মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমশ এমন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামরিক শক্তির প্রদর্শন আর বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ফারাক এখন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুতে যতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। একদিনেই একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া, হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদের ক্ষতি– এসবই দেখিয়ে দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা ঘোষিত সাফল্যের গল্পের সঙ্গে মিলছে না।
উপরের কথাগুলো লিখেছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক ডন-এর সাবেক সম্পাদক আব্বাস নাসির। ডনে লেখা তার সর্বশেষ কলামে আব্বাস নাসির লিখছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কতটা গভীর–তা বোঝা যায় হোয়াইট হাউসের ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক থেকে। যুদ্ধের শুরুতে যে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের আকাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে–তা এখন প্রশ্নের মুখে। একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া, এ-১০ এবং এফ-১৬ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এমনকি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ছোট অস্ত্রের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া–এই ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে একটি যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটের ভাগ্য। তাকে উদ্ধার করা গেছে কি না, নাকি ইরানের হাতে বন্দি হয়েছেন–এই প্রশ্নই এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আজ যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ওই পাইলটকে উদ্ধার করে তারা নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
তবে বাস্তবতা বলছে, সংঘাত কমার সম্ভাবনা কম। কারণ এই যুদ্ধের পেছনে শুধু সামরিক হিসাব নয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপও কাজ করছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাব এবং তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এই যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে–এমন ধারণা বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল। যদি এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এক বিস্তৃত অস্থিরতার অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
ছবি: এআই দিয়ে বানানো
নাসির আব্বাস লিখেছেন, এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ধারাবাহিক আঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশটি এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অন্তত অর্ধেক সামরিক সক্ষমতা এখনো অক্ষত। এর অর্থ, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরান পাল্টা আঘাত চালিয়ে যেতে সক্ষম থাকবে।
এখানেই যুদ্ধের মূল দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এক জিনিস, আর স্থলযুদ্ধে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে অবকাঠামো ধ্বংস করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু স্থলযুদ্ধে প্রবেশ মানে সরাসরি প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়া। ইতিহাস বলছে, এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের খরচ শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ‘বডি ব্যাগ’ ফিরে আসার বিষয়টি জনমতকে দ্রুত প্রভাবিত করে।
এই যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো–শাসন পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা–এখন পর্যন্ত কোনোটিই অর্জিত হয়নি। বরং বাস্তবতা উল্টো দিকেই যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান এখনো তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক ধরে রেখেছে, হরমুজ প্রণালির প্রশ্নে উত্তেজনা কমেনি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কিছু দেশ ইরানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কূটনৈতিক জটিলতা। পাকিস্তানসহ কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও, ইরানের নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা সেই প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে। শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেই আক্রমণ–এই অভিজ্ঞতা ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। ফলে নতুন কোনো আলোচনার উদ্যোগ এলেও তা সহজে গ্রহণযোগ্য হবে না।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধটি ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় নয়, এবং দীর্ঘায়িত হলে তা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সামনে দ্বৈত সংকট–একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চাপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা।
সব মিলিয়ে, এই সংঘাত এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে ‘দ্রুত বিজয়’-এর ধারণা ভেঙে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যদি এই যুদ্ধ সত্যিই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু সামরিক পরাজয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। একটি ব্যর্থ যুদ্ধ প্রায়ই একটি বৃহত্তর বিশৃঙ্খলার সূচনা করে। এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনাকেই ক্রমশ বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেছে।
ছবি: এআই দিয়ে বানানো
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমশ এমন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামরিক শক্তির প্রদর্শন আর বাস্তব ফলাফলের মধ্যে ফারাক এখন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুতে যতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই আত্মবিশ্বাসে বড় ধরনের ফাটল ধরিয়েছে। একদিনেই একাধিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়া, হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদের ক্ষতি– এসবই দেখিয়ে দিচ্ছে যে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা ঘোষিত সাফল্যের গল্পের সঙ্গে মিলছে না।
উপরের কথাগুলো লিখেছেন পাকিস্তানের বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক ডন-এর সাবেক সম্পাদক আব্বাস নাসির। ডনে লেখা তার সর্বশেষ কলামে আব্বাস নাসির লিখছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কতটা গভীর–তা বোঝা যায় হোয়াইট হাউসের ‘মিডিয়া ব্ল্যাকআউট’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি বৈঠক থেকে। যুদ্ধের শুরুতে যে দাবি করা হয়েছিল, ইরানের আকাশ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে–তা এখন প্রশ্নের মুখে। একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া, এ-১০ এবং এফ-১৬ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, এমনকি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ছোট অস্ত্রের গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া–এই ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ ক্ষমতা অবমূল্যায়ন করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে একটি যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটের ভাগ্য। তাকে উদ্ধার করা গেছে কি না, নাকি ইরানের হাতে বন্দি হয়েছেন–এই প্রশ্নই এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আজ যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ওই পাইলটকে উদ্ধার করে তারা নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
তবে বাস্তবতা বলছে, সংঘাত কমার সম্ভাবনা কম। কারণ এই যুদ্ধের পেছনে শুধু সামরিক হিসাব নয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপও কাজ করছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাব এবং তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এই যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার দিকে ঠেলে দিচ্ছে–এমন ধারণা বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল। যদি এই সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই এক বিস্তৃত অস্থিরতার অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
ছবি: এআই দিয়ে বানানো
নাসির আব্বাস লিখেছেন, এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, ধারাবাহিক আঘাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দেশটি এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রেখেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অন্তত অর্ধেক সামরিক সক্ষমতা এখনো অক্ষত। এর অর্থ, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইরান পাল্টা আঘাত চালিয়ে যেতে সক্ষম থাকবে।
এখানেই যুদ্ধের মূল দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা এক জিনিস, আর স্থলযুদ্ধে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা। আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে অবকাঠামো ধ্বংস করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু স্থলযুদ্ধে প্রবেশ মানে সরাসরি প্রতিরোধের মুখোমুখি হওয়া। ইতিহাস বলছে, এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের খরচ শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানবিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ‘বডি ব্যাগ’ ফিরে আসার বিষয়টি জনমতকে দ্রুত প্রভাবিত করে।
এই যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো–শাসন পরিবর্তন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা–এখন পর্যন্ত কোনোটিই অর্জিত হয়নি। বরং বাস্তবতা উল্টো দিকেই যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরান এখনো তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্ক ধরে রেখেছে, হরমুজ প্রণালির প্রশ্নে উত্তেজনা কমেনি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কিছু দেশ ইরানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তুলছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কূটনৈতিক জটিলতা। পাকিস্তানসহ কিছু দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও, ইরানের নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা সেই প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে। শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হলেই আক্রমণ–এই অভিজ্ঞতা ইরানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস তৈরি করেছে। ফলে নতুন কোনো আলোচনার উদ্যোগ এলেও তা সহজে গ্রহণযোগ্য হবে না।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। যুদ্ধটি ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় নয়, এবং দীর্ঘায়িত হলে তা নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সামনে দ্বৈত সংকট–একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চাপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা।
সব মিলিয়ে, এই সংঘাত এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে ‘দ্রুত বিজয়’-এর ধারণা ভেঙে পড়ে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। যদি এই যুদ্ধ সত্যিই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু সামরিক পরাজয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। একটি ব্যর্থ যুদ্ধ প্রায়ই একটি বৃহত্তর বিশৃঙ্খলার সূচনা করে। এবং বর্তমান পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনাকেই ক্রমশ বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেছে।