চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার আগে দেশের কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি’।
আজ রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক কনভেনশন থেকে এই আহ্বান জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। এনসিটি ও সিসিটি বেসরকারি বা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে এই কনভেনশনের আয়োজন করা হয়।
কনভেনশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, ‘‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এই বন্দরের কোনো টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।’’
সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ। জনগণ এই বন্দরের টার্মিনাল কোনো বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। এ বিষয়ে বন্দর রক্ষা কমিটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখবে।’’
কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন সতর্ক করে বলেন, ‘‘বন্দরের সক্ষমতা ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধির স্থায়ী পদক্ষেপ না নিয়ে অনুকূল শর্তে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল তুলে দেওয়া হলে তা জাতীয় স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করবে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এ বন্দরের সুবিধা জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়া উচিত।’’
কনভেনশনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু এবং শিক্ষক নেতা অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
কনভেনশন থেকে আগামী ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আগামী ৩১ আগস্ট নগরীর বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।