তরুণ চক্রবর্তী

দুই বাংলাতেই আরও বেশি নজরুলচর্চা সময়ের দাবি
বাংলাদেশে ২৫ মে, সোমবার জাতীয় কাজি নজরুল ইসলামের জন্মদিন হিসাবে পালিত হলেও ভারতে বিদ্রোহী কবির জন্মদিন পালিত হচ্ছে মঙ্গলবার, ২৬ মে। কারণ ভারতের বাংলা ক্যালেন্ডার মতে, ১১ জ্যৈষ্ঠ হচ্ছে ২৬ মে। তারিখ ভিন্ন হলেও নজরুল জয়ন্তী পালনে উৎসাহ ও উদ্দীপনা অভিন্ন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক কাজি নজরুল ইসলামকে অগণিত বাঙালি ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমান্ত ভুলে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই পালন করেন দিনটি। তার অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী ও উপনিবেশবিরোধী দর্শন দুই প্রতিবেশী দেশের মানুষের মধ্যে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে খুবই প্রাসঙ্গিক এবং নজরুলচর্চা আজকের অস্থির সময়ে খুবই জরুরি। লামের জন্মদিন হিসাবে পালিত হলেও ভারতে বিদ্রোহী কবির জন্মদিন পালিত হচ্ছে মঙ্গলবার, ২৬ মে। কারণ ভারতের বাংলা ক্যালেন্ডার মতে, ১১ জ্যৈষ্ঠ হচ্ছে ২৬ মে। তারিখ ভিন্ন হলেও নজরুল জয়ন্তী পালনে উৎসাহ ও উদ্দীপনা অভিন্ন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক কাজি নজরুল ইসলামকে অগণিত বাঙালি ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমান্ত ভুলে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই পালন করেন দিনটি। তার অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী ও উপনিবেশবিরোধী দর্শন দুই প্রতিবেশী দেশের মানুষের মধ্যে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে খুবই প্রাসঙ্গিক এবং নজরুলচর্চা আজকের অস্থির সময়ে খুবই জরুরি।
জন্মসূত্রে নজরুল ভারতীয়। অবিভক্ত বাংলায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে বাঙালি মুসলমান পরিবারে তার জন্ম। কিন্তু তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে। মৃত্যুর আগেই তাকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। বাঙালির তিনি প্রাণের কবি। তাকে জাতীয় কবি হিসাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। তার গান আজও মানুষকে উজ্জীবিত করে দুপারেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আজও বিদ্রোহের আগুন জ্বালে তার অমর সৃষ্টি, ‘নাচে ঐ কাল বোশেখী/ কাটাবি কাল বোসে কী/ দে রে দেখি ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি/ লাথি মার ভাঙ রে তালা/ যত সব বন্দীশালায়’...।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথার্থই বলেছেন, “কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা। একটি অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে; তথা সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।” তার ঘোষণা ২৫ মে থেকে টানা এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ পালিত হবে বাংলাদেশে। নজরুল সম্পর্কে তারেক রহমান আরও বলেছেন, “তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ।”
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বাঙালি অধ্যুষিত একাধিক রাজ্যেও পালিত বেশ ঘটা করে পালিত হচ্ছে নজরুল জয়ন্তী। কবির জন্মভিটে বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতাতেও পালিত হয় দিনটি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নজরুল জয়ন্তীতে বিদ্রোহী কবির প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মাণিক সাহা থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রীরাও দিনটিতে স্মরণ করেন বাঙালির চেতনার কবিকে। আসামেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে দিনটি।ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বাঙালি অধ্যুষিত একাধিক রাজ্যেও পালিত বেশ ঘটা করে পালিত হচ্ছে নজরুল জয়ন্তী। কবির জন্মভিটে বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতাতেও পালিত হয় দিনটি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নজরুল জয়ন্তীতে বিদ্রোহী কবির প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মাণিক সাহা থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রীরাও দিনটিতে স্মরণ করেন বাঙালির চেতনার কবিকে। আসামেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে দিনটি।
এই অস্থির সময়ে অসীমান্তিক নজরুল চর্চা জরুরি। কারণ তার সাহিত্য ও দর্শন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাহক। দিকে দিকে মৌলবাদ যেভাবে মাথাচড়া দিচ্ছে তার বিরুদ্ধে নজরুল ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে মানবমুক্তির জয়গান গেয়েছেন। তার শ্যামাসঙ্গীত ও ইসলামি গজল উভয়ই দুই এই উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা দুই দেশের নাগরিক ও সমাজকে পরমতসহিষ্ণু হতে শেখায় এবং উগ্রবাদ মোকাবিলায় সাহায্য করে।
নজরুলচর্চাকে হাতিয়ার করেই পদ্মা ও গঙ্গাপারের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারেন। অতীতে বহু অনুষ্ঠান হয়েছে দুই বাংলার সংস্কৃতী কর্মীদের নিয়ে। আগামী দিনেও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও আত্মিক করতে বড় ভূমিকা নিতে পারেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
নজরুলকে কোনও এক দেশের রাজনৈতিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না। তার কবিতা, গান ও দর্শন দুই দেশের শিল্পীদের সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে নজরুল চর্চার মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষ একে অপরের আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ পেতে পারেন। তার ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও চেতনা দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।নজরুলকে কোনও এক দেশের রাজনৈতিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না। তার কবিতা, গান ও দর্শন দুই দেশের শিল্পীদের সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে নজরুল চর্চার মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষ একে অপরের আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ পেতে পারেন। তার ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও চেতনা দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।
অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের শরিক ছিলেন নজরুল। ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও দেশের প্রতি তার দেশপ্রেমে কোনও খামতি ছিল না। তার সাহিত্যকর্ম প্রকৃত মানবতাবাদের দলিল এবং অন্যায়ের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। শৈশবে ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েও তিনি আগলে ধরেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতাকে। ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধতা বোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা তার অমর সৃষ্টিতে আমরা উপলব্ধি করি। তার এই দর্শনেই সমৃদ্ধ হয়েছে ৪,০০০ গানের সুর ও সঙ্গীত, তিনটি উপন্যাস, উনিশটি ছোটগল্প এবং পাঁচটি প্রবন্ধ। ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে তিনি গর্জে উঠেছিলেন, ‘এ দেশ ছাড়বি কিনা বল/ নইলে কিলের চোটে হাড় করিব জল।’
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজি নজরুল ইসলামকে ঢাকায় নিয়ে আসে। অসুস্থ কবির বাংলাদেশ সফর নিয়ে আপত্তি করেনি ভারত সরকার। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। সেই বছরেই ২৯ আগস্ট কবি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। কিন্তু কবি অমর তার সৃষ্টিতে। তাই আজও বাঙালির হৃদয়ে বাজে, ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,/ অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ, ভূমে রণিবে না…’।
নজরুল নিজেই নিজের সম্পর্কে লিখে গিয়েছেন, ‘কেউ বলেন আমার বানী যবন কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি’। তার অভিধানে হিন্দু বা মুসলমানের কোনো বিভেদ ছিল না। তিনি নিজের সৃষ্টি সুখের উল্লাসে সকলকে একই বৃন্তে বাঁধার চেষ্টা করেছেন। তাই তো তার শ্যামা সঙ্গীত হিন্দুদেরও মনের কথা বলে।
ব্রিটিশ ভারতে তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা তথা স্বরাজ অর্জনে বিশ্বাস করতেন। তবে ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনেও তাকে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। হিন্দু ও মুসলমানদের সম্মিলিত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন নজরুল।
তিনি লিখেছিলেন, ‘অন্তরলোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধুপসুবাসে / সব কিছু মোর পুড়ে কবে চিরতরে ভষ্ম হবে, মার ললাটে আঁকব তিলক সেই ভষ্মবিভূতিতে’। কবি বিয়ে করেছিলেন কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর কন্যা প্রমীলা দেবীকে। এর আগে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের বোন নার্গিস আসার খানমের সঙ্গে তার বিয়ে হলেও সেই বিয়ে টেকেনি। কিন্তু প্রমীলা দেবী আমৃত্যু কবিকে আগলে রেখেছিলেন।
