চরচা ডেস্ক

ডিসেম্বরে বেশ ব্যস্ত থাকেন ঘানার ভবিষ্যৎদ্রষ্টারা। তখন নতুন বছরকে সামনে রেখে যাজকরা তাদের অনুসারীদের ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আর এক্ষেত্রে তারা একপ্রকার অস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যার আসলে অনেকগুলো অর্থ হতে পারে কিংবা অস্বীকার করাও সহজ হয়। অথবা এগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়।
এ ছাড়া ভবিষ্যদ্বাণীর সংখ্যা বেশি হওয়াটাও একটি কৌশল হিসেবে কাজ করে। অনেক কিছু অনুমান করলে অন্তত একটি তো সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
তবে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২৫ সালে ঘানার এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টাদের কার্যক্রম অস্বাভাবিক মাত্রায় নজরদারির মুখে পড়েছে। গত আগস্টে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দেশটির প্রতিরক্ষা ও পরিবেশ মন্ত্রীসহ আরও ছয়জন নিহত হন। এই ঘটনার পরপরই টিকটকে বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনার আগে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, যাজকরা একটি বিমান দুর্ঘটনার আভাস পাওয়ার দাবি করছেন।
প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘানাবাসী রাজনীতিতে দৈব হস্তক্ষেপ সমর্থন করেন। ফলে টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো জনমনে এতটাই উদ্বেগ সৃষ্টি করে যে, সরকার শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
এরই জেরে আন্তঃধর্মীয় এবং গির্জা বিষয়ক বিশেষ রাষ্ট্রীয় দূত এলভিস আনক্রাহ সংবেদনশীল ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর জন্য একটি রিপোর্টিং ব্যবস্থা বা বিশেষ সেল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে এ ধরণের ভবিষ্যদ্বাণী যদি কেউ করে, তাহলে তা পর্যালোচনার জন্য সরাসরি তার দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আশির দশকে পেন্টেকোস্টালিজম শিকড় গাড়ার পর থেকেই ঘানার জনজীবনে ক্যারিশম্যাটিক প্রভাব রীতিমতো খুবই বেড়ে গেছে। পেন্টেকোস্টালিজম হচ্ছে খ্রিষ্টধর্মের প্রটেস্ট্যান্ট শাখার এক ধরনের মতবাদ, এই মতবাদের অনুসারীরা পবিত্র আত্মার সরাসরি উপস্থিতি, অলৌকিক ক্ষমতা, আধ্যাত্মিক উপহার (যেমন ভিন্ন ভাষায় কথা বলা) এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ জোর দেয়।
তবে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ধর্মপ্রচারক ও ভবিষ্যৎদ্রষ্টাদের এই প্রভাবের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদের দাবিগুলোও হয়ে উঠেছে আরও অদ্ভুত ও নাটকীয়। পুরোনো ধারার ধর্মযাজকরা ভবিষ্যদ্বাণীর গুণগত মান নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। একজন প্রবীণ রেভারেন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তরুণ যাজকরা এখন জনপ্রিয় হওয়ার নেশায় যা খুশি তাই বলে বেড়ান।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যেসব ভবিষ্যৎদ্রষ্টা তাদের করা পূর্বাভাসের সত্যতা প্রমাণ করতে পারবেন না, তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে অপপ্রচার ঠেকানোর যে বৃহত্তর প্রচেষ্টা চলছে, এই সেল গঠনের ব্যবস্থা আসলে তারই অংশ।
সম্প্রতি পাস হওয়া একটি বিলের লক্ষ্যও ঠিক এটিই বলে দাবি করা হচ্ছে, যেখানে ঘৃণা ছড়ানোর সংজ্ঞাকে এতটাই বিস্তৃত করা হয়েছে যে, নেতিবাচক অনুভূতি ছড়ানোও এর আওতায় পড়ে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সরকার মূলত নিজেদের বিরোধিতা দমনের চেষ্টা করবে।
অন্যদিকে, আনক্রাহ বেশ আত্মবিশ্বাসী যে, তার এই তদারকি ব্যবস্থার ফলে অনলাইন ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মান উন্নত হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন, এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে ঘানাবাসীরা পর্যালোচনার জন্য তার কাছে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী পাঠিয়েছেন, সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বা আজেবাজে কথা।
দ্য ইকোনোমিস্টের নিবন্ধ থেকে অনুবাদ করে প্রকাশিত

ডিসেম্বরে বেশ ব্যস্ত থাকেন ঘানার ভবিষ্যৎদ্রষ্টারা। তখন নতুন বছরকে সামনে রেখে যাজকরা তাদের অনুসারীদের ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য মুখিয়ে থাকেন। আর এক্ষেত্রে তারা একপ্রকার অস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী করেন, যার আসলে অনেকগুলো অর্থ হতে পারে কিংবা অস্বীকার করাও সহজ হয়। অথবা এগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়।
এ ছাড়া ভবিষ্যদ্বাণীর সংখ্যা বেশি হওয়াটাও একটি কৌশল হিসেবে কাজ করে। অনেক কিছু অনুমান করলে অন্তত একটি তো সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
তবে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০২৫ সালে ঘানার এই ভবিষ্যৎদ্রষ্টাদের কার্যক্রম অস্বাভাবিক মাত্রায় নজরদারির মুখে পড়েছে। গত আগস্টে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দেশটির প্রতিরক্ষা ও পরিবেশ মন্ত্রীসহ আরও ছয়জন নিহত হন। এই ঘটনার পরপরই টিকটকে বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনার আগে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, যাজকরা একটি বিমান দুর্ঘটনার আভাস পাওয়ার দাবি করছেন।
প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘানাবাসী রাজনীতিতে দৈব হস্তক্ষেপ সমর্থন করেন। ফলে টিকটকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো জনমনে এতটাই উদ্বেগ সৃষ্টি করে যে, সরকার শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
এরই জেরে আন্তঃধর্মীয় এবং গির্জা বিষয়ক বিশেষ রাষ্ট্রীয় দূত এলভিস আনক্রাহ সংবেদনশীল ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর জন্য একটি রিপোর্টিং ব্যবস্থা বা বিশেষ সেল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন থেকে এ ধরণের ভবিষ্যদ্বাণী যদি কেউ করে, তাহলে তা পর্যালোচনার জন্য সরাসরি তার দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আশির দশকে পেন্টেকোস্টালিজম শিকড় গাড়ার পর থেকেই ঘানার জনজীবনে ক্যারিশম্যাটিক প্রভাব রীতিমতো খুবই বেড়ে গেছে। পেন্টেকোস্টালিজম হচ্ছে খ্রিষ্টধর্মের প্রটেস্ট্যান্ট শাখার এক ধরনের মতবাদ, এই মতবাদের অনুসারীরা পবিত্র আত্মার সরাসরি উপস্থিতি, অলৌকিক ক্ষমতা, আধ্যাত্মিক উপহার (যেমন ভিন্ন ভাষায় কথা বলা) এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর বিশেষ জোর দেয়।
তবে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ধর্মপ্রচারক ও ভবিষ্যৎদ্রষ্টাদের এই প্রভাবের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদের দাবিগুলোও হয়ে উঠেছে আরও অদ্ভুত ও নাটকীয়। পুরোনো ধারার ধর্মযাজকরা ভবিষ্যদ্বাণীর গুণগত মান নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। একজন প্রবীণ রেভারেন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তরুণ যাজকরা এখন জনপ্রিয় হওয়ার নেশায় যা খুশি তাই বলে বেড়ান।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশও কঠোর অবস্থান নিয়েছে, যেসব ভবিষ্যৎদ্রষ্টা তাদের করা পূর্বাভাসের সত্যতা প্রমাণ করতে পারবেন না, তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে অপপ্রচার ঠেকানোর যে বৃহত্তর প্রচেষ্টা চলছে, এই সেল গঠনের ব্যবস্থা আসলে তারই অংশ।
সম্প্রতি পাস হওয়া একটি বিলের লক্ষ্যও ঠিক এটিই বলে দাবি করা হচ্ছে, যেখানে ঘৃণা ছড়ানোর সংজ্ঞাকে এতটাই বিস্তৃত করা হয়েছে যে, নেতিবাচক অনুভূতি ছড়ানোও এর আওতায় পড়ে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সরকার মূলত নিজেদের বিরোধিতা দমনের চেষ্টা করবে।
অন্যদিকে, আনক্রাহ বেশ আত্মবিশ্বাসী যে, তার এই তদারকি ব্যবস্থার ফলে অনলাইন ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মান উন্নত হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেছেন, এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে ঘানাবাসীরা পর্যালোচনার জন্য তার কাছে যেসব ভবিষ্যদ্বাণী পাঠিয়েছেন, সেগুলোর বেশিরভাগই ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বা আজেবাজে কথা।
দ্য ইকোনোমিস্টের নিবন্ধ থেকে অনুবাদ করে প্রকাশিত