Advertisement Banner

গুম নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অনাহুত’ বললেন জামায়াত আমির

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
গুম নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘অনাহুত’ বললেন জামায়াত আমির
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। ছবি: সংগৃহীত

সংসদে বিল পাসের কার্যক্রমের সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের গুম নিয়ে বক্তব্যকে ‘অনাহুত’ বলে আপত্তি করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধন বিল’ পাসের প্রস্তাব তোলার সময় আইনমন্ত্রী বলেন, “এটি এমন একটি বিল যে বিলের মধ্যে ক্রাইম এগেইন্স্ট হিউম্যানিটির ডেফিনেশন এর মধ্যে গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা গুমের আইন নিয়ে. আমরা গুম চাচ্ছি না, গুমের বিচার চাচ্ছি না বলছেন তাদের জন্য বলছি এই আইনটা ভালো করে পড়ে দেখবেন।”

আইনমন্ত্রী বলেন, তারা গুমকে একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রী বক্তব্যকে ‘অনাহুত’ বলে মন্তব্য করে বলেন “এই অংশটা না বললেই ভালো হত। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব।”

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে গুমের বিচার করার ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণেই সরকার এ বিষয়ে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তা তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন।

তখন স্পিকার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, “বাইরে কত লোক কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের মধ্যে আপনার বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন।”

স্পিকার বলেন, বাইরের কথা শোনার প্রয়োজন জাতীয় সংসদের এখন নাই।

দিনের শুরুতেই অবশ্য একটি বিল উত্থাপন আটকে যায়। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল, ২০২৬, রাষ্ট্রপতির সম্মতিপত্র সংসদ সচিবালয়ে না পৌঁছানোয় তা সেদিন উত্থাপিত হয়নি।

এ সময় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “অর্থ-সম্পৃক্ত বিল হওয়ায় রাষ্ট্রপতির কনকারেন্স দরকার, সেটি পাঠানো হলেও এখনো সচিবালয়ে এসে পৌঁছেনি।”

স্পিকারও বলেন, এ ধরনের বিলে রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রয়োজন, তা পৌঁছালে যথাসময়ে বিলটি উত্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার পাস হওয়া বিলগুলোর কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। ফলে বিলগুলোর ওপর আলাদা আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপন, অবিলম্বে বিবেচনা এবং পাসের প্রস্তাব দিলে সেগুলো কণ্ঠভোটে গ্রহণ করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইন করতে এসব বিল আনা হয়। সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করেছিল।

বাকি ২০টির মধ্যে চারটি রহিত করা এবং ১৬টি পরে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

এদিন পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, এবং রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল।

সম্পর্কিত