নাইর ইকবাল

বিশ্বকাপ নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নিজেদের মর্যাদার বিনিময়ে ভারতের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। ভারত থেকে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আইসিসিকে যে চিঠি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দিয়েছিল, সেখান থেকেও বার্তা প্রত্যাশা পূরণ করার মতো নয় এখনও। তবে কি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করবে?
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে ‘নিরাপত্তা’ বিষয়টি ছিল। অর্থাৎ, আইপিএলে মোস্তাফিজ খেললে তার পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা আছে, বিসিসিআইয়ের যুক্তি এমনই।
বাংলাদেশও নিরাপত্তার বিষয়টিকেই ইস্যু করেছে। যেখানে ব্যক্তি মোস্তাফিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে। কিন্তু আইসিসি বাংলাদেশকে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সেভাবে শঙ্কা দেখছে না তারা। গতকাল, ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো তো খবর দিয়েছিল, আইসিসি নাকি বিসিবিকে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতেই যেতে হবে, নয়তো পয়েন্ট কাটা যাবে। পরে বিসিবি এক বিবৃতি দিয়ে এ খবর উড়িয়ে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। বাংলাদেশ চায় কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বাংলাদেশের চারটি খেলা শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। তবে বিশ্বকাপের মাত্র একমাস বাকি থাকতে সেটা কতটা সম্ভব, সে প্রশ্নও আছে।
কাল যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার কথায় একটা জিনিস পরিষ্কার-বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ আছে। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ‘মর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে’ বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এখন আইসিসি যদি বাংলাদেশের কথা না রাখে, তবে কী প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের বৈশ্বিক কোনো ইভেন্টই শুধু নয়, স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কোনো খেলাধুলার কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বয়কট করার দিকেই হাঁটবে বাংলাদেশ।
১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশ এর পরের ২৬ বছরে খেলেছে ক্রিকেটের অনেক বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা। এখনো পর্যন্ত ৭টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ৯টি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশ খেলেছে কয়েকটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও (আইসিসি আয়োজিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাই এটি)। এবার মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ না খেলে, সেটি হবে বিরাট বড় ঘটনাই।
সাম্প্রতিককালে ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘটনা ঘটেনি। কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে থাকার পরও ২০১৬ সালে ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ পাকিস্তান বয়কট করেনি। ভারতের সঙ্গে ম্যাচও খেলেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্থিরতা আছে এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতন ও তার ভারতে চলে যাওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। বাংলাদেশে সরকার পতনে ভারত যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, সমস্যাটা মূলত সেই জায়গাতেই। সম্প্রতি দুই দেশের রাজনীতিতেই বড় ইস্যুও হয়ে উঠেছে এটি। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদও দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক ইস্যুতে। ২০২৫ সালে ভারত একতরফাভাবেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ স্থগিত করেছে। বাংলাদেশ সে সময় কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও এবার মোস্তাফিজ–ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া প্রতিক্রিয়া আসলে এতদিনের ক্রিয়ার বিপরীত প্রতিক্রিয়া বলা যেতেই পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ বয়কট করে বসে, তাহলে কার লাভ কার ক্ষতি? ভারত ক্রিকেট বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বড় অর্থনীতি ও ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ক্রিকেটীয় অর্থনীতিতে সিংহভাগ রাজস্ব জোগান দেয় তারাই। এটা বারবার ভারত সবাইকে মনেও করিয়ে দেয়। আইসিসিও অনেক ক্ষেত্রে রাজস্বের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের প্রভাব এতটাই যে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক। মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াটা অপমানজনক। অনেকটাই ছেলেমানুষি ব্যাপার–স্যাপার। ঝগড়ার জেরে পাড়ার ক্রিকেটে কাউকে খেলায় না নেওয়ার মতোই। এ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনাও আছে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যায়, সেটির চাপ সামলানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে কিনা, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়।
আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় বিসিবি। এমনকি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে আসছে আইপিএলের টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধেরও নির্দেশ জারি করেছে। ক্রিকেট দুনিয়ার অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবচেয়ে শক্তিধর দেশের সঙ্গে এই মুখোমুখি অবস্থানে বাংলাদেশকে যে আগামী দিনগুলোতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই।
বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে কিংবা আইসিসি যদি বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরাতে রাজি না থাকে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ ওয়াকওভার পাবে, এটা বড় ইস্যু নয়। বাংলাদেশ এমনটা করলে বিশ্বকাপের যে লভ্যাংশ আইসিসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়, সেটি হারাতে হবে বাংলাদেশকে। সেই টাকার অংকটা মোটেও ছোট নয়। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে উঠে বাংলাদেশ পেয়েছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকারও কিছু বেশি। এটা এমন একটা অংক, যার কিয়দংশও যদি দেশের অন্য কোনো খেলার ফেডারেশনগুলো পেত, তাহলে খুব ভালোভাবেই তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারত। কিন্তু এখন বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন, মর্যাদা। আইসিসির সিদ্ধান্ত যদি পক্ষে না–ও আসে, তার পরেও বাংলাদেশের নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ অনেকটাই কম। বাংলাদেশ এখন কী করবে, এটাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।

বিশ্বকাপ নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নিজেদের মর্যাদার বিনিময়ে ভারতের মাটিতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। ভারত থেকে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আইসিসিকে যে চিঠি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দিয়েছিল, সেখান থেকেও বার্তা প্রত্যাশা পূরণ করার মতো নয় এখনও। তবে কি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বয়কট করবে?
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে ‘নিরাপত্তা’ বিষয়টি ছিল। অর্থাৎ, আইপিএলে মোস্তাফিজ খেললে তার পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা আছে, বিসিসিআইয়ের যুক্তি এমনই।
বাংলাদেশও নিরাপত্তার বিষয়টিকেই ইস্যু করেছে। যেখানে ব্যক্তি মোস্তাফিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যাবে। কিন্তু আইসিসি বাংলাদেশকে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সেভাবে শঙ্কা দেখছে না তারা। গতকাল, ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো তো খবর দিয়েছিল, আইসিসি নাকি বিসিবিকে স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতেই যেতে হবে, নয়তো পয়েন্ট কাটা যাবে। পরে বিসিবি এক বিবৃতি দিয়ে এ খবর উড়িয়ে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখ থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ভারত ও শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক। বাংলাদেশ চায় কলকাতা ও মুম্বাইয়ের বাংলাদেশের চারটি খেলা শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হোক। তবে বিশ্বকাপের মাত্র একমাস বাকি থাকতে সেটা কতটা সম্ভব, সে প্রশ্নও আছে।
কাল যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার কথায় একটা জিনিস পরিষ্কার-বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ আছে। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ‘মর্যাদা বিকিয়ে দিয়ে’ বিশ্বকাপে খেলবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এখন আইসিসি যদি বাংলাদেশের কথা না রাখে, তবে কী প্রথমবারের মতো ক্রিকেটের বৈশ্বিক কোনো ইভেন্টই শুধু নয়, স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমবারের মতো কোনো খেলাধুলার কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বয়কট করার দিকেই হাঁটবে বাংলাদেশ।
১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশ এর পরের ২৬ বছরে খেলেছে ক্রিকেটের অনেক বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা। এখনো পর্যন্ত ৭টি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ৯টি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশ খেলেছে কয়েকটি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও (আইসিসি আয়োজিত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাই এটি)। এবার মোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ না খেলে, সেটি হবে বিরাট বড় ঘটনাই।
সাম্প্রতিককালে ক্রিকেটের কোনো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বয়কটের ঘটনা ঘটেনি। কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে থাকার পরও ২০১৬ সালে ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ পাকিস্তান বয়কট করেনি। ভারতের সঙ্গে ম্যাচও খেলেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্থিরতা আছে এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতন ও তার ভারতে চলে যাওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে শুরু হয়েছে অস্থিরতা। বাংলাদেশে সরকার পতনে ভারত যেভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, সমস্যাটা মূলত সেই জায়গাতেই। সম্প্রতি দুই দেশের রাজনীতিতেই বড় ইস্যুও হয়ে উঠেছে এটি। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদও দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক ইস্যুতে। ২০২৫ সালে ভারত একতরফাভাবেই বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ স্থগিত করেছে। বাংলাদেশ সে সময় কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও এবার মোস্তাফিজ–ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া প্রতিক্রিয়া আসলে এতদিনের ক্রিয়ার বিপরীত প্রতিক্রিয়া বলা যেতেই পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ বয়কট করে বসে, তাহলে কার লাভ কার ক্ষতি? ভারত ক্রিকেট বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ করে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বড় অর্থনীতি ও ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে ক্রিকেটীয় অর্থনীতিতে সিংহভাগ রাজস্ব জোগান দেয় তারাই। এটা বারবার ভারত সবাইকে মনেও করিয়ে দেয়। আইসিসিও অনেক ক্ষেত্রে রাজস্বের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীল। ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের প্রভাব এতটাই যে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক। মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়াটা অপমানজনক। অনেকটাই ছেলেমানুষি ব্যাপার–স্যাপার। ঝগড়ার জেরে পাড়ার ক্রিকেটে কাউকে খেলায় না নেওয়ার মতোই। এ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনাও আছে। কিন্তু বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যায়, সেটির চাপ সামলানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে কিনা, সেটিও ভেবে দেখার বিষয়।
আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় বিসিবি। এমনকি সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে আসছে আইপিএলের টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধেরও নির্দেশ জারি করেছে। ক্রিকেট দুনিয়ার অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সবচেয়ে শক্তিধর দেশের সঙ্গে এই মুখোমুখি অবস্থানে বাংলাদেশকে যে আগামী দিনগুলোতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই।
বাংলাদেশ ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে কিংবা আইসিসি যদি বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরাতে রাজি না থাকে, বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ ওয়াকওভার পাবে, এটা বড় ইস্যু নয়। বাংলাদেশ এমনটা করলে বিশ্বকাপের যে লভ্যাংশ আইসিসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়, সেটি হারাতে হবে বাংলাদেশকে। সেই টাকার অংকটা মোটেও ছোট নয়। ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইটে উঠে বাংলাদেশ পেয়েছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ কোটি ৮০ লাখ টাকারও কিছু বেশি। এটা এমন একটা অংক, যার কিয়দংশও যদি দেশের অন্য কোনো খেলার ফেডারেশনগুলো পেত, তাহলে খুব ভালোভাবেই তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারত। কিন্তু এখন বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন, মর্যাদা। আইসিসির সিদ্ধান্ত যদি পক্ষে না–ও আসে, তার পরেও বাংলাদেশের নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ অনেকটাই কম। বাংলাদেশ এখন কী করবে, এটাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব।

আদর্শ নিয়ে দোটানা রয়েছে। কিছু মানুষ বামপন্থায় বিশ্বাসী, আবার ডানপন্থায় বিশ্বাসী কিছু মানুষ। তবে বেশির ভাগই অবশ্য মধ্যপন্থী অবস্থানে। শুনতে সোনার পাথরবাটি মনে হলেও বিচিত্র এই উপমহাদেশে রয়েছে বাম, ডান, সেকুলার, কমিউনাল, আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক–হরেক কিসিমের রাজনৈতিক মতাদর্শের ককটেল।

এখনকার দুনিয়ায় লজ্জা বেশ দুর্লভ বিষয়। পুঁজিবাদী সমাজে এর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। তবে কিছু নির্দিষ্ট সংস্থা বা ব্যক্তির অবশ্য লজ্জার শেষ নেই। তারা বেশ নিয়মিত হারে লজ্জিত হন, নিন্দাও জানান। এসব সংস্থার মধ্যে জাতিসংঘ অন্যতম। যদিও বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠে যায় যে, জাতিসংঘের