Advertisement Banner

নাজমুল-লিটনের ব্যাটে চেপে ২৬৫ রানে থামল বাংলাদেশ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
নাজমুল-লিটনের ব্যাটে চেপে ২৬৫ রানে থামল বাংলাদেশ
১৬০ রানের জুটিতে নাজমুল-লিটন। ছবি: বিসিবি

নাজমুল হোসেন ও লিটন দাসের জুটি তখনও একশ স্পর্শ করেনি। টেলিভিশনের পর্দায় রিপ্লেতে দেখানো হল, কমপক্ষে পাঁচবার ক্রিজে এই দুজনের মাঝে দারুণ বোঝাপড়ার কারণে রান-আউট হয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এর আগে এমন ব্যাটিং দেখা যেত সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের জুটিতে। তাদের অধ্যায় পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ও লিটন, যারা এই দলের অন্যতম দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারও। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রচণ্ড গরমেও তাদের ব্যাটিংয়ের উত্তাপই পথ দেখাল স্বাগতিকদের।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে এই দুজনকে ব্যাট করতে হয়েছে এক ধাপ নেমে, অর্থাৎ চার ও পাঁচে। টিম কম্বিনেশনের কারণেই মূলত এই সিদ্ধান্ত। তবে পজিশন বদল করাটা তাদের ব্যাটিংয়ে ইতিবাচক ফলাফলই বয়ে এনেছে। নাজমুল আগের ম্যাচে করেছিলেন ফিফটি। সেই ফর্মটা ধরে রাখার দায়িত্ব নিয়ে যখন নামেন, ততক্ষণে সাজঘরের পথ ধরেছেন দুই ওপেনারই।

ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইলিয়াম ও’রউর্কের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। আগের ম্যাচে দারুণ এক ইনিংস খেলা তানজিদ হাসান এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছিলেন নড়বড়ে। তার প্রতিফলন হয় তার আউটেও। ও’রউর্কের বলে শট করবেন না ছেড়ে দেবেন, এই সিদ্ধান্তহীনতায় হয়ে যান বোল্ড। তিন বাউন্ডারিতে ১৮ রান করা সৌম্য সরকার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হতাশ করেন দলকে। উইকেটে বিলিয়ে দিয়ে আসেন ও’রউর্ককেই। তিনিও অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে নেন স্টাম্পে।

উইকেটে যথেষ্ট ব্যাটিং-সহায়ক হওয়ার পরও মাত্র ৩৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই তাই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নিয়ে লিটনকে সঙ্গে নিয়ে ধীরগতিতে এগিয়ে যান শান্ত। সিঙ্গেলস ও ডাবলসের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়ে জুটি গড়েন তারা।

সেঞ্চুরি করে নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: বিসিবি
সেঞ্চুরি করে নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: বিসিবি

হাঁসফাঁস করা গরমেও দুজন চমৎকার বোঝাপড়া বজায় রেখে রানের চাকা সচল রাখেন বড় শট না খেলেও। নাজমুল তাও কিছুটা ঝুঁকি নিয়েছেন। তবে প্রায় গোটা ইনিংসেই সাবধানী ব্যাটিং করেছেন লিটন। তবে সেই চাপটা জেঁকে বসতে দেননি শান্ত। প্রায় ৯০ স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে তুলে নেন সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি।

নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে মাঝের ওভারে বেশ হিসেবী একটি স্পেল করেন পেসার মোহাম্মদ আব্বাস। রানের গতি তাতে কিছুটা কমে যায়। ও’রউর্কের ফিরতি স্পেলে পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির আশা জাগান লিটন। তবে অতি আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে ডেকে আনেন বিপদ। পরের ওভারেই জেডেন লেনক্সকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বোল্ড হন ৭৬ রানে। ইতি ঘটে ১৬০ রানের জুটি।

শান্ত অবশ্য সেঞ্চুরি মিস করেননি। তবে নব্বই থেকে একশতে পা রাখার পথে ক্লান্তি ধরে যায় তাকে। ফলে তিন অঙ্কের ঘরে যাওয়ার পরই বিদায় নেন ১০৫ রানে। তখনও বাকি সাত ওভার। অনায়াসেই তিনশ রানের আশা করা গেলেও শেষ পর্যন্ত ধারেকাছেও যেতে পারেনি বাংলাদেশ।

শেষের দিকের ব্যাটসম্যানদের হতাশার মাঝেও তাওহীদ হৃদয় (৩৩*) কার্যকরী একটি ইনিংস খেলেন, যা বাংলাদেশকে পৌঁছে দেয় ৮ উইকেটে ২৬৫ রানে।

সম্পর্কিত