Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

দুই আগুনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সৌদি যুবরাজ

লিওন হাদার

লিওন হাদার

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ২১: ২৩
দুই আগুনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সৌদি যুবরাজ

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যখন পারস্য উপসাগরজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন শুরু হলো, রিয়াদের পূর্বাঞ্চল থেকে শুরু করে বাহরাইন, কাতার ও আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যখন আঘাত আসতে শুরু করল, তখন ওয়াশিংটনের সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের পুরনো সুরেই গান গাইতে থাকে। তারা বলতে চেয়েছিল, এবার সৌদি আরবকে নিশ্চিতভাবেই কোনো এক পক্ষ বেছে নিতে হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মার্কিন বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, বেইজিং বা মস্কোর দিকে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক যে ঝোঁক, তা যুদ্ধের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তাদের দাবি ছিল, মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) এই ‘মাল্টিপোলারিটি’ বা বহুমুখী নীতি ছিল কেবল ‘শান্তিকালীন বিলাসিতা’। যুদ্ধের বাস্তবতায় সৌদি আরবকে আবারও সেই পুরনো আমেরিকান নিরাপত্তার ছায়াতলে ফিরে আসতেই হবে।

ধারণাটি বেশ স্বচ্ছ মনে হলেও, এটি আদতে ভুল।

সামরিক জোট ন্যাটোর বাইরে অন্যতম মিত্রের তকমাটা বড়জোর একটি সান্ত্বনা পুরস্কার হতে পারে। কিন্তু এই বন্ধুত্ব কোনো পাকাপোক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নয়। সৌদিরা এই পার্থক্য খুব ভালো করেই বোঝে।

আমরা রিয়াদে এখন যা দেখছি, তা দেখে মোটেই মনে হচ্ছে না যে, তারা কোনো অনুগত দাসের মতো পুরনো মালিকের কাছে ফিরে যাচ্ছে। বরং সৌদি আরব একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে। সৌদিরা চারপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা ২০২৫ সালের জুনের সেই ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ দেখেছে। ওই সময় ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সেই যুদ্ধ থেকে রিয়াদ এই শিক্ষা পেয়েছে যে, আমেরিকা অজেয় নয়। তারা বুঝেছে, ওয়াশিংটন বা জেরুজালেমের ইচ্ছেমতো এই অঞ্চল যেকোনো সময় যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে, যার চরম মূল্য দিতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই।

২০১৯ সালে আরামকো স্থাপনায় হামলার সময় সৌদিরা দেখেছে, তাদের বিপদে কোনো মার্কিন ‘অশ্বারোহী বাহিনী’ উদ্ধারে আসেনি। তারা দেখেছে, ২০২২ সালের হুতি যুদ্ধবিরতি টিকে ছিল রিয়াদের নিজস্ব প্রচেষ্টায়, ওয়াশিংটনের কারণে নয়। ফলে আমেরিকা ‘নির্ভরযোগ্য বন্ধু নয়’–সেই সিদ্ধান্তে তারা অনেক আগেই পৌঁছেছে। তারা বুঝতে পেরেছে, আমেরিকার ওপর অতি-নির্ভরশীলতার ঝুঁকি এখন অনেক বেশি।

সৌদি­–কাতার–ইউএইর ভবিষ্যৎ কোথায়?future-of-saudi-qatar-and-uae

এ কারণেই ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করা হয়। এ কারণেই ২০২৫ সালের নভেম্বরে যখন মোহাম্মদ বিন সালমান আমেরিকা সফর করেন, তখন তিনি কোনো পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেননি। সামরিক জোট ন্যাটোর বাইরে অন্যতম মিত্রের তকমাটা বড়জোর একটি সান্ত্বনা পুরস্কার হতে পারে। কিন্তু এই বন্ধুত্ব কোনো পাকাপোক্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নয়। সৌদিরা এই পার্থক্য খুব ভালো করেই বোঝে।

কেবল পূর্ব বা পশ্চিমের মধ্যে কোনো একটি পক্ষকে বেছে নিতে হবে–লড়াইটা আসলে এমন নয়। এই অবস্থানকে বলা যেতে পারে অটোমান আমলের বিসমার্কীয় রাজনীতির আধুনিক রূপ, যাকে বলা হয় ‘শাউকেলপলিটিক’ বা দোলনা নীতি। এর মানে, একদিকে বেশি না ঝুঁকে ভারসাম্য বজায় রাখা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি চিংপিং। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি চিংপিং। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কোনো বিলাসিতা নয়; এটি হলো আমেরিকার ওপর থেকে অস্ত্র ও অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার একটি বাজি। এই লক্ষ্য অর্জনে এমবিএসের প্রয়োজন চীনা পুঁজি, তুর্কি ড্রোন, পাকিস্তানি জনশক্তি এবং ইউরোপীয় প্রযুক্তি। তিনি আমেরিকার নিরাপত্তা বলয়ও চান, তবে তা ওয়াশিংটনের শর্তে নয়, বরং নিজস্ব শর্তে।

