ads

১৪ লাখের বেতন-ভাতা বাড়বে, ৬ কোটি ৭৬ লাখের কী হবে

১৪ লাখের বেতন-ভাতা বাড়বে, ৬ কোটি ৭৬ লাখের কী হবে
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা বাড়ছে, এটা নিশ্চয়ই আনন্দের সংবাদ। সেই সঙ্গে সরকার ১২তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রেশনিংয়ের ব্যবস্থাও করছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষুদ্র একটা অংশ বর্তমানে রেশনিং সুবিধা পেলেও বেশির ভাগই এর বাইরে আছেন।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রথমে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকারি কর্মকর্তাদের মূল বেতন ও ভাতা ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। কিন্তু পরে জটিলতার কারণে মূল বেতনটি এখনই এবং ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থ বছর থেকে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই থেকে মূল বেতন পেতে পারেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

যুক্তি হিসেবে তিনি প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর হবে।

আশা করা যায়, জুলাই মাসের বেতনের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোয় মূল বেতন পাবেন।

অষ্টম বেতনকাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এ সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পরিশোধের জন্য বাজেটের ‘পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের সম্পদের ব্যবহার’ অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এটি ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। তাদের ভাষ্য, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম গ্রেডের বেতন ভাতা হবে ১,৬০,০০০ টাকা, ২য় গ্রেডের ১,৩২,০০০ টাকা, ৩য় গ্রেড ১,১৩,০০০ টাকা, ৪র্থ গ্রেড ১,০০,০০০ টাকা, ৫ম গ্রেড ৮৬,০০০ টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেড ৭১,০০০ টাকা, ৭ম গ্রেড ৫৮,০০০ টাকা, ৮ম গ্রেড ৪৭,২০০ টাকা, ৯ম গ্রেড ৪৫,১০০ টাকা, ১০ম গ্রেড ৩২,০০০ টাকা, ১১তম গ্রেড ২৫,০০০ টাকা, ১২তম গ্রেড ২৪,৩০০ টাকা, ১৩তম গ্রেড ২৪,০০০ টাকা, ১৪তম গ্রেড ২৩,৫০০ টাকা, ১৫তম গ্রেড ২২,৮০০ টাকা, ১৬তম গ্রেড ২১,৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেড ২১,৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেড ২১,০০০ টাকা, ১৯তম গ্রেড ২০,৫০০ টাকা, ২০তম গ্রেড ২০,০০০ টাকা। আগের কাঠামোয় ২০তম গ্রেডে ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। সরকার নিচের স্তরের কর্মীদের বেতন অপেক্ষাকৃত বেশি ও ওপরের স্তরের কর্মীদের কম বাড়িয়েছে।

এরই মধ্যে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার মনে করছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি চাকরিজীবী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এ চাপ কমবে এবং কর্মীদের কাজে মনোযোগ বাড়বে।

রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

আবার অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন। রেশন সুবিধা চালু হলে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহজ হবে।”

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ জনপ্রশানের কর্মীদের নিয়েই ভাবেন। এর বাইরে বেসরকারি খাতে লাখ লাখ কর্মজীবী আছেন, তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে তারা ভাবেন না।

বেতন কাঠামোর ক্ষেত্র সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা দরকার। অনেক বেসরকারি খাত আছে, যেখানে সরকারি খাতের আগের বেতন কাঠামোর চেয়েও বেতন অনেক কম। তাও নিয়মিত পান না।

এসব খাতের কর্মীরা কীভাবে চলেন তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক কিংবা জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মাথাব্যথা নেই।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পান ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এগুলো হলো- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দ সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি।

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন পরিশোধের জন্য বাজেটের ‘পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের সম্পদের ব্যবহার’ অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এটি ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। তাদের ভাষ্য, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম গ্রেডের বেতন ভাতা হবে ১,৬০,০০০ টাকা, ২য় গ্রেডের ১,৩২,০০০ টাকা, ৩য় গ্রেড ১,১৩,০০০ টাকা, ৪র্থ গ্রেড ১,০০,০০০ টাকা, ৫ম গ্রেড ৮৬,০০০ টাকা, ৬ষ্ঠ গ্রেড ৭১,০০০ টাকা, ৭ম গ্রেড ৫৮,০০০ টাকা, ৮ম গ্রেড ৪৭,২০০ টাকা, ৯ম গ্রেড ৪৫,১০০ টাকা, ১০ম গ্রেড ৩২,০০০ টাকা, ১১তম গ্রেড ২৫,০০০ টাকা, ১২তম গ্রেড ২৪,৩০০ টাকা, ১৩তম গ্রেড ২৪,০০০ টাকা, ১৪তম গ্রেড ২৩,৫০০ টাকা, ১৫তম গ্রেড ২২,৮০০ টাকা, ১৬তম গ্রেড ২১,৯০০ টাকা, ১৭তম গ্রেড ২১,৪০০ টাকা, ১৮তম গ্রেড ২১,০০০ টাকা, ১৯তম গ্রেড ২০,৫০০ টাকা, ২০তম গ্রেড ২০,০০০ টাকা। আগের কাঠামোয় ২০তম গ্রেডে ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। সরকার নিচের স্তরের কর্মীদের বেতন অপেক্ষাকৃত বেশি ও ওপরের স্তরের কর্মীদের কম বাড়িয়েছে।

