রোববার গভীর রাতে পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ৬.০ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। নানগারহার ও কুনার প্রদেশসহ আশপাশের এলাকায় অন্তত আট শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ।
আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম রেডিও টেলিভিশন আফগানিস্তান (আরটিএ) জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নানগারহার প্রদেশের জালালাবাদ শহর থেকে ২৭ কিমি দূরে এবং এর গভীরতা মাত্র ৮ কি.মি; যা অগভীর হওয়ায় ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া তালেবান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু এই একটি উপত্যকাতেই 'শত শত মানুষ' হতাহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূপৃষ্ঠের নিচে থাকা টেকটোনিক প্লেটগুলো হঠাৎ নড়াচড়া করলে ভূমিকম্প হয়। প্লেটগুলো পরস্পরের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ওই জায়গায় ফাটল তৈরি হয়, যেগুলোকে ফল্ট লাইন বলা হয়। আফগানিস্তান ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা দেশ। কারণ এটি একাধিক ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেট আফগানিস্তানে মিলিত হয়েছে।
২০২২ সালে পূর্ব আফগানিস্তানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ১ হাজারের বেশি নিহত হন, আর ২০২৩ সালে ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।
ভূমিকম্পের মাত্রা মধ্যমান হলেও এটির কেন্দ্রস্থল অগভীর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়। আফগানিস্তানের দুর্বণ অবকাঠামোও ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার বড় কারণ। আফগানিস্তানের বেশিরভাগ ভবন কাঠ, কাঁচা ইট বা দুর্বল কংক্রিট দিয়ে তৈরি, যা ভূমিকম্প সহনশীল নয়। পার্বত্য এলাকার ভূমিধসও ব্যাপক ক্ষতি ঘটায়। এতে ঘরবাড়ি ধসে পড়ে, নদীর প্রবাহ বন্ধ হয় এবং রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দূরবর্তী এলাকায় উদ্ধারকর্মী ও সরঞ্জাম পাঠানো কঠিন হয়ে ওঠে।
বৃষ্টি, তুষার, কুয়াশা এবং তীব্র শীতের মতো প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আফগানিস্তানে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ।