নাইর ইকবাল

গত ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটা বেশিরভাগ সময়ই দুই নেত্রীর দখলে থেকেছে। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা পালা করেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৫ বছর টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা। চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তার পতন হয়েছে, তিনি এখন ভারতে আশ্রিত। খালেদা জিয়ার জীবনাবসান হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহু বছর পর দুই নেত্রীর কেউই ছিলেন না। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশ এখন অপেক্ষায় নতুন একজন প্রধানমন্ত্রীর। ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসনে কাটানো তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন সেই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তিনি দেশের কততম প্রধানমন্ত্রী? খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার বাইরে আর কারা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারেরও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭২ সালে তাজউদ্দীন ২১ দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল প্রবাসী সরকার গঠিত হয়েছিল। সে হিসেবে তাজউদ্দীন ২৭০ দিনের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর তাজউদ্দীন হয়ে যান অর্থমন্ত্রী, শেখ মুজিব শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৭৩ সালে দেশে অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদ নির্বাচনে ২৯৩ আসনে জয়ী আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে আবারও প্রধানমন্ত্রিত্বের শপথ নেন মুজিব। বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা দিয়ে।
১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিব চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেশে এক দলীয় বাকশাল ব্যবস্থা চালু করেন। সেই ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির। শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী থেকে হয়ে যান রাষ্ট্রপতি। দেশে বিলুপ্ত হয় সব রাজনৈতিক দল। তবে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার আগেই ১৫ আগস্ট এক সেনা অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থায় ব্যবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। তিনি অবশ্য খুব বেশিদিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারেননি। খন্দকার মোশতাক মুজিব হত্যার পর তিন মাসের মতো রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি কাউকেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৮ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত দেশে প্রধানমন্ত্রীর পদটি শূন্য ছিল।

১৯৭৫ এর নভেম্বর থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত দেশে সামরিক আইন জারি ছিল। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করলে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হন। একই বছর গণভোটের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপতি ও সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট অর্জন করেন। ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনী প্রধানের পদ থেকে অবসরে যান জিয়া। সে বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিতে তিনি দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন। সামরিক শাসন থেকে তিনি বেসামরিক শাসনে দেশকে নিয়ে যান নিজের রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করে। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাজনীতিবিদ মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে জিয়ার দল বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা শাহ আজিজুর রহমান এরপর প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮১ সালে জিয়া হত্যার পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সময়ও শাহ আজিজ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮১ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাত্তার বিজয়ী হলে যে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, শাহ আজিজ সেটিতেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করেন, সাত্তার সরকারকে উৎখাত করে। এরশাদ ১৯৮৬ পর্যন্ত সামরিক শাসন দিয়ে দেশ চালান। তিনিও ১৯৮৫ সালের মার্চে গণভোটের মাধ্যমে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ চালানোর ম্যান্ডেট অর্জন করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত দেশে কোনো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। ১৯৮৪ সালের ৩০ মার্চ প্রবীণ রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ দেন এরশাদ। তবে আতাউর রহমান খান সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিনা, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। তিনি ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এরশাদ জিয়ার মতোই সামরিক শাসন থেকে বেসামরিক শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে যান দেশকে নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করে। ১৯৮৬ সালের মে মাসে দেশে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জাতীয় পার্টির ১৫৩ সদস্যের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান চৌধুরী। তাঁকেই এরশাদ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৮৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে এরশাদ তৃতীয় সংসদ ভেঙে দিলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিজান চৌধুরীর কালও শেষ হয়। ১৯৮৮ সালের মার্চে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ২৫৩ আসনে জয় পায়। সেবার জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন মওদুদ আহমেদ। তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এরশাদ। ১৯৮৯ সালে এরশাদ মওদুদকে দেশের উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিলে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন কাজী জাফর আহমেদ। তিনি হন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতন হয়। পদত্যাগের আগে এরশাদ চতুর্থ সংসদ ভেঙে দেন। কাজী জাফর ছিলেন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত দেশের শেষ প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। খালেদা জিয়া হন প্রধানমন্ত্রী। তবে খালেদা জিয়া সে সময় সাংবিধানিকভাবে দেশের নির্বাহী প্রধান ছিলেন না। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও সাংবিধানিকভাবে দেশ তখনও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের অধীনে। এরশাদ পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের আগস্টে দ্বাদশ সংশোধনী পাশ করে দেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় ফেরে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে এক গণভোটের মাধ্যমে সংশোধনীর পক্ষে জন মানুষের ম্যান্ডেটও নেওয়া হয়। শপথের ৭ মাস পর ১৯৯১ সালের অক্টোবর থেকে সাংবিধানিকভাবে দেশের সরকার প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার শাসনকাল শুরু হয়।
খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের ইতিহাসেন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৮ আসনে জেতে বিএনপি। খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। যদিও ষষ্ঠ সংসদ ১৩ দিন স্থায়ী ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে ভেঙে দেওয়া হয় ষষ্ঠ সংসদ। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০১ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর পদে ফেরেন এরপর। খালেদা জিয়া তিন মেয়াদে ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ ও ২০০১–এর ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে জিতে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এরপর হাসিনা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী থেকে যান আরও ১৫ বছর। প্রথমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবার শপথ নিয়ে তিনি ছিলেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২১০ আসনে জয়ী বিএনপির প্রধান হিসেবে তারেক রহমানই যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। সে হিসেবে তিনি হতে যাচ্ছেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু হয়েছিল নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। সংবিধান অনুযায়ী তিন মাস ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ। সে সরকারের প্রধান পরিচিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে। তবে তিনি তিনমাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বই পালন করেছেন। বিচারপতি হাবিবুর রহমান ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম প্রধান উপদেষ্টা। এরপর ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমান তিন মাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০০৬ সালে আরও একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ঠিক আগে দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। সেই বিতর্কে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে বিচারপতি কেএম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে অপারগতা জানান (সংবিধান অনুযায়ী কেএম হাসানেরই প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কথা ছিল। তিনি ছিলেন সর্বশেষ অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি)। সেই সময় একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সেনা হস্তক্ষেপ হয়। দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। সে সময় ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রায় দুই বছর দেশ চালান। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ ১৫ বছর দেশ চালানোর পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনে কেঁপে ওঠে দেশ। ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসনের পর শেখ হাসিনার পতন হয় সেই আন্দোলনে। এর আগে ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধয়াক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে হাসিনা সরকার। হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৭ সালের মতোই ইউনূসের অরাজনৈতিক সরকার ১৮ মাসের মতো দেশ পরিচালনা করে নির্বাচন দিয়েছেন। বিএনপির বিজয়ে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্ব শুরু হবে শিগগিরই। শেষ হবে ইউনূস সরকারের কাল। দুইজন তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাংবিধানিকভাবেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, ফখরুদ্দিন আহমেদ ও মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশেষ পরিস্থিতিতে। তবে ‘প্রধানমন্ত্রী’র নামে পদ নিয়ে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, ইতিহাসে তাদের জায়গা আলাদাই। তারেক রহমান হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের সেই দলেরই অংশ। দেশের ১২তম প্রধানমন্ত্রী।
এখন আপাতত অপেক্ষা!

গত ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটা বেশিরভাগ সময়ই দুই নেত্রীর দখলে থেকেছে। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা পালা করেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব সামলেছেন। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ১৫ বছর টানা প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্বে ছিলেন শেখ হাসিনা। চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তার পতন হয়েছে, তিনি এখন ভারতে আশ্রিত। খালেদা জিয়ার জীবনাবসান হয়েছে গত ৩০ ডিসেম্বর। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহু বছর পর দুই নেত্রীর কেউই ছিলেন না। বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশ এখন অপেক্ষায় নতুন একজন প্রধানমন্ত্রীর। ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসনে কাটানো তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন সেই প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তিনি দেশের কততম প্রধানমন্ত্রী? খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার বাইরে আর কারা দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারেরও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৭২ সালে তাজউদ্দীন ২১ দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল প্রবাসী সরকার গঠিত হয়েছিল। সে হিসেবে তাজউদ্দীন ২৭০ দিনের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১০ জানুয়ারি দেশে ফেরার পর তাজউদ্দীন হয়ে যান অর্থমন্ত্রী, শেখ মুজিব শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। ১৯৭৩ সালে দেশে অনুষ্ঠিত প্রথম সংসদ নির্বাচনে ২৯৩ আসনে জয়ী আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে আবারও প্রধানমন্ত্রিত্বের শপথ নেন মুজিব। বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা দিয়ে।
১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিব চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দেশে এক দলীয় বাকশাল ব্যবস্থা চালু করেন। সেই ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির। শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী থেকে হয়ে যান রাষ্ট্রপতি। দেশে বিলুপ্ত হয় সব রাজনৈতিক দল। তবে সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করার আগেই ১৫ আগস্ট এক সেনা অভ্যুত্থানে সপরিবারে নিহত হন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থায় ব্যবস্থায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এম মনসুর আলী। তিনি অবশ্য খুব বেশিদিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারেননি। খন্দকার মোশতাক মুজিব হত্যার পর তিন মাসের মতো রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি কাউকেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেননি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৮ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত দেশে প্রধানমন্ত্রীর পদটি শূন্য ছিল।

১৯৭৫ এর নভেম্বর থেকে ১৯৭৯ পর্যন্ত দেশে সামরিক আইন জারি ছিল। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করলে উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হন। একই বছর গণভোটের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রপতি ও সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ পরিচালনার ম্যান্ডেট অর্জন করেন। ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনী প্রধানের পদ থেকে অবসরে যান জিয়া। সে বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিতে তিনি দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হন। সামরিক শাসন থেকে তিনি বেসামরিক শাসনে দেশকে নিয়ে যান নিজের রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করে। নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন রাজনীতিবিদ মশিউর রহমান যাদু মিয়াকে। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে জিয়ার দল বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা শাহ আজিজুর রহমান এরপর প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮১ সালে জিয়া হত্যার পর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের সময়ও শাহ আজিজ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮১ সালের নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সাত্তার বিজয়ী হলে যে মন্ত্রিসভা গঠন করেন, শাহ আজিজ সেটিতেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক আইন জারি করেন, সাত্তার সরকারকে উৎখাত করে। এরশাদ ১৯৮৬ পর্যন্ত সামরিক শাসন দিয়ে দেশ চালান। তিনিও ১৯৮৫ সালের মার্চে গণভোটের মাধ্যমে একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দেশ চালানোর ম্যান্ডেট অর্জন করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত দেশে কোনো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। ১৯৮৪ সালের ৩০ মার্চ প্রবীণ রাজনীতিবিদ আতাউর রহমান খানকে প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ দেন এরশাদ। তবে আতাউর রহমান খান সরাসরি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কিনা, তা নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি আছে। তিনি ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
এরশাদ জিয়ার মতোই সামরিক শাসন থেকে বেসামরিক শাসন ব্যবস্থায় নিয়ে যান দেশকে নিজের রাজনৈতিক দল গঠন করে। ১৯৮৬ সালের মে মাসে দেশে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জাতীয় পার্টির ১৫৩ সদস্যের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান চৌধুরী। তাঁকেই এরশাদ প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
