Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

বন্দি বিনিময় চুক্তি শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরাতে পারবে?

সামদানী হক নাজুম

সামদানী হক নাজুম

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৭: ৪৪
বন্দি বিনিময় চুক্তি শেখ হাসিনা-কামালকে ফেরাতে পারবে?

জুলাই গণ অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এখন দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামাল ভারতে আছেন। গণ অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুতির পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ডিসেম্বরেই বিচারের জন্য শেখ হাসিনাকে ফের চেয়ে ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়। যদিও ভারত তাতে সাড়া দেয়নি।

তবে এখন যেহেতু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে সাজা দিয়েছে, তাই দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দুজনকে ফেরত চাইতে বাংলাদেশ আইনগত বৈধতা পেলো। এখন দেখার শেখ হাসিনা সরকারের আমলে আবদ্ধ হওয়া চুক্তির শর্ত মেনে তাদের বাংলাদেশে ফেরত দেয় কিনা ভারত সরকার।

যা আছে ভারত-বাংলাদেশের বন্দি বিনিময় চুক্তিতে

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ এক্সট্রাডিশন ট্রিটি নামে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি এই প্রত্যর্পণ চুক্তি সই হয়, যা ২০১৬ সালে সংশোধিত হয়। এ চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পলাতক আসামিদের দ্রুত এবং সহজে বিনিময়ের জন্য করা হয়।

চুক্তির ভূমিকায় বলা হয়, অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে দুই দেশের সহযোগিতা আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এবং অপরাধীদের পারস্পরিক বহিঃসমর্পণের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নিম্নোক্ত বিষয়ে ভারত-বাংলাদেশ একমত হল।

আর্টিকেল ১: বহিঃসমর্পনের বাধ্যবাধকতা

# এক পক্ষের ভূখণ্ডে অবস্থানরত এমন ব্যক্তিকে-যার বিরুদ্ধে অপর পক্ষের বিচারিক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ এনেছে, মামলা দায়ের করেছে, অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে, বা দণ্ড কার্যকর করার জন্য যাকে খুঁজছে-এই চুক্তির বিধান অনুযায়ী অপরাধী বহিঃসমর্পণযোগ্য হলে উভয় পক্ষ একে অপরকে বহিঃসমর্পণ করতে সম্মত হলো।

# অনুরোধকারী রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের বাইরে সংঘটিত বহিঃসমর্পণযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রেও যদি অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের আইনে একই পরিস্থিতিতে সেই অপরাধ শাস্তিযোগ্য হয়, তাহলে এই চুক্তির বিধান সাপেক্ষে বহিঃসমর্পণ করা হবে।

শেখ হাসিনা ও কামালের বিচার ন্যায়সংগত হয়নি: অ্যামনেস্টিSheikh hasina AI

আর্টিকেল ২: বহিঃসমর্পণযোগ্য অপরাধ

# যে অপরাধ উভয় রাষ্ট্রের আইনে কমপক্ষে এক বছরের কারাদণ্ডযোগ্য তা এই চুক্তির উদ্দেশ্যে বহিঃসমর্পণযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

# রাজস্ব, ট্যাক্স বা আর্থিক বিষয়ে সম্পর্কিত অপরাধ হলেও তা বহিঃসমর্পণযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

# উভয় রাষ্ট্র একই অপরাধকে একই শ্রেণিতে বা একই নামে অভিহিত না করলেও কেবলমাত্র শাস্তিযোগ্যতার বিষয়টাই বিবেচ্য হবে।

# বহিঃসমর্পণযোগ্য অপরাধ করতে চেষ্টা, সহায়তা, উৎসাহ প্রদান, বা সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকা এসবও বহিঃসমর্পণযোগ্য বলে গণ্য হবে।

আর্টিকেল ৩: মিশ্র/সংযুক্ত অপরাধ

যদি ব্যক্তির অপরাধের অংশ বা সম্পূর্ণটাই অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রে সংঘটিত হয়, তবুও উভয় রাষ্ট্রের আইনে যদি সম্মিলিতভাবে তা অপরাধ বলে গণ্য হয়, তবে বহিঃসমর্পণ করা যাবে।

আর্টিকেল ৪: কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ

ভারতের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ মিনিস্ট্রি অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো পরিবর্তন হলে কূটনৈতিক মাধ্যমে অপর পক্ষকে জানাতে হবে।

আর্টিকেল ৫: নাগরিকদের বহিঃসমর্পণ

এই চুক্তিতে কিছুই এমন নেই যা অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকে তার নিজ দেশের নাগরিককে আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ অপরাধে বহিঃসমর্পণ করতে বাধা দেয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনা

আর্টিকেল ৬: রাজনৈতিক অপরাধ ব্যতিক্রম

# যদি অনুরোধকৃত অপরাধ ‘রাজনৈতিক চরিত্রের’ হয়, বহিঃসমর্পণ প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে।

তবে নিম্নলিখিত অপরাধগুলো রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না:

  • দুই রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সংজ্ঞায়িত অপরাধ
  • হত্যা
  • নরহত্যা বা দোষীজনিত হত্যাকাণ্ড
  • গুরুতর আঘাত/ইচ্ছাকৃত আঘাত
  • প্রাণনাশী বিস্ফোরণ
  • বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরি/রাখা (প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে)
  • আগ্নেয়াস্ত্র রাখা (প্রাণনাশ বা গুরুতর ক্ষতির উদ্দেশ্যে)
  • আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গ্রেপ্তার প্রতিরোধ
  • সম্পত্তি ধ্বংস (জীবনের ঝুঁকি তৈরির উদ্দেশ্যে)
  • অপহরণ, আটক, জিম্মি করা
  • হত্যা-উসকানি
  • যেকোনো সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধ
  • উপরের যেকোনো অপরাধের চেষ্টা/ষড়যন্ত্র/সহযোগিতা

আর্টিকেল ৭: বহিঃসমর্পণ বনাম নিজ দেশে বিচার

১. অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র চাইলে প্রত্যাখ্যান করতে পারে যদি অভিযুক্তকে সে দেশে বিচার করা সম্ভব হয়।

২. তখন সে রাষ্ট্র নিজস্ব আইনে মামলাটি বিচারযোগ্য কিনা তা বিবেচনা করবে।

৩. যদি বিচার না করা হয়, তবে বহিঃসমর্পণের অনুরোধ পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

আর্টিকেল ৮: বহিঃসমর্পণ না করার ভিত্তি

নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিকে বহিঃসমর্পণ করা যাবে না:

# যদি অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র সন্তুষ্ট হয় যে বহিঃসমর্পণ অন্যায় বা অত্যাচারমূলক হবে, যেমন:

  • অপরাধ তুচ্ছ/খুবই ছোট
  • ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে
  • অভিযোগ সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়নি

# ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলেও সাজা কমপক্ষে চার মাস না হলে বহিঃসমর্পণ হবে না।

# ব্যক্তি যদি সেই অপরাধে অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রে বিচার হলে আইন অনুযায়ী মুক্তি পেতেন-তাহলে বহিঃসমর্পণ করা যাবে না।

আর্টিকেল ৯: সাময়িক হস্তান্তর

অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র চাইলে কারাগারে থাকা ব্যক্তিকে সাময়িকভাবে অনুরোধকারী রাষ্ট্রে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পাঠাতে পারে।

পরবর্তীতে সাজা ভোগের জন্য ব্যক্তি আবার ফেরত আসবে।

আর্টিকেল ১০: বহিঃসমর্পণ প্রক্রিয়া

১. অনুরোধ অবশ্যই কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।

২. অনুরোধের সাথে থাকতে হবে:

  • ব্যক্তির বিবরণ
  • অপরাধের বিবরণ
  • অপরাধ সংজ্ঞা ও শাস্তির আইন

৩. যদি ব্যক্তি অভিযুক্ত হন, তবে-

  • গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
  • বিচার শুরুর উপযুক্ত প্রমাণ

৪. দোষী সাব্যস্ত হলে:

  • দণ্ডের সার্টিফিকেট
  • কতটা দণ্ড বাকি—তার বিবরণ

৫. তথ্য অপর্যাপ্ত হলে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হবে।

আর্টিকেল ১১: অস্থায়ী গ্রেপ্তার

উভয় রাষ্ট্র জরুরি পরিস্থিতিতে অস্থায়ী গ্রেপ্তার চাইতে পারে। ৬০ দিনের মধ্যে মূল বহিঃসমর্পণ অনুরোধ না এলে ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে হবে।

আর্টিকেল ১২: বিশেষ নিয়ম

বহিঃসমর্পিত ব্যক্তিকে শুধুমাত্র

  • যে অপরাধে তাকে ফেরত নেওয়া হয়েছে,
  • তার থেকে কম গুরুতর অপরাধ,
  • অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র সম্মতি দিলে অন্য অপরাধ— এসব ক্ষেত্রে বিচার করা যাবে। ৪৫ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগের সুযোগ থাকবে।

আর্টিকেল ১৩: প্রমাণাদি

১. অনুরোধকারী রাষ্ট্র থেকে প্রেরিত নথি, দলিল বা প্রমাণাদি—

যদি অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে সত্যায়িত হয় তবে তা বহিঃসমর্পণ কার্যক্রমে গ্রহণযোগ্য হবে।

