চরচা ডেস্ক

সারাদিনের কাজ শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে গল্প করতে করতে ঘুরে দেখলেন, আপনার স্বামী নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। বেশিরভাগ নারীরই এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মানে এই নয় যে সে তার স্ত্রীর কথা শুনতে আগ্রহী নন। আবার স্ত্রীর সহজে ঘুমাতে না পারাটাও দোষ নয়। বিজ্ঞান বলছে, নানা কারণে নারীরা জৈবিকভাবেই পুরুষদের তুলনায় ঘুমের সমস্যায় বেশি ভোগেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমবিষয়ক চিকিৎসক ও শিশু স্নায়ুবিদ্যার বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিস্টোফার জে অ্যালেনের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
ডা. ক্রিস্টোফার বলেন, “হরমোনের পরিবর্তন থেকে মানসিক চাপসহ নারীরা এমন কিছু বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যে কারণে তাদের ঘুমে সমস্যা হয়।”
নারীদের ঘুমের সমস্যার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
হরমোন
ডা. ক্রিস্টোফার জানান, নারীদের হরমোনজনিত ব্যবস্থা অনেক বেশি জটিল। শরীরে নিয়মিত নানা পরিবর্তন ঘটে, যার অনেকগুলোরই দৃশ্যমান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এটি ঘুমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই চিকিৎসকের মতে, হরমোনের পরিবর্তনই নারীদের ঘুমে সমস্যা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তিনি বলেন, “পুরুষদের ক্ষেত্রে যেখানে ঘুম-সম্পর্কিত হরমোন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তবে নারীদের ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন প্রতিটি চক্রে ওঠানামা করে। এই দুই হরমোন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ঘুম কতটা গভীর বা হালকা হবে তা নির্ধারণ করে।”
ডা. ক্রিস্টোফার জানান, মাসিকের আগে মেনোপজের সময় এ সমস্যা আরও বেশি হয়। তিনি বলেন, “মাসিকের আগে প্রোজেস্টেরন কমে গেলে ঘুম হালকা হয়ে যায় এবং আপনি বেশি বার জেগে ওঠেন। আর পেরিমেনোপজে (মেনোপজের আগের পর্যায়) ইস্ট্রোজেন কমে গেলে ঘুম পুরোপুরি ভেঙে ভেঙে যায়।”
উদ্বেগ ও হতাশা
ডা. ক্রিস্টোফার বলেন, “হরমোনজনিত সমস্যা ছাড়াও পুরুষদের তুলনায় নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যও আলাদা। তার মতে, আবেগীয় পরিবর্তনের প্রভাব পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের বেশি প্রভাবিত করে। যা তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।”
এই চিকিৎসক বলেন, “নারীরা পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনায় থাকেন। কিন্তু ঘুম খারাপ হলে তাতে উদ্বেগ বেশি বাড়ে। ঘুম তাতে আরও খারাপ হয়।”
এছাড়া, একই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ পুরুষ ও নারীর ওপর ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। এই চিকিৎসকের মতে, একজন পুরুষ চাপের মধ্যেও ১০ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক অনেক সময় সজাগ অবস্থায় থাকে।
অন্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রবণতা
নারীদের সাধারণত পরিবারের প্রধান পরিচর্যাকারী হিসেবে দেখা হয়, আর এই দায়িত্ব তাদের ঘুমকে প্রভাবিত করে। মানসিক চাপের ‘চাকা’ রাতেও চলতে থাকে।
ডা. ক্রিস্টোফারের ভাষ্য, নারীরা মানসিকভাবে বেশি সতর্ক থাকেন। শিশুর খেয়াল রাখা, অসুস্থ সন্তানের দেখাশোনা করা বা পরিবারের সময়সূচি মনে রাখা—এসব চিন্তা সবসময় তাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। এত দায়িত্বের কারণে ঘুমের মধ্যেও মস্তিষ্ক আধা-সজাগ অবস্থায় থাকে, ফলে ঘুম হালকা হয় এবং সহজেই বিঘ্নিত হয়।

সারাদিনের কাজ শেষে রাতে বিছানায় শুয়ে গল্প করতে করতে ঘুরে দেখলেন, আপনার স্বামী নাক ডেকে ঘুমাচ্ছেন। বেশিরভাগ নারীরই এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মানে এই নয় যে সে তার স্ত্রীর কথা শুনতে আগ্রহী নন। আবার স্ত্রীর সহজে ঘুমাতে না পারাটাও দোষ নয়। বিজ্ঞান বলছে, নানা কারণে নারীরা জৈবিকভাবেই পুরুষদের তুলনায় ঘুমের সমস্যায় বেশি ভোগেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমবিষয়ক চিকিৎসক ও শিশু স্নায়ুবিদ্যার বিশেষজ্ঞ ডা. ক্রিস্টোফার জে অ্যালেনের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
ডা. ক্রিস্টোফার বলেন, “হরমোনের পরিবর্তন থেকে মানসিক চাপসহ নারীরা এমন কিছু বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যে কারণে তাদের ঘুমে সমস্যা হয়।”
নারীদের ঘুমের সমস্যার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
হরমোন
ডা. ক্রিস্টোফার জানান, নারীদের হরমোনজনিত ব্যবস্থা অনেক বেশি জটিল। শরীরে নিয়মিত নানা পরিবর্তন ঘটে, যার অনেকগুলোরই দৃশ্যমান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এটি ঘুমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই চিকিৎসকের মতে, হরমোনের পরিবর্তনই নারীদের ঘুমে সমস্যা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। তিনি বলেন, “পুরুষদের ক্ষেত্রে যেখানে ঘুম-সম্পর্কিত হরমোন তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে। তবে নারীদের ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন প্রতিটি চক্রে ওঠানামা করে। এই দুই হরমোন ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং ঘুম কতটা গভীর বা হালকা হবে তা নির্ধারণ করে।”
ডা. ক্রিস্টোফার জানান, মাসিকের আগে মেনোপজের সময় এ সমস্যা আরও বেশি হয়। তিনি বলেন, “মাসিকের আগে প্রোজেস্টেরন কমে গেলে ঘুম হালকা হয়ে যায় এবং আপনি বেশি বার জেগে ওঠেন। আর পেরিমেনোপজে (মেনোপজের আগের পর্যায়) ইস্ট্রোজেন কমে গেলে ঘুম পুরোপুরি ভেঙে ভেঙে যায়।”
উদ্বেগ ও হতাশা
ডা. ক্রিস্টোফার বলেন, “হরমোনজনিত সমস্যা ছাড়াও পুরুষদের তুলনায় নারীদের মানসিক স্বাস্থ্যও আলাদা। তার মতে, আবেগীয় পরিবর্তনের প্রভাব পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের বেশি প্রভাবিত করে। যা তাদের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।”
এই চিকিৎসক বলেন, “নারীরা পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভোগার সম্ভাবনায় থাকেন। কিন্তু ঘুম খারাপ হলে তাতে উদ্বেগ বেশি বাড়ে। ঘুম তাতে আরও খারাপ হয়।”
এছাড়া, একই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ পুরুষ ও নারীর ওপর ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। এই চিকিৎসকের মতে, একজন পুরুষ চাপের মধ্যেও ১০ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক অনেক সময় সজাগ অবস্থায় থাকে।
অন্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার প্রবণতা
নারীদের সাধারণত পরিবারের প্রধান পরিচর্যাকারী হিসেবে দেখা হয়, আর এই দায়িত্ব তাদের ঘুমকে প্রভাবিত করে। মানসিক চাপের ‘চাকা’ রাতেও চলতে থাকে।
ডা. ক্রিস্টোফারের ভাষ্য, নারীরা মানসিকভাবে বেশি সতর্ক থাকেন। শিশুর খেয়াল রাখা, অসুস্থ সন্তানের দেখাশোনা করা বা পরিবারের সময়সূচি মনে রাখা—এসব চিন্তা সবসময় তাদের মাথায় ঘুরতে থাকে। এত দায়িত্বের কারণে ঘুমের মধ্যেও মস্তিষ্ক আধা-সজাগ অবস্থায় থাকে, ফলে ঘুম হালকা হয় এবং সহজেই বিঘ্নিত হয়।

বর্তমানে দই থেকে শুরু করে টুথপেস্ট পর্যন্ত নানা পণ্যে চিনির বিকল্প বা সুগার সাবস্টিটিউট ব্যবহার করা হয়। দাবি করা হয়, এগুলো খেলে মিষ্টি খাওয়ার স্বাদ পাওয়া যায়, কিন্তু ওজন বাড়ে না বা দাঁতের ক্ষতিও কম হয়। কিন্তু কিছু নতুন গবেষণা বলছে, এগুলোর বেশ নেতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে।