ইরান কি আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলতে পারবে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরান কি আমেরিকায় বিশ্বকাপ খেলতে পারবে
টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছে ইরান। ছবি: রয়টার্স

ইরান কি আদৌ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নিতে পারবে? আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম অংশগ্রহণকারী দল ইরান। এবারই প্রথম ৪৮ দেশকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ। তবে ইরানের অংশ নেওয়া নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে চলমান সংঘাতের কারণে।

গত শনিবার থেকে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী। তাদের হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রবল।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তবে ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মঙ্গলবার ‘পলিটিকো’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার এ ব্যাপারে কিছু যায়, আসে না। ইরান শোচনীয়ভাবে পরাজিত একটি দেশ। তারা এখন টিকে থাকার শেষ পর্যায়ে আছে।”

এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নিয়ে আয়োজিত ফিফা পরিকল্পনা সম্মেলনে একমাত্র দেশ হিসেবে অনুপস্থিত ছিল ইরান। আঞ্চলিক যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের জাতীয় দল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে খেলতে আসবে কি না, তা নিয়ে এই অনুপস্থিতি বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণের ভয়াবহতা বিশ্বকাপের পরিবেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠবে বিশ্বকাপ ফুটবলের।

গত বছর এশিয়ান বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডে ‘গ্রুপ এ’-তে শীর্ষস্থানে থেকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরান। এবারের আসরে তারা ‘গ্রুপ জি’-তে বেলজিয়াম, মিসর এবং নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। তাদের তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

মজার বিষয় হলো, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় অবস্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে, তবে ৩ জুলাই ডালাসে নক-আউট পর্বে দেশ দুটি একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে।

গত বছরের জুনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জারি করা কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দুটি দেশের একটি হলো ইরান। যদিও এই নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বকাপের খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে, তবে সরকারি কর্মকর্তা বা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওপর নির্ভর করবে।

হোয়াইট হাউস ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্সের পরিচালক অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি গত জানুয়ারিতে জানিয়েছিলেন যে, ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ইস্যুগুলোকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার তিনি পলিটিকোকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহসী পদক্ষেপের ফলে আয়তুল্লাহর অপসারণ বিশ্বের অন্যতম বড় অস্থিরতার হুমকি দূর করেছে। এটি আমেরিকানসহ ২০২৬ বিশ্বকাপে আগত লাখ লাখ দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

ইরান বিশ্বকাপ না খেলতে পারলে, সেটি হবে নজিরবিহীন ঘটনা। আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত যোগ্যতা অর্জন করা কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়েনি। তবে ইরান যদি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী অন্য কোনো দেশ তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে।

সম্পর্কিত