ads

টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, পানিতে ডুবল আমদানিপণ্য

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
টানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরে জলাবদ্ধতা, পানিতে ডুবল আমদানিপণ্য
বেনাপোল স্থলবন্দরের টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: ইউএনবি

বেনাপোল স্থলবন্দরের টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে একাধিক গুদামে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্য আংশিকভাবে ডুবে গেছে।

বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এ অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি গুদামে পানি ঢুকে পড়ে। কোনো কোনো স্থানে হাঁটুসমান পানি জমেছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমে থাকা পানি অপসারণের চেষ্টা করছে। আজ শনিবার বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও বন্দর ব্যবহারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, গুদাম, ইয়ার্ড ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে শত শত কোটি টাকার আমদানিপণ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

তাদের দাবি, স্থানীয় অংশীজনেরা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবস্থাপনাগত নানা দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গত কয়েক বছরে পণ্য নষ্ট হয়ে প্রায় ১০০ জন আমদানিকারক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পণ্যের কোনো বীমা না থাকায় তারা ক্ষতিপূরণও পাননি।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গঠিত একটি কমিটিও কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

ব্যবসায়ী আবদুল আলীম বলেন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বন্দরের ভেতরে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন গুদামে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ায় আমদানিকারকদের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, “প্রতিবছরই বন্দর ব্যবহারের বিভিন্ন ফি বাড়ানো হচ্ছে, কিন্তু সেই তুলনায় অবকাঠামোর কোনো উন্নতি নেই। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া অধিকাংশ স্থাপনা নির্মাণ করায় বর্ষা এলেই একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।”

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক অনু বলেন, অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবই এ সমস্যার মূল কারণ।

তিনি বলেন, বেনাপোল কাস্টমসের মাধ্যমে সরকার বছরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে। এত বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও বছরের পর বছর একই সমস্যায় থেকে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

তার অভিযোগ, বৃষ্টির পানিতে আমদানিপণ্য নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কর্তৃপক্ষের সাড়া মেলেনি।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি গুদামে পানি ঢুকে কিছু আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমে থাকা পানি সরাতে সেচ পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে পানি অপসারণের কাজ ধীরগতিতে চলছে।

সম্পর্কিত