কর্মক্ষেত্রে ‘সফট অফ ডে’ কী?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কর্মক্ষেত্রে ‘সফট অফ ডে’ কী?
সফট অফ ডে মানে কাজ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া নয়। ছবি: ফ্রিপিক

ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করা আর ক্লান্তি অনুভব করা পেশাজীবীদের জীবনের এক কষ্টকর বাস্তবতা। ইচ্ছা করুক বা না করুক–কাজ তো করতেই হয়। এ পরিস্থিতিতে অনলাইনে নতুন একটি ধারণা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেটি হলো ‘সফট অফ ডে’।

আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি না নিয়েই মানসিকভাবে নিজেকে কিছুটা বিরতি দেওয়ার উপায় হলো এই ‘সফট অফ ডে’।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কীভাবে কর্মীরা অফিসে উপস্থিত থেকেও কম পরিশ্রমে দিন কাটাতে পারেন-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী ইনফ্লুয়েন্সার তা দেখানোর পর এই ধারণাটি বেশ ভাইরাল হয়।

‘সফট অফ ডে’ মানে কাজ পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া নয়। এর মানে হোম অফিস হলে লগইন করে বা অফিসে উপস্থিত থেকে কেবল ন্যূনতম প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা। এতে মনোযোগ ও শারীরিক শক্তি কম থাকা দিনগুলোতে নিজেকে সামলে নেওয়া যায়।

ভাইরাল ভিডিওতে ইনফ্লুয়েন্সার ‘সফট অফ ডে’ সফলভাবে কাটানোর কয়েকটি কৌশল তুলে ধরেন। প্রথমত, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে লগইন করা বা অফিসে পৌঁছানো, যাতে দিনটি একটু দেরিতে শুরু করা যায়।

দ্বিতীয়ত, দিনের শুরুতেই ইমেইলের জবাব দেওয়া। তার মতে, এতে কর্মীকে সক্রিয় ও উপস্থিত বলে মনে হয়, ফলে কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নের সম্ভাবনা কমে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো অটোমেশন ব্যবহার। মনোযোগ কম থাকলে মিটিং চলাকালে ট্রান্সক্রিপশন বা নোট নেওয়ার টুল ব্যবহার করার পরামর্শ দেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার। এতে পুরোপুরি মনোযোগী না থাকলেও কাজ ‘কভার’ হয়েছে-এমন ধারণা তৈরি হয়।

কাজের সীমানা নির্ধারণের ওপরও জোর দেন ওই ইনফ্লুয়েন্সার। অতিরিক্ত কাজ নেওয়া, দেরি পর্যন্ত থাকা বা বাড়তি দায়িত্ব গ্রহণে ‘না’ বলা- এসবকে তিনি ‘সফট অফ ডে’ সফল করার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, নিজের সময় ও শক্তি সুরক্ষিত রাখলেই এ পদ্ধতি কার্যকর হয়।

সবশেষে, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আগেভাগে অফিস ছাড়ার পরামর্শও দেন তিনি। তার মতে, অধিকাংশ মানুষ সহকর্মীদের কাজ ততটা খেয়াল করেন না, যতটা আমরা ভাবি। আর যারা বাসা থেকে কাজ করেন, তাদের জন্য তার সহজ টিপস হলো লগইন অবস্থায় থাকা, মাঝে মাঝে মাউস নড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নজর এড়ানো।

সম্পর্কিত