এরই মধ্যে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকার মনে করছে, মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক সরকারি চাকরিজীবী আর্থিক সংকটে পড়ছেন। অনেকেই ধার-দেনা ও ঋণের চাপে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন, যা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে প্রভাব ফেলছে। রেশন সুবিধা চালু হলে এ চাপ কমবে এবং কর্মীদের কাজে মনোযোগ বাড়বে।

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবে অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মতি মিলেছে। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গত জুন মাসে অর্থ বিভাগের সচিবকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

চিঠিতে তিন মাস পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে অগ্রগতি উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “রেশন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

আবার অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অভাবের কথা বলেন। রেশন সুবিধা চালু হলে এ ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহজ হবে।”

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ জনপ্রশানের কর্মীদের নিয়েই ভাবেন। এর বাইরে বেসরকারি খাতে লাখ লাখ কর্মজীবী আছেন, তাদের বেতন-ভাতা নিয়ে তারা ভাবেন না।

বেতন কাঠামোর ক্ষেত্র সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা দরকার। অনেক বেসরকারি খাত আছে, যেখানে সরকারি খাতের আগের বেতন কাঠামোর চেয়েও বেতন অনেক কম। তাও নিয়মিত পান না।

এসব খাতের কর্মীরা কীভাবে চলেন তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক কিংবা জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মাথাব্যথা নেই।

বর্তমানে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রেশন সুবিধা পান ১০টি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এগুলো হলো- সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য মাসিক রেশন বরাদ্দ সাধারণত ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি।

কিন্তু কোনো বেসরকারি খাতের কর্মীরা রেশনিং সুবিধা পান না। তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মীদের রেশনিং সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও মাঝ পথে থেমে গেছে। পরিবহনসহ অনেক খাতে ঠিকমতো মজুরিও দেওয়া হয় না।

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন ভাতা বাড়ানো এবং নিচের শ্রেণির কর্মীদের জন্য রেশনিং সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগকে আমরা নেতিবাচকভাবে দেখছি না।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা যদি একটু খতিয়ে দেখতেন, বেসরকারি অনেক খাতের কর্মীদের বেতন ভাতা ২০১৫ সালের সরকারি বেতন কাঠামোর চেয়েও কম।

সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ভাতা বাড়াচ্ছেন, ভালো কথা। কিন্তু বেসরকারি খাতের লাখ লাখ কর্মকর্তা ও কর্মীর কী হবে? তাদের বেতন ভাড়া বাড়ানোর কোনো উদ্যোগ কি সরকার নেবে না?

বেসরকারি খাত ও সরকারি খাতের লোকবল সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা যেতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে সরকারি চাকরিতে মোট অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১১১টি। অর্থাৎ, বর্তমানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বিবিএসের হিসেব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬ কোটি ৯০ লাখ কর্মজীবী মানুষ আছেন।

এর থেকে সরকারি চাকুরিজীবী ১৪ লাখ ৫০ হাজার বাদ দিলে থাকে বেসরকারি কর্মজীবীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ কোটি ৭৬ লাখ।

নতুন বেতন কাঠামোয় তাদের বেতন ভাতা এক টাকাও বাড়বে না। অথচ সরকারি কর্মীদের বর্ধিত বেতন ভাতার কারণে বাজারে যে মূল্যস্ফীতি হবে, সেই চাপটা তাদেরও বহন করতে হবে।

ষাট ও সত্তরের দশকে আমাদের রাজনীতিতে জনপ্রিয় স্লোগান ছিল, ‘কেউ খাবে কেউ খাবে না। তা হবে না, তা হবে না।’

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা সেই স্লোগানটি সম্ভবত নতুন করে লিখছেন, ‘শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে, অন্য কারও নয়।’

লেখক: সম্পাদক, চরচা

সম্পর্কিত