
মস্কোর বিজয় দিবসের প্যারেডে বিশ্ব দেখল ভ্লাদিমির পুতিনের এক মানবিক ও কোমল রূপ। বিশ্ব রাজনীতির কঠিন সমীকরণ ভুলে নিজের স্কুলজীবনের প্রিয় জার্মান শিক্ষিকাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও নৈশভোজে আপ্যায়িত করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

মস্কোর এক আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তার স্কুলজীবনের জার্মান ভাষার প্রিয় শিক্ষক ভেরা দিমিত্রিয়েভনা গুরেভিচের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পরিবহন ও সংরক্ষণে মস্কো প্রস্তুত রয়েছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অধীনে যে ব্যবস্থা আগে নেওয়া হয়েছিল, সেটি পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সেই যুদ্ধ থেকে রিয়াদ এই শিক্ষা পেয়েছে যে, আমেরিকা অজেয় নয়। তারা বুঝেছে, ওয়াশিংটন বা জেরুজালেমের ইচ্ছেমতো এই অঞ্চল যেকোনো সময় যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে, যার চরম মূল্য দিতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তার পরিবার এখন আর মস্কো বা ভালদাইয়ের নিয়মিত বাসভবনে থাকছেন না। পুতিন এখন লম্বা সময় কাটান বিভিন্ন বাঙ্কারে, যার মধ্যে একটি রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার এলাকায় অবস্থিত।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা অস্ত্রের চেয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ওপর বেশি নির্ভরশীল।মস্কো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নিচ্ছে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক সমাধানের বিরোধিতা করছে।

বড় বিপদ তাৎক্ষণিক যুদ্ধ নয়। বরং দুই দেশ ধীরে ধীরে একে অপরকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখছে। একবার এই ধারণা তৈরি হলে, বক্তব্য ও রাজনীতি মানুষকে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করে। তখন ভবিষ্যতের যুদ্ধকে স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ
মস্কো ও বেইজিং ইতিমধ্যে ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং যৌথ নৌ-মহড়াসহ সামরিক সমন্বয়ও বাড়িয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরছে।

আলেক্সেইভ রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ–এর ডেপুটি প্রধান। তার বস ইগর কোস্তিউকভ বর্তমানে ইউক্রেন–রাশিয়ার আলোচনায় রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

পুতিনের বাসভবনে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে উত্তেজনা বাড়াল রাশিয়া, যদিও তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এই দাবি শান্তি আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার কৌশল বলে অভিযোগ করে কিয়েভ বলছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছে মস্কো।

সফরকালে তিনি ভারতকে অপরিশোধিত তেল, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে নয়াদিল্লির সঙ্গে মস্কোর দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।