Advertisement Banner

পাকস্থলীতে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
পাকস্থলীতে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী কী?
প্রতীকী ছবি: ম্যাগনিফিক

পাকস্থলীতে ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন স্পষ্ট লক্ষণ না দেখানোয় অনেক সময় তা সাধারণ হজমের সমস্যার সঙ্গে মিশে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিনের বদহজম, অল্পতেই পেট ভরা বা অস্বাভাবিক পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ অবহেলা না করে সতর্ক হওয়া জরুরি, কারণ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এই রোগের চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা অনেক বাড়ে।

ভারতের মহারাষ্ট্রের থানেতে অবস্থিত কিমস হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ও এইচপিবি অনকোসার্জারি বিভাগের পরামর্শক সানেয়া পান্ড্রোয়ালা বলেন, অনেক রোগী দীর্ঘদিনের বদহজম, অল্প খাবারেই পেট ভরা বা ভারী লাগা এবং অকারণে পেট ফাঁপার মতো সমস্যার কথা জানান, যা সাধারণ চিকিৎসায়ও ঠিক হয় না।

এই চিকিৎসক জানান, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার সঙ্গে ক্ষুধামন্দা দেখা দিলে, এটিও একটি প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া ওপরের পেটে অস্বস্তি বা মৃদু ব্যথাও দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ সামান্য মনে হলেও দীর্ঘদিন ধরে থাকলে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

ডা. সানেয়া বলেন, রোগ বাড়তে থাকলে লক্ষণগুলো আরও পরিষ্কার হয়ে দেখা দেয়। তখন বমিভাব, মাঝে মাঝে বমি বা খাবার গিলতে গেলে গলায় আটকে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। অনেক সময় পাকস্থলীতে অজান্তে রক্তক্ষরণ হওয়ায় শরীর দুর্বল লাগে বা বেশি ক্লান্তি আসে, পরে রক্তস্বল্পতা শনাক্ত হয়।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, খুব কম ক্ষেত্রে কালো, তারের মতো পায়খানা বা রক্তবমি হতে পারে–এগুলো বিপজ্জনক লক্ষণ, তাই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ শুধু পাকস্থলীর ক্যানসারেই হয় না, গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিডিটির মতো সাধারণ সমস্যাতেও হতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো– লক্ষণগুলো কতদিন থাকে এবং সময়ের সঙ্গে বাড়ছে কি না, সেটি খেয়াল রাখা।

ডা. সানেয়ার ভাষ্য, নতুন উপসর্গ দেখা দিলে, তা যদি দীর্ঘদিন না কমে এবং ধীরে ধীরে তীব্র হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি বা ধূমপায়ী, দীর্ঘদিনের হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি সংক্রমণে ভোগা কিংবা যাদের পরিবারে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও জরুরি।

এই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফল অনেক ভালো হয়। তাই চিকিৎসা নেওয়ার পরও যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে হজমজনিত সমস্যা থেকে যায়, তাহলে দেরি না করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে এন্ডোস্কোপির মতো পরীক্ষা করে গুরুতর কোনো সমস্যা আছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আলাদা কোনো উপসর্গের দিকে না তাকিয়ে শরীরের সামগ্রিক পরিবর্তনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে হজমের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলোই প্রায়শই বড় কোনো সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।

সম্পর্কিত