Advertisement Banner

ট্রাম্প কি ইরানে পারমাণবিক বোমা ফেলবেন?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ট্রাম্প কি ইরানে পারমাণবিক বোমা ফেলবেন?
ছবি: এআই দিয়ে বানানো

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্য বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে। আজ রাতেই ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

এই পোস্টের পরই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্প কি তাহলে ইরানে পরমাণু অস্ত্র ফেলার ব্যাপারে ভাবছেন? কেননা স্বাভাবিকভাবে, এক রাতে ইরানকে ধ্বংস করতে হলে পরমাণু অস্ত্রই ব্যবহার করতে হবে। যদিও পোস্টে এ ব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প।

তবে এই হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক এবং লেখক ওয়েন জোন্স। ট্রাম্পের পোস্টটি শেয়ার করে তিনি এক্সে লেখেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিচ্ছেন। আমাদের মানবজাতিকে এমন বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে তাকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণ করা প্রয়োজন। তা না হলে এই বিপর্যয় থেকে আমরা আর কখনোই সেরে উঠতে পারব না।”

এর আগে ট্রাম্প ইরানকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “ইরানের হাতে সময় নেই। তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।”

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি ফক্স নিউজের জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কলামিস্ট মার্ক লেভিন এক আলোচনায় যুক্তি দেন যে, ইরানে স্থল অভিযানের মাধ্যমে হাজার হাজার মার্কিন সেনার জীবন বিপন্ন করার চেয়ে ‘অন্য বিকল্প’ ভাবা প্রয়োজন। তিনি ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মার্কিন পারমাণবিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান যেভাবে মার্কিন সেনাদের জীবন বাঁচাতে ওই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও তেমন কঠোর চিন্তার অবকাশ রয়েছে।

লেভিনের মতে, ইরানের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার পর সেখানে জাপান বা জার্মানির মতো একটি নতুন শাসনব্যবস্থা বা সংবিধান তৈরির পরিকল্পনা এখন থেকেই করা উচিত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লিখেছেন, “আমরা যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানি সরকারকে ধ্বংস করে তাদের সংবিধান লিখেছিলাম, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং শীর্ষ নেতৃত্ব ধ্বংস হওয়ার পর কী ঘটবে, তা নিয়ে আমাদের গভীরভাবে ভাবা উচিত।”

২০২৬ সালের শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে করমুক্ত হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারির পর এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাব আল মানদেব প্রণালিতেও ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিতি ইয়েমেনের হুতিরা অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। এই হুমকি কিন্তু আগেই ইরানের ঊর্ধ্বতনদের তরফ থেকে এসেছিল। ফলে বাণিজ্যতরির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পথ নিয়ে মার্কিন ও ইউরোপীয় সংশয় আরও বেড়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকি এবং সর্বশেষ অবস্থান পারমাণবিক হামলার বিষয়ে এক ধরনের গুঞ্জন তৈরি করেছে।

সম্পর্কিত