১৯৮৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে এরশাদ তৃতীয় সংসদ ভেঙে দিলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিজান চৌধুরীর কালও শেষ হয়। ১৯৮৮ সালের মার্চে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ২৫৩ আসনে জয় পায়। সেবার জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন মওদুদ আহমেদ। তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন এরশাদ। ১৯৮৯ সালে এরশাদ মওদুদকে দেশের উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিলে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হন কাজী জাফর আহমেদ। তিনি হন দেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতন হয়। পদত্যাগের আগে এরশাদ চতুর্থ সংসদ ভেঙে দেন। কাজী জাফর ছিলেন রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত দেশের শেষ প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। খালেদা জিয়া হন প্রধানমন্ত্রী। তবে খালেদা জিয়া সে সময় সাংবিধানিকভাবে দেশের নির্বাহী প্রধান ছিলেন না। ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেও সাংবিধানিকভাবে দেশ তখনও রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের অধীনে। এরশাদ পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। ১৯৯১ সালের আগস্টে দ্বাদশ সংশোধনী পাশ করে দেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় ফেরে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে এক গণভোটের মাধ্যমে সংশোধনীর পক্ষে জন মানুষের ম্যান্ডেটও নেওয়া হয়। শপথের ৭ মাস পর ১৯৯১ সালের অক্টোবর থেকে সাংবিধানিকভাবে দেশের সরকার প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার শাসনকাল শুরু হয়।
খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের ইতিহাসেন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৭৮ আসনে জেতে বিএনপি। খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। যদিও ষষ্ঠ সংসদ ১৩ দিন স্থায়ী ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করে ভেঙে দেওয়া হয় ষষ্ঠ সংসদ। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০১ নির্বাচনে জয়ী বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর পদে ফেরেন এরপর। খালেদা জিয়া তিন মেয়াদে ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ ও ২০০১–এর ১০ অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে জিতে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এরপর হাসিনা ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন করে প্রধানমন্ত্রী থেকে যান আরও ১৫ বছর। প্রথমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন থেকে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবার শপথ নিয়ে তিনি ছিলেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ২১০ আসনে জয়ী বিএনপির প্রধান হিসেবে তারেক রহমানই যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। সে হিসেবে তিনি হতে যাচ্ছেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৬ সালে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। অন্তর্বর্তীকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু হয়েছিল নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য। সংবিধান অনুযায়ী তিন মাস ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ। সে সরকারের প্রধান পরিচিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে। তবে তিনি তিনমাস প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বই পালন করেছেন। বিচারপতি হাবিবুর রহমান ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথম প্রধান উপদেষ্টা। এরপর ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমান তিন মাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

২০০৬ সালে আরও একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ঠিক আগে দিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। সেই বিতর্কে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠলে বিচারপতি কেএম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে অপারগতা জানান (সংবিধান অনুযায়ী কেএম হাসানেরই প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার কথা ছিল। তিনি ছিলেন সর্বশেষ অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি)। সেই সময় একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই সেনা হস্তক্ষেপ হয়। দেশে জারি হয় জরুরি অবস্থা। সে সময় ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রায় দুই বছর দেশ চালান। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।
আওয়ামী লীগ ১৫ বছর দেশ চালানোর পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনে কেঁপে ওঠে দেশ। ১৫ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসনের পর শেখ হাসিনার পতন হয় সেই আন্দোলনে। এর আগে ২০১১ সালে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধয়াক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে হাসিনা সরকার। হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মুহাম্মদ ইউনূস। ২০০৭ সালের মতোই ইউনূসের অরাজনৈতিক সরকার ১৮ মাসের মতো দেশ পরিচালনা করে নির্বাচন দিয়েছেন। বিএনপির বিজয়ে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রিত্ব শুরু হবে শিগগিরই। শেষ হবে ইউনূস সরকারের কাল। দুইজন তিন মাসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সাংবিধানিকভাবেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে ইয়াজউদ্দিন আহমেদ, ফখরুদ্দিন আহমেদ ও মুহাম্মদ ইউনূস দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিশেষ পরিস্থিতিতে। তবে ‘প্রধানমন্ত্রী’র নামে পদ নিয়ে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, ইতিহাসে তাদের জায়গা আলাদাই। তারেক রহমান হতে যাচ্ছেন ইতিহাসের সেই দলেরই অংশ। দেশের ১২তম প্রধানমন্ত্রী।
এখন আপাতত অপেক্ষা!