দিতে চাই।”

তবে পার্থের এমন প্রস্তাবকে ‘অসম্মানজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এ বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, “সংসদ সদস্য (মিজানুর রহমান) বাজেট সেশনের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি এটা সংসদে না বললেও হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গর্হিত অপরাধও তিনি করেন নাই।”

সংসদ সচিবালয়ের ‘হাউজ কমিটির’ মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের আবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করা হয় জানিয়ে স্পিকার বলেন, “এ ধরনের বিষয় সেখানে জানানো যেত। তিনি (মিজানুর রহমান) তার নিজের জন্য চাননি, সব সংসদ সদস্যদের জন্যই, যারা সংসদের দেওয়া ভবনে বসবাস করেন, তাদের সম্পর্কে বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত বিতর্ক করলে বাইরে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। এটা তো তাদের (এমপিদের) প্রাপ্য হতে পারে। এমন কোনো বড় জিনিস নয়। সামান্য জিনিস নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চাই না।”

পার্থের বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার আপত্তি

আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের পরে ‘পয়েন্ট অব অর্ডারে’ দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, “একজন সদস্য সবার জন্য চেয়েছেন। আপনি (স্পিকার) ঠিকই বলেছেন, এটা সংসদে না বলে কমিটিতে বললেই হতো।”

পার্থের বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “তিনি (পার্থ) এটাকে সূত্র ধরে গাড়ি-বাড়িসহ সব নিয়ে আসলেন। উনি তো বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, নিজে থেকে অফারও দিয়ে দিলেন, সব দিয়ে দেবেন। ওনার কাছে চেয়েছে নাকি? আমাদের মানসিকতা এমন হওয়া উচিত, এখানে দাঁড়িয়ে কারো সম্মানে আঘাত করব না। আশা করি সবাই এ বিষয়ে যত্নশীল হব।”

সম্পর্কিত