২. নথি বা প্রমাণাদি সত্যায়িত বলে গণ্য হবে যদি-

  • অনুরোধকারী রাষ্ট্রের কোনো কর্মকর্তা বা বিচারক তা সত্যায়িত করেন; এবং
  • অনুরোধকারী রাষ্ট্রে প্রযোজ্য রাষ্ট্রীয় সিলমোহর বা সরকারী সিল দিয়ে তা সিল করা থাকে।

আর্টিকেল ১৪: ভাষা

অনুরোধ, নথি ও প্রমাণাদি ইংরেজিতে হবে। যদি অন্য ভাষায় থাকে, তাহলে ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করতে হবে।

আর্টিকেল ১৫: সিদ্ধান্ত ও হস্তান্তর

১. অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র যত শিগগিরই সম্ভব বহিঃসমর্পণের সিদ্ধান্ত জানাবে।

২. বহিঃসমর্পণ মঞ্জুর হলে অনুরোধকারী রাষ্ট্রকে ব্যক্তিকে গ্রহণের তারিখ ও স্থান জানানো হবে।

৩. অনুরোধকারী রাষ্ট্র যদি ৩০ দিনের মধ্যে ব্যক্তিকে গ্রহণ না করে,

তবে অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র ব্যক্তিকে মুক্তি দিতে পারে।

৪. প্রয়োজন হলে দুই রাষ্ট্র সময়সীমা বাড়াতে পারে।

আর্টিকেল ১৬: সম্পত্তি হস্তান্তর

বহিঃসমর্পণের অনুরোধে যদি কোনো সম্পত্তির উল্লেখ থাকে, যেমন-

  • অপরাধে ব্যবহৃত বস্তু
  • অপরাধের মাধ্যমে পাওয়া আয় বা সম্পদ
  • অপরাধের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় বস্তু

তবে অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র সেগুলো হস্তান্তর করতে পারে, আইনি দাবি বা তৃতীয় পক্ষের অধিকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্তসাপেক্ষে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডশেখ হাসিনা

আর্টিকেল ১৭: একাধিক অনুরোধ

যদি তৃতীয় কোন দেশ একই ব্যক্তির বহিঃসমর্পণ চায়, তবে অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্র নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে:

  • অনুরোধগুলোর অগ্রাধিকার
  • অপরাধের স্থান
  • অপরাধের প্রকৃতি
  • অনুরোধের তারিখ
  • রাষ্ট্রগুলোর পরস্পরিক সম্পর্ক
  • অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিবেচনা

আর্টিকেল ১৮: ট্রানজিট

কোনো ব্যক্তি যদি তৃতীয় একটি দেশ থেকে অন্য দেশে বহিঃসমর্পণ করা হচ্ছে, এবং ভারত বা বাংলাদেশ তার মাঝপথে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে লিখিত অনুরোধের মাধ্যমে উক্ত রাষ্ট্র ট্রানজিট অনুমতি দিতে পারবে।

আর্টিকেল ১৯: খরচ

  • বহিঃসমর্পণ প্রক্রিয়ার অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রে সংঘটিত খরচ অনুরোধপ্রাপ্ত রাষ্ট্রই বহন করবে।
  • ব্যক্তিকে অনুরোধকারী রাষ্ট্রে পৌঁছে দেওয়ার যাতায়াত ব্যয় অনুরোধকারী রাষ্ট্র বহন করবে।

আর্টিকেল ২০: পরামর্শ

দুই রাষ্ট্র প্রয়োজন হলে চুক্তির প্রয়োগ, ব্যাখ্যা বা কার্যকারিতা সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে পরস্পর আলোচনা করবে।

আর্টিকেল ২১: সংশোধনী

চুক্তির সংশোধন দুই পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে করা যাবে। সংশোধনী কার্যকর হবে কূটনৈতিক নোট বিনিময়ের তারিখ হতে।

আর্টিকেল ২২: কার্যকরতা ও সমাপ্তি

১. উভয় পক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কূটনৈতিক মাধ্যমে নোট বিনিময় করবে।

নোট বিনিময়ের ৩০ দিন পরে চুক্তি কার্যকর হবে।

২. যে কোনো পক্ষ লিখিত নোট দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে। তাহলে চুক্তি নোট পাওয়ার ৬ মাস পরে সমাপ্ত হবে।

কেন শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না ভারতSheikh hasina AI

কী করতে পারে ভারত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা হওয়ায় ভারত থেকে তাদের দেশে ফেরাতে মূলত কোন বাধা নেই। ভারত চাইলে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতাতেই দুজনকে ফেরত পেতে পারে বাংলাদেশ। তবে এই চুক্তির কিছু শর্ত মেনেই ভারত তাদের ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাতেও পারে। যেমন ৬ নম্বর আর্টিকেলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, কারো অপরাধ যদি রাজনৈতিক প্রকৃতির হয় তবে তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খারিজ করতে পারবে অনুরোধ পাওয়া রাষ্ট্র।

তবে চুক্তির ৬ নম্বর আর্টিকেলের ২ ধরায় হত্যা, নরহত্যা বা দোষীজনিত হত্যাকাণ্ড, গুরুতর আঘাত/ইচ্ছাকৃত আঘাত, প্রাণনাশী বিস্ফোরণ, বিস্ফোরক দ্রব্য তৈরি/রাখা (প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে), আগ্নেয়াস্ত্র রাখা (প্রাণনাশ বা গুরুতর ক্ষতির উদ্দেশ্যে), আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গ্রেপ্তার প্রতিরোধ, সম্পত্তি ধ্বংস (জীবনের ঝুঁকি তৈরির উদ্দেশ্যে), অপহরণ, আটক, জিম্মি করা, হত্যা-উসকানি, যেকোনো সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অপরাধ, উপরের যেকোনো অপরাধের চেষ্টা/ষড়যন্ত্র/সহযোগিতা হত্যা এবং অন্যান্য অপরাধকে বাদ দেওয়া হয়েছে– যেগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গণহত্যা এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এ সকল অপরাধে অভিযুক্তরা রাজনৈতিক অপরাধী বলে বিবেচিত হবেননা। এই আর্টিকেলের একটি শর্তে যেমন হাসিনা-কামালকে ফেরত দিতে বাধ্য নয় ভারত। তেমনিভাবে অপর শর্তে বাংলাদেশ চাইলে দুজনকে হস্তান্তর করতে বাধ্য ভারত সরকার।

চুক্তির ৭ নম্বর আর্টিকেল অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং কামালের বিচার ভারত সরকার করতে চাইলে তাদের রেখে দিতে পারে।

ভারত যদি তাদের ফেরত দিতে না চায় তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী শর্ত হল চুক্তির ৮ নম্বর আর্টিকেল। ভারত সরকার যদি মনে করে হাসিনা-কামালকে ফেরত দিলে বাংলাদেশ তাদের উপর অন্যায় এবং অন্যায্য বা নিপীড়নমূলক আচরণ করবে অথবা দুজনের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তাহলে তাদের ফেরত দিতে বাধ্য নয় প্রতিবেশী দেশটি।

এর বাইরেও ভারত যদি সত্যিই তাদের ফেরত দিতে না চায় তবে যেকোনো সময় এই চুক্তিটি বাতিলের সুযোগও আছে। চুক্তি বাতিলের নোটিশ প্রদানের ছয় মাসের মধ্যেই এটি অকার্যকর হবে।

তাই বন্দি বিনিময় চুক্তির মত শক্ত আইনি সমর্থন পেয়েও মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকরের জন্য বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত পাচ্ছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে, গতকাল সোমবার রায় ঘোষণার পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠি ভারতকে দেয়ার তথ্য জানান তিনি।

ভারতের কাছ থেকে আগের চিঠির জবাব না পাবার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পরিস্থিতি ভিন্ন বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশের অনুরোধটি ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনেই পাঠানো হবে।”

তবে মূল প্রশ্ন ভারত ইতিবাচক সাড়া না দিলে বাংলাদেশের পদক্ষেপ কী হবে তার সুস্পষ্ট জবাব মেলেনি উপদেষ্টার কাছ থেকে, তিনি এটুকুই বলেন, “তা তখনকার পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক করা হবে।”

বিষয়: চুক্তিআসাদুজ্জামান খান কামালবাংলাদেশশেখ হাসিনাঅপরাধভারত
সর্বশেষ
  • ১

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ২

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৩

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৪

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৫

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমের ঘটনায় কী সুরক্ষা দিচ্ছে নতুন আইন

    গুমকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে তিন দিন আগে পাস হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ করা, তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা, বিচার এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতিকারের জন্য আইনি কাঠামো রাখা হয়েছে।

  • নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    নতুন মানবাধিকার কমিশন আইনে যা আছে

    জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে আরও ‘স্বাধীনভাবে’ পরিচালনা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের সুযোগ রেখে নতুন আইন করা হয়েছে। নতুন আইনে কমিশনের গঠন, নিয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা এবং নির্যাতন প্রতিরোধে বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তবে শৃঙ্খলা বাহিনীর বির

  • সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে কী আছে সংশোধিত আইনে

    উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি দান করলেও দাতা চাইলে নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার রেখে দিতে পারবেন। এ জন্য নিবন্ধিত দলিলে দাতার জীবনকালীন ভোগস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের ওয়াকআউট, আপত্তি কোথায়?

    জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের পর ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সন্তানের নামে জমি বা সম্পত্তি নিবন্ধনের পরও বাবা-মায়ের আজীবন ভোগদখল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে বিলে।