
ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গাজা সিটির ফিলিস্তিনিরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এরপর কেউ কেউ ছুটে গেছেন প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করতে। তবে তাদের কারোরই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় আর কোরবানি দেওয়া হয়নি।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এবারের ঈদুল আজহা কোনো আনন্দের বার্তা নিয়ে আসেনি, বরং তা রূপ নিয়েছে যুদ্ধের ফেলে যাওয়া এক নির্মম যন্ত্রণায়। ২০২৫ সালের চুক্তির পরও ইসরায়েলের কঠোর অবরোধ বহাল থাকায় গাজায় গবাদিপশুর বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাধারণ পশুর দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ডলারে।

যদিও ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তা সত্ত্বেও ইসরায়েলি প্রশাসন এই উপত্যকার ওপর কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এর ফলে গাজায় যেকোনো ধরনের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলায় জড়িত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান এবং তাদের প্রকাশ্য বিচার নিশ্চিত করতে একটি বিল পেশ করেছেন ইসরায়েলের বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন।

বড় বিপদ তাৎক্ষণিক যুদ্ধ নয়। বরং দুই দেশ ধীরে ধীরে একে অপরকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখছে। একবার এই ধারণা তৈরি হলে, বক্তব্য ও রাজনীতি মানুষকে সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করে। তখন ভবিষ্যতের যুদ্ধকে স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে।

নেতানিয়াহু নিজেই বলেছেন, কখনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ গর্ব করে বলেছেন, ওয়েস্ট ব্যাংকে নতুন বসতি নির্মাণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে

এই ৩৪টি নতুন বসতি বর্তমান সরকারের ২০২২ সাল থেকে অনুমোদিত ৬৮টি বসতির অতিরিক্ত। এর পাশাপাশি একই সময়ে প্রায় ২০০টি অননুমোদিত আউটপোস্ট বা অবৈধ চৌকিও স্থাপন করা হয়েছে।

ইসরায়েল তাদের পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব নিশ্চিতও করে না, আবার অস্বীকারও করে না। কার্যত, এই অস্পষ্টতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আর তা হলো, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ইসরায়েল প্রকৃতপক্ষে এগুলো ব্যবহার করবে?

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় ঐতিহ্যবাহী 'ফায়াস' উৎসবে মেতে উঠেছিলেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। গাজা ও ইরানে হা/মলার প্রতিবাদে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য পোড়ানো হয়। যুদ্ধবিরোধী বার্তার পাশাপাশি চার্লি চ্যাপলিনের ভাস্কর্যের মাধ্যমে দেওয়া হয় শান্তির বার্তা।

লেবাননে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের আগে দেশটি আগের যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে উঠতেই পারেনি।

বর্তমানে ইউরোপের আর কোনো নেতা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বাধানো ‘অন্যায় যুদ্ধে’র বিরুদ্ধে সানচেজের মতো সোচ্চায় নন। তার কণ্ঠস্বর ক্রমশ জোরালো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু অন্তত আপাতত তিনি একা।

এ বিশ্ব কতটা মানবিক হলো? দেশে দেশে যুদ্ধ ও সংঘাতে বারবার আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এমনকি যুদ্ধের বাইরে এই বাংলাদেশেও আক্রান্ত হচ্ছে শৈশব। কেন?

প্রাথমিকভাবে ইসরায়েল মন্ত্রণালয়ের মৃত্যুর সংখ্যা অবিশ্বাসযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করে। তবে ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধে ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের দেওয়া সংখ্যাকে কার্যত স্বীকার করে।

গাজায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেও রমজান ফিরেছে আশার আলো হয়ে। ভয় আর অনিশ্চয়তা সঙ্গী হলেও মানুষ খুঁজছে স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ। হাজারো প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ক্ষত বয়ে নিয়েও গাজার মানুষ রমজানকে টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে আঁকড়ে ধরেছে।

গাজায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেও রমজান ফিরেছে আশার আলো হয়ে। ভয় আর অনিশ্চয়তা সঙ্গী হলেও মানুষ খুঁজছে স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ। হাজারো প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ক্ষত বয়ে নিয়েও গাজার মানুষ রমজানকে টিকে থাকার প্রতীক হিসেবে আঁকড়ে ধরেছে।