নজরুল দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। কবির জন্মস্থানের কাছের শহর আসানসোলে ২০১২ সালে স্থাপিত হয়েছে ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’। দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নামও রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহরে ঢোকার মূল রাস্তাটির নাম রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম সরণি’। কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের ‘কবি নজরুল’। পরাধীন ভারতে, ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ নজরুলকে প্রদান করে।। ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়।নজরুল দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। কবির জন্মস্থানের কাছের শহর আসানসোলে ২০১২ সালে স্থাপিত হয়েছে ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’। দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নামও রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহরে ঢোকার মূল রাস্তাটির নাম রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম সরণি’। কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের ‘কবি নজরুল’। পরাধীন ভারতে, ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ নজরুলকে প্রদান করে।। ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়।
নজরুল লিখেছিলেন, ‘এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল,/ এক সে মায়ের বক্ষে ফলে একই ফুল ও ফল।/ এক সে দেশের মাটিতে পাই/ কেউ গোরে কেউ শ্মশানে ঠাঁই/ এক ভাষাতে মাকে ডাকি, এক সুরে গাই গান’॥ তাই তিনিই পারেন দেশকালের গন্ডি ডিঙিয়ে, সীমান্তের প্রহরীদের কড়া শাসন উপেক্ষা করে দুই দেশের মানুষকে ফের একাত্ম করে তুলতে। বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবপ্রেমের জয়গানে বাঙালি চিরকাল সমৃদ্ধ। সেই সমৃদ্ধিকে আরও সুসংগত করতে হাতিয়ার হোক হৃদয়ের কবি রবি ঠাকুরের ‘সঞ্চয়িতা’ এবং চেতনার কবি নজরুলের ‘সঞ্চিতা’। দুই কবির স্মৃতি বিজরিত দুই বাংলার বহু তীর্থক্ষেত্রের হাত ধরে পর্যটন শিল্পও হতে পারে বিকশিত। আরও দৃঢ হতে পারে বাঙালিয়ানার অগ্রযাত্রী। সার্বিক পূর্ণতা পেতে পারে বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক আত্মীয়তা।

দুই বাংলাতেই আরও বেশি নজরুলচর্চা সময়ের দাবি
বাংলাদেশে ২৫ মে, সোমবার জাতীয় কাজি নজরুল ইসলামের জন্মদিন হিসাবে পালিত হলেও ভারতে বিদ্রোহী কবির জন্মদিন পালিত হচ্ছে মঙ্গলবার, ২৬ মে। কারণ ভারতের বাংলা ক্যালেন্ডার মতে, ১১ জ্যৈষ্ঠ হচ্ছে ২৬ মে। তারিখ ভিন্ন হলেও নজরুল জয়ন্তী পালনে উৎসাহ ও উদ্দীপনা অভিন্ন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক কাজি নজরুল ইসলামকে অগণিত বাঙালি ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমান্ত ভুলে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই পালন করেন দিনটি। তার অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী ও উপনিবেশবিরোধী দর্শন দুই প্রতিবেশী দেশের মানুষের মধ্যে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে খুবই প্রাসঙ্গিক এবং নজরুলচর্চা আজকের অস্থির সময়ে খুবই জরুরি। লামের জন্মদিন হিসাবে পালিত হলেও ভারতে বিদ্রোহী কবির জন্মদিন পালিত হচ্ছে মঙ্গলবার, ২৬ মে। কারণ ভারতের বাংলা ক্যালেন্ডার মতে, ১১ জ্যৈষ্ঠ হচ্ছে ২৬ মে। তারিখ ভিন্ন হলেও নজরুল জয়ন্তী পালনে উৎসাহ ও উদ্দীপনা অভিন্ন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক কাজি নজরুল ইসলামকে অগণিত বাঙালি ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমান্ত ভুলে শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি বছরই পালন করেন দিনটি। তার অসাম্প্রদায়িক, সাম্যবাদী ও উপনিবেশবিরোধী দর্শন দুই প্রতিবেশী দেশের মানুষের মধ্যে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনে খুবই প্রাসঙ্গিক এবং নজরুলচর্চা আজকের অস্থির সময়ে খুবই জরুরি।
জন্মসূত্রে নজরুল ভারতীয়। অবিভক্ত বাংলায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে বাঙালি মুসলমান পরিবারে তার জন্ম। কিন্তু তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে। মৃত্যুর আগেই তাকে দেওয়া হয় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব। বাঙালির তিনি প্রাণের কবি। তাকে জাতীয় কবি হিসাবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। তার গান আজও মানুষকে উজ্জীবিত করে দুপারেই। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে আজও বিদ্রোহের আগুন জ্বালে তার অমর সৃষ্টি, ‘নাচে ঐ কাল বোশেখী/ কাটাবি কাল বোসে কী/ দে রে দেখি ভীম কারার ঐ ভিত্তি নাড়ি/ লাথি মার ভাঙ রে তালা/ যত সব বন্দীশালায়’...।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যথার্থই বলেছেন, “কাজী নজরুল ইসলামের পুরো জীবনটাই যেন ছিল এক যুদ্ধ ঘোষণা। একটি অনন্যসাধারণ বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহ ঔপনিবেশিক শাসন, পরাধীনতা, জুলুম, নির্যাতন, শোষণ, অসাম্য, বৈষম্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে; তথা সকল অন্যায়, অবিচার ও অসুন্দরের বিরুদ্ধে।” তার ঘোষণা ২৫ মে থেকে টানা এক বছর ‘নজরুল বর্ষ’ পালিত হবে বাংলাদেশে। নজরুল সম্পর্কে তারেক রহমান আরও বলেছেন, “তিনি আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক। আমাদের জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ।”
ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বাঙালি অধ্যুষিত একাধিক রাজ্যেও পালিত বেশ ঘটা করে পালিত হচ্ছে নজরুল জয়ন্তী। কবির জন্মভিটে বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতাতেও পালিত হয় দিনটি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নজরুল জয়ন্তীতে বিদ্রোহী কবির প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মাণিক সাহা থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রীরাও দিনটিতে স্মরণ করেন বাঙালির চেতনার কবিকে। আসামেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে দিনটি।ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বাঙালি অধ্যুষিত একাধিক রাজ্যেও পালিত বেশ ঘটা করে পালিত হচ্ছে নজরুল জয়ন্তী। কবির জন্মভিটে বর্তমানে পশ্চিম বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতাতেও পালিত হয় দিনটি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নজরুল জয়ন্তীতে বিদ্রোহী কবির প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মাণিক সাহা থেকে শুরু করে অন্যান্য মন্ত্রীরাও দিনটিতে স্মরণ করেন বাঙালির চেতনার কবিকে। আসামেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে দিনটি।
এই অস্থির সময়ে অসীমান্তিক নজরুল চর্চা জরুরি। কারণ তার সাহিত্য ও দর্শন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাহক। দিকে দিকে মৌলবাদ যেভাবে মাথাচড়া দিচ্ছে তার বিরুদ্ধে নজরুল ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগত ভেদাভেদ ভুলে মানবমুক্তির জয়গান গেয়েছেন। তার শ্যামাসঙ্গীত ও ইসলামি গজল উভয়ই দুই এই উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা দুই দেশের নাগরিক ও সমাজকে পরমতসহিষ্ণু হতে শেখায় এবং উগ্রবাদ মোকাবিলায় সাহায্য করে।
নজরুলচর্চাকে হাতিয়ার করেই পদ্মা ও গঙ্গাপারের মানুষ নিজেদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারেন। অতীতে বহু অনুষ্ঠান হয়েছে দুই বাংলার সংস্কৃতী কর্মীদের নিয়ে। আগামী দিনেও মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে আরও আত্মিক করতে বড় ভূমিকা নিতে পারেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
নজরুলকে কোনও এক দেশের রাজনৈতিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না। তার কবিতা, গান ও দর্শন দুই দেশের শিল্পীদের সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে নজরুল চর্চার মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষ একে অপরের আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ পেতে পারেন। তার ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও চেতনা দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।নজরুলকে কোনও এক দেশের রাজনৈতিক সীমানায় আটকে রাখা যায় না। তার কবিতা, গান ও দর্শন দুই দেশের শিল্পীদের সমানভাবে অনুপ্রাণিত করে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবে নজরুল চর্চার মাধ্যমে দুই বাংলার মানুষ একে অপরের আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ পেতে পারেন। তার ঐতিহাসিক সংগ্রাম ও চেতনা দুই দেশের বন্ধুত্বের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।
অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের শরিক ছিলেন নজরুল। ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও দেশের প্রতি তার দেশপ্রেমে কোনও খামতি ছিল না। তার সাহিত্যকর্ম প্রকৃত মানবতাবাদের দলিল এবং অন্যায়ের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। শৈশবে ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত হয়েও তিনি আগলে ধরেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতাকে। ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধতা বোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা তার অমর সৃষ্টিতে আমরা উপলব্ধি করি। তার এই দর্শনেই সমৃদ্ধ হয়েছে ৪,০০০ গানের সুর ও সঙ্গীত, তিনটি উপন্যাস, উনিশটি ছোটগল্প এবং পাঁচটি প্রবন্ধ। ব্রিটিশ উপনিবেশের বিরুদ্ধে তিনি গর্জে উঠেছিলেন, ‘এ দেশ ছাড়বি কিনা বল/ নইলে কিলের চোটে হাড় করিব জল।’
সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজি নজরুল ইসলামকে ঢাকায় নিয়ে আসে। অসুস্থ কবির বাংলাদেশ সফর নিয়ে আপত্তি করেনি ভারত সরকার। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। সেই বছরেই ২৯ আগস্ট কবি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। কিন্তু কবি অমর তার সৃষ্টিতে। তাই আজও বাঙালির হৃদয়ে বাজে, ‘যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না,/ অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ, ভূমে রণিবে না…’।
নজরুল নিজেই নিজের সম্পর্কে লিখে গিয়েছেন, ‘কেউ বলেন আমার বানী যবন কেউ বলেন কাফের। আমি বলি ও দুটোর কোনটাই না। আমি শুধু হিন্দু মুসলিমকে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি’। তার অভিধানে হিন্দু বা মুসলমানের কোনো বিভেদ ছিল না। তিনি নিজের সৃষ্টি সুখের উল্লাসে সকলকে একই বৃন্তে বাঁধার চেষ্টা করেছেন। তাই তো তার শ্যামা সঙ্গীত হিন্দুদেরও মনের কথা বলে।
ব্রিটিশ ভারতে তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা তথা স্বরাজ অর্জনে বিশ্বাস করতেন। তবে ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনেও তাকে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। হিন্দু ও মুসলমানদের সম্মিলিত সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন নজরুল।
তিনি লিখেছিলেন, ‘অন্তরলোক শুদ্ধ হল পবিত্র সেই ধুপসুবাসে / সব কিছু মোর পুড়ে কবে চিরতরে ভষ্ম হবে, মার ললাটে আঁকব তিলক সেই ভষ্মবিভূতিতে’। কবি বিয়ে করেছিলেন কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর কন্যা প্রমীলা দেবীকে। এর আগে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের বোন নার্গিস আসার খানমের সঙ্গে তার বিয়ে হলেও সেই বিয়ে টেকেনি। কিন্তু প্রমীলা দেবী আমৃত্যু কবিকে আগলে রেখেছিলেন।
নজরুল দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। কবির জন্মস্থানের কাছের শহর আসানসোলে ২০১২ সালে স্থাপিত হয়েছে ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’। দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নামও রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহরে ঢোকার মূল রাস্তাটির নাম রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম সরণি’। কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের ‘কবি নজরুল’। পরাধীন ভারতে, ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ নজরুলকে প্রদান করে।। ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়।নজরুল দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। কবির জন্মস্থানের কাছের শহর আসানসোলে ২০১২ সালে স্থাপিত হয়েছে ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়’। দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নামও রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’। কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শহরে ঢোকার মূল রাস্তাটির নাম রাখা হয়েছে ‘কাজী নজরুল ইসলাম সরণি’। কলকাতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের ‘কবি নজরুল’। পরাধীন ভারতে, ১৯৪৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ নজরুলকে প্রদান করে।। ১৯৬০ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়।
নজরুল লিখেছিলেন, ‘এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল,/ এক সে মায়ের বক্ষে ফলে একই ফুল ও ফল।/ এক সে দেশের মাটিতে পাই/ কেউ গোরে কেউ শ্মশানে ঠাঁই/ এক ভাষাতে মাকে ডাকি, এক সুরে গাই গান’॥ তাই তিনিই পারেন দেশকালের গন্ডি ডিঙিয়ে, সীমান্তের প্রহরীদের কড়া শাসন উপেক্ষা করে দুই দেশের মানুষকে ফের একাত্ম করে তুলতে। বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবপ্রেমের জয়গানে বাঙালি চিরকাল সমৃদ্ধ। সেই সমৃদ্ধিকে আরও সুসংগত করতে হাতিয়ার হোক হৃদয়ের কবি রবি ঠাকুরের ‘সঞ্চয়িতা’ এবং চেতনার কবি নজরুলের ‘সঞ্চিতা’। দুই কবির স্মৃতি বিজরিত দুই বাংলার বহু তীর্থক্ষেত্রের হাত ধরে পর্যটন শিল্পও হতে পারে বিকশিত। আরও দৃঢ হতে পারে বাঙালিয়ানার অগ্রযাত্রী। সার্বিক পূর্ণতা পেতে পারে বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক আত্মীয়তা।

১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কাজী নজরুল ইসলামের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।

ঠিক কী কী কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে? এমন প্রশ্ন তুললে সঙ্গে সঙ্গেই একগাদা উত্তর ছুটে আসবে। এর মধ্যে থাকবে–বিচারহীনতার সংস্কৃতি বা দীর্ঘসূত্রি বিচার, পুরুষ বাদে অন্য লৈঙ্গিক পরিচয়কে দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা, সমাজ ও রাষ্ট্রের পৌরষিক সত্তাসহ আরও অনেক কিছু