Advertisement Banner

কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ রাখা হয়নি: গভর্নর

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ রাখা হয়নি: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ছবি: বাসস

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো ঢালাও সুযোগ রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

আজ শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা ও সমালোচনার জবাবে তিনি এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তার উদ্দেশ্য করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং সম্পদ লেনদেনকে আরও স্বচ্ছ করা।

এ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, “কোনো বিক্রেতা যদি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে তিনি প্রচলিত নিয়মে কর পরিশোধ করে সেই অর্থ বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। এটি নতুন কোনো কর অবকাশ নয়, বরং বাস্তব সমস্যার একটি সমাধান।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ফ্ল্যাট বা জমির ক্রেতাদের ক্ষেত্রেও একটি বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ক্রেতা বাজারমূল্যে সম্পত্তি কিনলেও পরে কর কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন বা হয়রানির মুখে পড়তে পারেন। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে স্বেচ্ছায় সম্পদের ঘোষণা দিয়ে নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এ বিষয়ে আর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “বাজেটে সরাসরি কালো টাকা বৈধ করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। মূলত জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচায় বিদ্যমান বাস্তবতা বিবেচনায় কিছু কর-সংক্রান্ত বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে জমির বাজারমূল্য ও মৌজা রেটের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় প্রকৃত লেনদেনমূল্য রেজিস্ট্রেশন নথিতে প্রতিফলিত হয় না। এর ফলে বিক্রেতার কাছে থাকা অর্থের উৎস নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।”

কালো টাকা সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে জমির কম মৌজা রেটের বিষয়টি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সারা দেশে জমির মৌজা রেট পর্যালোচনা করে তা বাজারমূল্যের কাছাকাছি আনার সুপারিশ করবে। মৌজা রেট ও বাজারমূল্যের ব্যবধান কমে এলে অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির সুযোগও কমে আসবে।

সিপিডিসহ বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপিত সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নয়। বরং করদাতাদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমানো এবং কর ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবসম্মত করার একটি পদক্ষেপ।

সম্পর্কিত