বাসভবনে কালো ধোঁয়া, খামেনি কি মারা গেছেন?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাসভবনে কালো ধোঁয়া, খামেনি কি মারা গেছেন?
ছবি: এয়ারবাসের সৌজন্যে

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে খামেনির সুরক্ষিত কম্পাউন্ডের ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্যবস্তু ছিল তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত খামেনির বাসভবন ও কার্যালয়, যা ‘বায়েত-ই রাহবারি’ নামে পরিচিত।

এয়ারবাস থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, খামেনির কম্পাউন্ডের ভেতর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কম্পাউন্ডের বেশ কয়েকটি ভবন সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হামলার সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ওই কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে, হামলাটি খামেনির বাসভবন এলাকাতেই হয়েছে। এ ছাড়া তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহান ও কোম শহরেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এই কম্পাউন্ডটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং এটি ইরানের শাসনব্যবস্থার মূল কেন্দ্র । গত কয়েক দশক ধরে এখান থেকেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে আসছেন খামেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে আঘাত হানা ইরানের ক্ষমতার মূলে একটি শক্তিশালী এবং সুচিন্তিত বার্তা। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি এবং ভিন্নমত দমনের কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ সরকারের ওপর অসন্তুষ্ট। এমন পরিস্থিতিতে এই হামলাটির একটি বড় প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত