Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব

মৃত্যু ও ঋণ নিয়ে আতঙ্কে দক্ষিণ এশিয়া

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৮: ৩১
মৃত্যু ও ঋণ নিয়ে আতঙ্কে দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর তেহরানের পাল্টা হামলার এক সপ্তাহ পরও উদ্বেগে ছিলেন ভারতের ওডিশা রাজ্যের নৈকানিপল্লি গ্রামের জয়া খুন্তিয়া। ৬ মার্চ রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি কাতারের দোহায় কর্মরত ছেলে কুনা খুন্তিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বাবার উদ্বেগ দূর করতে কুনা বলেছিলেন, “আমি এখানে নিরাপদ আছি, চিন্তা করো না।”

কিন্তু সেই আশ্বাসের মাত্র একদিন পরই আসে দুঃসংবাদ। পরদিন কুনার সহকর্মী ফোন করে পরিবারকে জানান, বাসার কাছাকাছি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের সময় বিস্ফোরণের শব্দ ও ধ্বংসাবশেষ পড়ার আওয়াজ শুনে কুনা আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাকে করেন। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। কয়েকদিন পর তার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজধানীতে পাইপ ফিটার হিসেবে কাজ করা ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের পরিবার দক্ষিণ এশিয়ার সেই লাখো মানুষের একটি, যারা মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত আটজনের মধ্যে দুজন আমিরাতের সামরিক সদস্য, একজন ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক এবং বাকি পাঁচজন দক্ষিণ এশিয়ার—তিনজন পাকিস্তানি এবং একজন করে বাংলাদেশি ও নেপালি। ওমানে নিহত তিনজনই ভারতীয়। সৌদি আরবে নিহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় ও একজন বাংলাদেশি নাগরিক।

আল জাজিরা বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ দক্ষিণ এশীয় শ্রমিক কাজ করেন, যা ওই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। পরিবারের কাছে তাদের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খুন্তিয়া পরিবার ২০২৫ সালে দুই মেয়ের বিয়ের জন্য প্রায় ৩ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে দোহায় কাজ শুরু করা কুনার মাসিক আয় ছিল প্রায় ৩৫ হাজার রুপি। তিনি প্রতি মাসে বাড়িতে পাঠাতেন প্রায় ১৫ হাজার রুপি।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা। ছবি: রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমিকরা। ছবি: রয়টার্স

জয়া খুন্তিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম আমাদের কষ্টের দিন শেষ হচ্ছে। আমার একমাত্র ছেলে বলত, বাবা চিন্তা করো না, আমি আছি। সে ছিল আমাদের সব আশা। এখন সেই আশা শেষ হয়ে গেছে। একটি ফোনকলেই সব শেষ হয়ে গেল।”

কুনার মা বলেন, “সে বলেছিল ঋণ শোধ করে দেশে ফিরবে। কিন্তু সে ফিরল কফিনে করে। আমাদের আর কিছুই রইল না।”

বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই ছয়টি উপসাগরীয় দেশে মোট ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখই বিদেশি নাগরিক।

এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৯০ লাখ ভারতীয়, ৫০ লাখ পাকিস্তানি, ৫০ লাখ বাংলাদেশি, ১২ লাখ নেপালি এবং প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার শ্রীলঙ্কান। তাদের অধিকাংশই নির্মাণ, তেল-গ্যাস ও সেবাখাতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর এই শ্রমিকরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছেন। কারণ তেল শোধনাগার, নির্মাণ এলাকা, বিমানবন্দর ও বন্দরসহ যেসব জায়গায় তারা কাজ করেন, সেগুলোই বেশিরভাগ সময় হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি তেল সংরক্ষণ কেন্দ্রে কাজ করা পাকিস্তানি শ্রমিক হামজা বলেন, এক হামলার অভিজ্ঞতা তিনি কখনও ভুলতে পারবেন না। তিনি বলেন, “একটি ড্রোন আমাদের সামনে থাকা স্টোরেজ ইউনিটে আঘাত করে। আমরা সবাই ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আমাদের বেশিরভাগই ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মানুষ।”

হামজা আরও বলেন, “ওই ঘটনার পর আমরা কয়েকরাত ঘুমাতে পারিনি। ড্রোনটি এত কাছ দিয়ে আঘাত করেছিল যে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল এবার আমাদের পালা।”

এ ঘটনার পরও তারা দেশে ফিরে না যেতে পারার আক্ষেপ নিয়ে হামজা বলেন, “আমরা ফিরতে চাই, কিন্তু পারি না। আমাদের পরিবারের সবকিছু আমাদের আয়ের ওপর নির্ভর করে। কাজ বন্ধ করলে তারা খেতে পাবে না।”

নয়াদিল্লি ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অভিবাসন অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা শিক্ষক ইমরান খান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী শ্রমিকরা প্রায়ই চরম প্রয়োজনের তাড়নায় মধ্যপ্রাচ্যে কাজ নিতে বাধ্য হন।

ইমরান বলেন, “যুদ্ধ হোক বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সংকটের সময় এসব শ্রমিকই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। আমি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিশেষ করে ভারতীয় অনেক অভিবাসী শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলেছি, এবং সংঘাত শুরুর পর থেকে তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন।” তবে হামজার মতো বেশিরভাগ শ্রমিকেরই দেশে ফেরার সামর্থ্য নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতি

ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল—এই পাঁচটি দক্ষিণ এশীয় দেশের জন্য মধ্যপ্রাচ্য একটি বড় রেমিট্যান্সের উৎস। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই দেশগুলোতে বছরে প্রায় ১০৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স যায়।

শুধু উপসাগরীয় অঞ্চল থেকেই ভারত পায় প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার, পাকিস্তান ৩৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন, বাংলাদেশ ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন, শ্রীলঙ্কা ৮ বিলিয়ন এবং নেপাল ৫ বিলিয়ন ডলার।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে এই অর্থপ্রবাহ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

Iran attack
বাহরাইনে ইরানের ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ফয়সাল আব্বাস বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্স দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। পরিস্থিতি খারাপ হলে এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে পড়বে।”

তার মতে, এতে শুধু রেমিট্যান্স নয়, অভিবাসনের ধরনও বদলে যেতে পারে। তিনি বলেন, “অনেক শ্রমিক দেশে ফিরে যেতে পারেন, আবার যারা বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তারা সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় বেকারত্ব আরও বাড়তে পারে।”

অনেকেই দেশে ফেরার কথা ভাবছেন

বাংলাদেশি শ্রমিক নূর সৌদি আরবের একটি তেল স্থাপনায় কাজ করেন। সাম্প্রতিক হামলার পর তিনি আর নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না। তিনি বলেন, “আমার চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই দেশে ফিরে যাব। আমি আর কখনো এখানে আসব না। এখানে খুব ভয় লাগে।”

তার কর্মস্থলের কাছেই ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানান নূর। তিনি বলেন, “আমরা চোখের সামনে সেটা দেখেছি। সেই ভয়টা আর যায় না।”

নূরের পরিবারও আতঙ্কে আছে। তিনি বলেন, “ফোন করলে আমার বাচ্চারা কাঁদে। তারা ভয় পায় আমার কিছু হয়ে যাবে।”

দেশে ফিরলে পরিবারের আর্থিক কষ্ট বাড়বে—এটা তিনি জানেন। তবুও তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। নূর বলেন, “কষ্ট করে হলেও পরিবারের সঙ্গে দেশে থাকব, অন্তত তখন তাদের পাশে তো থাকতে পারব।”

বিষয়: বাংলাদেশহামলাইরানইরান-ইসরায়েল সংঘাতমধ্যপ্রাচ্যক্ষেপণাস্ত্রআতঙ্কভারতএশিয়া
সর্বশেষ
  • ১

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ২

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৩

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৪

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৫

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড