প্রায় দুই দশক ধরে গাজা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার পর ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। সেই সঙ্গে উপত্যকাটির পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনকেও স্বাগত জানিয়েছে হামাস।
স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার এ ঘোষণা দেয় হামাস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গাজায় আংশিক কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিকে জোরদার করতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কিনা, প্রাথমিকভাবে তা জানা যায়নি। গাজার চলমান মানবিক সংকট থেকে উত্তরণে হামাসের এই সিদ্ধান্ত কতটুকু কাজে আসবে, তাও স্পষ্ট নয়।
সোমবার হামাসের দেওয়া বিবৃতিতে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরে প্রস্তুত থাকার কথা জানানো হয়েছে।তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি মেনে একতরফা নিরস্ত্রীকরণের কোনো প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। তাছাড়া কবে নাগাদ শাসনভার হস্তান্তর করা হবে, সেটাও জানায়নি হামাস।
হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এএফপিকে বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর সব ধরনের অজুহাত এড়াতে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন এই পদক্ষেপের কারণে উপত্যকার শাসনভার আর হামাসের হাতে থাকবে না।
‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা এনসিএজি নামে পরিচিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে শাসনভার হস্তান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে হামাস। গত বছরের অক্টোবরে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ উদ্যোগের আওতায় এনসিএজি গঠন করা হয়।
হামাসের এই ঘোষণাকে স্থবির হয়ে পড়া শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও সচল করার একটি প্রতীকী কৌশল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা এই প্রক্রিয়ার কারণে গাজার অন্তত ২১ লাখ মানুষের জন্য পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে রয়েছে। ওইসব এলাকার সীমিত সংখ্যক মানুষের জন্য পরিকল্পিত বসতি গড়ে তুলে ত্রাণ, পুনর্গঠন ও এনসিএজির প্রশাসনিক ভূমিকা সীমাবদ্ধ করার ইসরায়েল-সমর্থিত প্রস্তাবের পাল্টা জবাব দিতেই হামাস এ পদক্ষেপ নিয়েছে।