এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া, ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার চেক হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁর পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি এলাকার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর এলাকার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নাঈম হোসেন (২৫)।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিক্ষক জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে আগে থেকেই তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে গত ২৫ আগস্ট বিকেলে জরুরি কথা আছে বলে তাকে নওগাঁ শহরের নিজের বাসায় ডেকে নেন মিলি।
শিক্ষক বাসায় পৌঁছালে সেখানে ওত পেতে থাকা চক্রটির অন্য সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে মারধরের ভয় দেখায়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০০ টাকার একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক সই এবং ২ লাখ টাকার একটি চেকে সই করিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষক থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। টানা এক সপ্তাহের অভিযানে চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে শিক্ষকের জোরপূর্বক সই নেওয়া ফাঁকা স্ট্যাম্প ও ২ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলাভিত্তিক একটি সক্রিয় প্রতারকচক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নির্জন স্থানে ডেকে আনত। এরপর ছবি তোলা, মারধরের হুমকি কিংবা সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।