নারী এশিয়া কাপের অলিখিত নিয়ম হল, টুর্নামেন্ট জিততে হলে অন্তত একবার হলেও ভারতকে হারাতেই হবে। সাতবারের চ্যাম্পিয়ন দলটিকে হারিয়েই ৮ বছর আগে নিজেদের প্রথম ও একমাত্র এশিয়া কাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবারের আসরে অবশ্য সেমিফাইনালেই সাক্ষাৎ হচ্ছে দুই দলের। শক্তি-সামর্থ্যে পিছিয়ে থাকা নিগার সুলতানার দলকে তাই ফাইনালে জায়গা করতে নিতে হলে খেলতে হবে নিজেদের সম্ভাব্য সেরা ক্রিকেটটাই।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারত লড়াই। বাংলাদেশের জন্য অবশ্য ম্যাচটা দুই বছর আগে এশিয়া কাপেই ভারতের কাছে তেঁতো হার ভুলে যাওয়ার মঞ্চও বটে। সেবার সেমিফাইনালে ৮ উইকেটে হেরে গিয়েছিলেন নিগাররা। আরেকটি শেষ চারের লড়াইয়ে জিততে পারলে তাই সেই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম পরাশক্তি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলের বড় চিন্তার কারণ ব্যাটিং। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই ভুগতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। নবাগত ইন্দোনেশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় এসেছে মূলত বোলারদের কল্যাণে। আমিরাতের বিপক্ষে তো ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে জেগেছিল অঘটনের শঙ্কাও। ভারতের বিপক্ষে তাই ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হলে সেমিফাইনালেই বাংলাদেশের পথচলা শেষ হতে পারে।
টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান শারমিন আক্তার ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিংয়ে আরও বেশি অবদানের আশা করেছেন, “ভারতের শক্তির জায়গা ব্যাটিং, আর বোলিংটা আমাদের শক্তির জায়গা। আমরা যদি বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংটা আরেকটু ভালোভাবে করতে পারি আর নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে ভারতকে হারানো সম্ভব হবে। আমরা যদি বিশ্বাসই না করি যে ভারতকে হারানো যাবে, তাহলে তো এশিয়া কাপ জেতার স্বপ্ন দেখারও কোনো মানে নেই। এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে ভারতের বিপক্ষে খেলতেই হবে আর জিততেও হবে।”
টুর্নামেন্টে এখনো অপরাজিত থাকা ভারতের শক্তির জায়গা ব্যাটিং, আর সেটা মূলত তাদের ওপেনিং জুটি। এশিয়া কাপেই তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০ হাজার রান করা তারকা ব্যাটসম্যান স্মৃতি মান্ধানা আছেন ফর্মের তুঙ্গে। তিন ম্যাচে ১ সেঞ্চুরিতে প্রায় ১৭৯ স্ট্রাইক রেটে করেছেন আসরের সর্বোচ্চ ১৫২ রান। দুইয়ে আছেন আরেক ভারতীয় ওপেনার শেফালি ভার্মা, তার রান ১০৪।
এই দুজনকে প্রতিরোধের মোক্ষম অস্ত্র অবশ্য বাংলাদেশ দলে আছে। তিনি মারুফা আক্তার। ইনিংসের প্রথম বল বা প্রথম ওভারে নিয়মিত উইকেট নেওয়া এই পেসার চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৭টি উইকেট নিয়েছেন। ইনসুইং, আউটসুইংয়ের পাশাপাশি স্লোয়ার, কাটারেও তিনি নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরেছেন। তার সামনে চ্যালেঞ্জ থাকবে স্মৃতি, শেফালিদের পাওয়ার প্লেতে আটকে দেওয়ার।
মারুফার সঙ্গে গোটা দলই যদি নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারে, কেবল তাহলেই ভারতের এই দলকে হারানো সম্ভব হবে বাংলাদেশের। যেমনটা হয়েছিল ২০১৮ আসরের ফাইনালে, যেখানে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়েছিলেন সালমা-রুমানারা। এবার কি পারবেন নিগার-মারুফারা?