Advertisement Banner

ইরানকে টেক্কা দিতে এবার ৩-৪ হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরানকে টেক্কা দিতে এবার ৩-৪ হাজার সেনা পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
ইরানে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি চৌকস টিম পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকার সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। পেন্টাগন শিগগিরই মার্কিন সেনাবাহিনীর চৌকস ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে প্রায় ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার সৈন্য ওই অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বর্তমানে নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থানরত এই সৈন্যরা যে কোনো আদেশের মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে মোতায়েন হতে সক্ষম। মূলত প্যারাশুট হামলার মাধ্যমে দ্রুত শত্রু অঞ্চলে অনুপ্রবেশে এই বাহিনী বিশেষভাবে পারদর্শী। এই মোতায়েনের ফলে ইরানের ভূখণ্ডের ভেতরে স্থল অভিযান বা উপকূলীয় অঞ্চল দখলের মতো কঠিন বিকল্পগুলো মার্কিন সামরিক বাহিনীর নাগালে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি তেহরানের সঙ্গে একটি ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার কথা উল্লেখ করে ইরানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। এমন এক সময়ে নতুন এই সৈন্য মোতায়েনের খবর এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর আগে গত ২০ মার্চ শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সারে করে হাজার হাজার নৌসেনা ও নাবিককে ওই অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-বিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ইরানের ভেতরে ৯,০০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ২৯০ জন আহত হয়েছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পেন্টাগন বর্তমানে ইরানের তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখল এবং হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করার মতো পরিকল্পনাগুলো নিয়ে কাজ করছে।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে, তবে মার্কিন রাজনীতিতে এটি বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। সম্প্রতি রয়টার্স ও ইপসোসের করা এক যৌথ জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ শতাংশ আমেরিকান ইরানের ওপর হামলার সমর্থন করছেন, যেখানে ৬১ শতাংশ নাগরিক এর বিপক্ষে। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ থেকে দূরে রাখা, যা বর্তমান পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে। তবে ইরানের ভেতরে সরাসরি প্রবেশের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

সম্পর্কিত