ads

গলায় কাঁটা আটকে গেলে করণীয়

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
গলায় কাঁটা আটকে গেলে করণীয়
গলায় কাঁটা বিঁধলে যেতে হতে পারে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতেও। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

মাছে-ভাতে বাঙালি আমরা। পাতে এক টুকরো ইলিশ বা রুই পেলেই যে সুখ। কিন্তু গলায় একটা ছোট্ট কাঁটা বিঁধলে সেই সুখ নিমেষেই মাটি! আধা সেন্টিমিটারের একটা ছোট্ট কাঁটা কী তুলকালামই না করতে পারে! এমনকি এ জন্য যেতে হতে পারে হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতেও।

সাধারণত রুই, ইলিশ, তেলাপিয়া, টেংরা, ছোট পুঁটি-টাকির কাঁটাগুলোই বেশি খলনায়কের ভূমিকা নেয়। কাঁটা সবচেয়ে বেশি আটকায় গলার মধ্যে, জিবের গোড়ায় কিংবা গলবিলে।

সাধারণত গলায় কাঁটা বিঁধলে তা ১ বা ২ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। এমনকি ১ সপ্তাহও হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাস গলায় কাঁটা আটকে থাকার রেকর্ড আছে।

প্রখ্যাত গবেষণা সংস্থা ‘উইলি’র মতে, সবচেয়ে বেশি কাঁটা আটকায় ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার আর চাকুরির তাড়াহুড়োয় মনোযোগহীনভাবে দ্রুত গিলতে গিয়েই এই বিপত্তি ঘটে। এ ছাড়া শিশু, বয়স্ক, নকল দাঁত ব্যবহারকারী এবং স্নায়বিক রোগ বা মাংসপেশির দুর্বলতায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকিটা অনেক বেশি।

কী করবেন?

গলায় কাঁটা বিঁধলে আমরা অনেকেই অদ্ভুত সব কাণ্ড করে বসি। ছোটবেলায় এমন পরিস্থিতিতে একটা কথা খুব শোনা যেত। গলায় কাঁটা আটকালে বিড়ালের পা ধরে মাফ চাইতে হয় নাকি। এগুলো যে কুসংস্কার, তা এখন কারো অজানা নয়। এর বদলে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি মেনে চললে এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

  • সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো–সাদা ভাতের লোকমা বানিয়ে গিলে ফেলা। দু-তিনবারেই সাধারণত কাঁটা গলা দিয়ে নেমে পেটে চলে যায়। এ ছাড়া রুটি বা পাউরুটি হালকা পানি বা দুধে ভিজিয়ে বড় কামড়ে গিলে খেলেও একই কাজ হয়।
  • পাকা কলা বেশ পিচ্ছিল। বড় এক কামড় কলা চিবিয়ে গিলে ফেললে তার পিচ্ছিল টানে কাঁটা নিচে নেমে যেতে পারে।
  • কাঁটাটি যদি জিবের ঠিক পেছনে থাকে, তবে কয়েকবার জোরে কাশি দিলে এটি অনায়াসেই বেরিয়ে আসে।
সাদা ভাতের লোকমা, পাকা কলা, কোলা, লেবু পানি এগুলো কাঁটা সরাতে খুব কার্যকর। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
সাদা ভাতের লোকমা, পাকা কলা, কোলা, লেবু পানি এগুলো কাঁটা সরাতে খুব কার্যকর। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
  • লেবুর রস বা সামান্য ভিনেগার অ্যাসিডিক হওয়ায় কাঁটাকে নরম করে দেয়। তবে ভিনেগার বেশি খাওয়া যাবে না!
  • চিপস বা ক্র্যাকার্স একসঙ্গে চিবিয়ে গিললে তার ঘষায় কাঁটা নামতে পারে।
  • হালকা গরম লবণপানির গড়গড়াও গলার পেশি শিথিল করে কাঁটা আলগা করে দেয়।
  • কোলা এবং অন্যান্য কার্বোনেটেড বেভারেজও এক্ষেত্রে বেশ ভালো কাজ করতে পারে। সোডা যখন পাকস্থলীতে প্রবেশ করে, তখন এটি থেকে গ্যাস নির্গত হয়। এই গ্যাসগুলো আটকে থাকা হাড় বা কাঁটাকে টুকরো টুকরো করে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে এবং এমন একটি চাপের সৃষ্টি করে, যা এটিকে তার স্থান থেকে সহজে আলগা করে দিতে পারে।

ভুলেও যা করা যাবে না

গলায় কাঁটা বিঁধলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে সবার আগে গলার ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে বেশি হাতাহাতি শুরু করে দেন। এটা কোনোভাবেই করা যাবে না। এতে বিপদ আরও বাড়তে পারে। গলায় আঙুলের খোঁচায় কাঁটা আরও বাজেভাবে আটকে যেতে পারে। তখন সেখান থেকে হতে পারে ইনফেকশন।

আবার অনেকে আছেন কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে দৌড়ে সময় নষ্ট করেন। ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো কাজ না করলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে?

রাতটা পার হোক, সকালে ডাক্তার দেখাব–এমন অলসতা কিন্তু বিপদ ডেকে আনতে পারে। ঘরোয়া টোটকায় কাজ না হলে এবং নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সোজা হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে ছুটুন:

  • ১৫-২০ মিনিট পরও ব্যথা বা খচখচানি না কমা
  • গলায় তীব্র ব্যথা বা ফোলা ভাব হলে
  • গলা দিয়ে রক্ত বা অতিরিক্ত লালা ঝরলে
  • শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা শুরু হলে
  • খাবার বা পানি গিলতে একদম কষ্ট হলে

মাছ খাওয়ার আনন্দ যেন হাসপাতালের বেডে গিয়ে শেষ না হয়, তাই তাড়াহুড়ো না করে একটু চিবিয়ে, মন দিয়ে মাছ খান। কারণ সাবধানতার কোনো মার নেই।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন

সম্পর্কিত