Advertisement Banner

আইসিসিই আমিনুলের শেষ ভরসা?

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
আইসিসিই আমিনুলের শেষ ভরসা?
সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম। ছবি: বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম অধ্যায়ের ইতি ঘটেছে দুই দিন আগে। দায়িত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে তামিম ইকবালকে প্রধান করে গঠিত এডহক কমিটি। তবে যে প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে, সেটা নিয়ে এখনও ক্ষুব্ধ আমিনুল। আইনত নিজেকে এখনও বিসিবি সভাপতি হিসেবেই মনে করছেন তিনি। সে কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নিজের অবস্থান ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য দ্বারস্থ হয়েছেন আইসিসির। আর দেশেও আইনি লড়াইয়ের পথ দেখছেন। যদিও বাস্তবতা বলছে, এ যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানের জয়ের সম্ভাবনা কতটুকু, সেটি নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

গত রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ভেঙে দেয় আমিনুলের বোর্ড কমিটি। বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের বিরুদ্ধে করা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় এনএসসি। সেদিনই তামিমের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে। এর আগেই একপ্রকার নীরবেই বিসিবি অফিস ত্যাগ করেন আমিনুলসহ তার পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

সেদিন রাতে তাই আমিনুলের নিজের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ছিল না বিসিবির প্যাডে। সাদা কাগজে লেখা সেই বিজ্ঞপ্তিতে তিন বার নিজেকে বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি দাবি করে এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনকেও অসাংবিধানিক উল্লেখ করেন। সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে তামিমের বোর্ডকে আইনি স্বীকৃতি না দিতে তাই আহ্বান জানান আইসিসিকে।

এরপর কেটে গেছে দুই দিন। আমিনুল কোনো সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেননি এ সময়ে। চরচা’র পক্ষ থেকে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাতে সাড়া দেননি তিনি। গুঞ্জন রয়েছে, আইসিসিতে সম্ভাব্য সব উপায়ে নিজের অবস্থান জানানোর চেষ্টা করছেন তিনি। আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অবশ্য আমিনুলের ব্যাপারে ইতিবাচক নন।

তার প্রমাণও মিলেছে আইসিসির এক পরিচালকের কথায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক বলেছেন, “এটা বিস্ময়কর! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই একই সভাপতি সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশের সরকারের নির্দেশের কথা বলেছিলেন, যা কিনা ছিল আইসিসির সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাধ্যতামূলক ‘মেম্বার্স পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর বিরুদ্ধ কাজ। আবার সেই ব্যক্তিই এখন তাঁর দেশের সরকারের তদন্ত ও নির্দেশনা থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় আইসিসির আশ্রয় চাচ্ছেন।”

বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল

আইসিসির একজন পরিচালকের এই বক্তব্যই বলে দিচ্ছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করা নিয়ে আমিনুলের সেই সময়ের ভূমিকায় তারা বিরক্ত। বিশেষ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যেভাবে আইসিসিকে বেকায়দায় ফেলেছিলেন তিনি, তাতে নাখোশ আইসিসি। ফলে তাদের কাছে বিচার চেয়ে কতটা ফল পাবেন তিনি, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তবে আমিনুল যদি চান, তিনি নিয়ম মেনেই আইসিসির কাছে নালিশ করতে পারবেন। কারণ আইসিসির গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ক্রিকেট বোর্ডকে স্বায়ত্তশাসিতভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিতে হবে। ক্রিকেট খেলুড়ে দেশে ক্রিকেটের প্রশাসনে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

এ ক্ষেত্রে আমিনুল চাইলে তিন বছর আগের শ্রীলঙ্কার উদাহরণও টানতে পারেন। ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কা সরকার দেশটির ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছিল। এরপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগে আইসিসি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে।

তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সে তুলনায় ভিন্ন। এডহক কমিটি গঠনের আগেই আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবহিত করেছে এনএসসি। পাশাপাশি তারা এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যেই এই কমিটি নির্বাচন আয়োজন করবে। ফলে আইসিসি কোনো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে আগ্রহী নয়।

আমিনুল অবশ্য হাল ছাড়ছেন না। তার বোর্ডের একজন প্রভাবশালী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচা’কে বলেছেন, “আমরা বুঝতেই পারছি না তারা কীভাবে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করে এমন একটা কাজ করে ফেলল। তদন্ত প্রতিবেদন আইসিসির কাছে পাঠিয়েই তারা বোর্ড ভেঙে দিল। নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে এনএসসিকে অবশ্যই একটা চিঠি দিতে হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমরা এমন কোনো চিঠি পাইনি। এমনকি আইসিসিও তাদের পাঠানো চিঠির জবাব দেয়নি। আপনারা তদন্ত করলেই সব অনিয়মের খোঁজ পাবেন। আমিনুল ভাই অবশ্যই আইনি লড়াইয়ে নামবেন।”

বিসিবি থেকে ‘বিতাড়িত’ হওয়া আমিনুলের সামনে পথ খোলা ছিল দুটি। তার মধ্যে সাবেক কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও আইসিসির দুয়ার তার জন্য প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে। ফলে একমাত্র আশা হাইকোর্টে রিট করা। আমিনুল কি আইনি লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জটা নিতে চাইবেন?

সম্পর্কিত