ওয়াশিংটনের থিঙ্কট্যাঙ্কগুলো এখন বেশ উদ্বেগের সঙ্গেই স্বীকার করতে শুরু করেছে, সৌদি আরবের এই বহুমুখী অবস্থান সাময়িক কোনো বিষয় নয়। ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের দিকে ঝোঁকা, চীনের সঙ্গে নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের পরিধি বাড়ানো কিংবা আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের সঙ্গে কূটনৈতিক ঘনিষ্ঠতা–এগুলো নিছক কোনো দরকষাকষির কৌশল নয়। এগুলো হলো আমেরিকার প্রভাব-পরবর্তী এক নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তি, যা সবার চোখের সামনেই গড়ে উঠছে।

ওয়াশিংটন এখনও একটি বিভ্রান্তিতে ভুগছে। তারা মনে করে, আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা সৌদি-ইসরায়েল সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মূল লক্ষ্যই হলো দেশগুলোকে মার্কিন তাঁবুর ভেতরে রাখা। আমেরিকা মনে করে, তারা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। সৌদিরা যখন বলে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া তারা ইসরায়েলকে মেনে নেবে না, তখন ওয়াশিংটন এটাকে স্রেফ দরকষাকষি মনে করে ভুল করে। আমিরাত যখন মার্কিন প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কঠোর হয় বা কাতার যখন ইরানের সঙ্গে লাইন খোলা রাখে–ওয়াশিংটন সেগুলোকে গুরুত্ব দিতে চায় না। অথচ এই সবগুলো ঘটনা একই দিকে ইশারা করছে। আর সেই দিকটি হলো, এই অঞ্চলের দেশগুলো এখন আর কোনো একক দেশ বা শক্তির ওপর ভরসা করতে রাজি নয়।

বাস্তবতা মেনে নিতে পারলে আমেরিকার জন্য চিন্তার কিছু নেই। সৌদি আরব এখন নিজের প্রতিরক্ষার বোঝা নিজেই বইছে। দেশটি এমন সব কূটনৈতিক পথে হাঁটছে, যা আমেরিকার পক্ষে বাধাগ্রস্ত করা সম্ভব নয়। ভারত, ইন্দোনেশিয়া বা ব্রাজিলের মতো সৌদি আরবও এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করেছে।

সৌদি আরব কার পক্ষ নেবে–ওয়াশিংটনের জন্য এখন বড় প্রশ্ন এটা নয়। কারণ, তারা কারোর পক্ষ নেবে না। আসল প্রশ্ন হলো, আমেরিকা কি সৌদি আরবের এই স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান দিয়ে নতুন কোনো নীতি তৈরি করতে পারবে? নাকি এটাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখবে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি এই বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, তবে তারা ইতিবাচক কিছুই পাবে। তারা উপলব্ধি করতে পারবে যে, স্বাধীনচেতা সৌদি আরব আমেরিকার জন্য বেশি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে। আর যদি আমেরিকা ব্যর্থ হয়, তবে রিয়াদ তার নিজের পথেই হাঁটবে।

দিনশেষে সৌদি আরব হলো একটি রাজতন্ত্র। আর রাজতন্ত্রগুলো ভালো করেই বোঝে, টিকে থাকাই আসল লক্ষ্য। আর তাদের কাছে চিরায়ত সত্যটা হলো, কোনো পৃষ্ঠপোষকই চিরস্থায়ী নয়।

(লেখাটি এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া)

বিষয়: পাকিস্তানসৌদি আরবআমেরিকামস্কোইরান-ইসরায়েল সংঘাতক্ষেপণাস্ত্রডোনাল্ড ট্রাম্পকাতারযুদ্ধমার্কিনআরব আমিরাতবেইজিংচীন
সর্বশেষ
  • ১

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

  • ২

    মহাখালীতে পরিত্যক্ত ভবনে আগুন

  • ৩

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে ভবনে আগুন

  • ৪

    হংকংয়ের বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব বাংলাদেশের

  • ৫

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া