ads

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স
শেখ হাসিনা। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা আগামী ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। তবে তিনি দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

আজ শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা রয়টার্সকে জানান, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি তা নিজের মাটিতেই চাই, যেখানে আমার বাবা-মা সমাহিত আছেন এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।’’

দিল্লি থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আমাদের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। তাই আমি বলেছি, এবার আমি দেশে ফিরছি। একদিন আপনাদের সবাইকেও আসতে হবে। সবাই মিলে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।’’

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে বিচার শুরু হয়। শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। নির্বাসনে থাকা অবস্থায় তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরার বিষয়ে বা ফেরার সময় নিয়ে তিনি কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেননি। তবে এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার একটি সম্ভাব্য সময়সীমা উল্লেখ করেন এবং জানান, তিনিসহ নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারাও দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও রয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘ঢাকার কর্তৃপক্ষ আমাকে ফিরিয়ে নিতে চায়। আমাকে ফেরত পাঠানোর জন্য তারা বারবার ভারতকে চিঠি দিচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।’’

রয়টার্স জানায়, শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গত এপ্রিলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত অনুরোধ তারা পর্যালোচনা করছে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে রয়টার্স জানায়, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে সহিংসতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়।

সম্পর্কিত