ফজলে রাব্বি

রাজধানীর তেজগাঁও, মহাখালী, বাড্ডা, উত্তরাসহ সব এলাকার পেট্রোল পাম্পে এখন একই দৃশ্য। যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও দুই ঘণ্টা, কোথাও তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে সামান্য তেল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কেনা শুরু করায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের জন্য মোটরসাইকেলে জ্বালানির সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয়।
গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার। তবুও ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় তেল না থাকায় বিপাকে পড়েছে অনেকে।
অথচ জ্বালানি বিভাগের তথ্য এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের দাবি, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও কেন মিলছে না পেট্রোল অকটেন? সংকট কি আসলেই আছে? এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চরচার অনুসন্ধান বলছে, সংকটের মূলে তেলের অভাব নয়, বরং তেল কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ ‘কোটা’ পদ্ধতি, টানা সাত দিনের ব্যাংক ছুটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অব্যবস্থাপনা।
আতঙ্কের সূচনা: একটি ফেসবুক পোস্ট ও রহস্যময় প্রচার
সোমবার সকালে ফেসবুকে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাংশের নাম দিয়ে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বলা হয়, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই পোস্টটি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পাম্পের সামনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের অনেকের মনে সংশয় তৈরি হয়। তেলের পাম্পে অপেক্ষারত অনেকেই বলেছেন, “শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি হয়তো বাংলাদেশেও শুরু হতে যাচ্ছে!”
তবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হক এই পোস্টের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তার মতে, একটি গুজবকে কেন্দ্র করে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নাজমুল আরও বলেন, টানা কয়েক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। ব্যাংক খোলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা তার।
মাঠের চিত্রে ‘হাহাকার’
পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের সভাপতি নাজমুল পরিস্থিতিকে ‘গুজব’ বললেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডের সিটিজেন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বড় করে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আশপাশের পাম্পগুলোতে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
উত্তর বাড্ডার মক্কা পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি চলমান থাকলেও সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হওয়া মোটরসাইকেলের লাইন গিয়ে শেষ হয়েছে বাড্ডা লিংক রোডে। এই পাম্পের লাইনে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষারত হাফিজুর রহমান বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। মনে হচ্ছে তেল নিতে এখনো আরো দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। শেষে তেল পাব কি না, সেটাও অনিশ্চিত।”
মহাখালীর চিত্র আরও নাজুক। ক্রিসেন্ট পাম্প বন্ধ থাকায় সব চাপ পড়েছে সেনা নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে। সেখানে লাইন জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে মহাখালী শাহীনবাগ সিভিল এভিয়েশন স্কুল পর্যন্ত পৌঁছেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক আহাদ জানান, তিনি সকাল ১০টার আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন এবং দুপুর ২টার দিকে পাম্পের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন।
প্রাইভেটকার চালক আফজাল হোসেনের কণ্ঠে ছিল উদ্বেগ। তিনি বলেন, “কাল থেকে অফিস শুরু হবে। তখন চাপ আরও বাড়বে। অফিসের সময়ে লাইনে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে আজই তেল নিতে এসেছি। কিন্তু তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আর কতক্ষণ লাগবে জানি না।”
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ‘রেশনিং’ নিয়ে। চালকদের দাবি, পাম্পগুলো খোলা থাকলেও তারা পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না। পাঁচ বা ১০ লিটারের বেশি তেল দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ। এমনকি ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনেও গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় কম তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকার ‘রেশনিং’ তুলে দিয়েছে।

সরবরাহ ব্যবস্থার গোড়ায় গলদ: ‘কোটা’ বনাম ‘রেশনিং’
সংকটের কারণ জানতে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমানের সাথে। তার বক্তব্য, সরকার প্রকাশ্যে রেশনিংয়ের কথা অস্বীকার করলেও কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণভাবে একটি কঠোর ‘কোটা’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
মফিজুর রহমান চরচাকে বলেন, “সরকার তো একদম ওপেন করে দেয়নি। আমাদের গত বছরের যে কোটা, গত বছর মার্চে যেটা নিছে আমরা ওইটার মধ্যে আছি। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী যে গত বছর যেটুকু নিয়েছে, এর চেয়ে বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।”
মফিজুর এই ব্যবস্থাকে ‘রেশনিং’ বলতে নারাজ। তবে স্বীকার করেছেন যে, তারা আসলে চাহিদার লাগাম টেনে ধরতে চাইছেন। তার ভাষায়, “সবাই এখন ডিমান্ড করছে, কেউ নিয়ে ঘরে রাখছে কেউ হয়তো নিয়ে মজুত করতেছে। এইভাবে ওপেন যদি আমরা করে দিতাম, কন্ট্রোল করতে পারবে না।”
পদ্মা অয়েলের এমডির বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সেটি বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে ‘সীমাবদ্ধতা’ আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান বাজারের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা তেল কোম্পানিগুলোর নেই। তারা কেবল গত বছরের তথ্য অনুযায়ী তেল দিচ্ছে, যা এই পরিস্থিতিতে সংকটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নথি কী বলছে?
শনিবারের ‘অ্যালটমেন্ট অব পিওএল প্রোডাক্টস ফর গোদনাইল ডিপো’ শীর্ষক পদ্মা অয়েলের একটি নথি চরচার হাতে আসে। এই নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এদিন মাত্র ১০৪টি পাম্প ও প্রতিষ্ঠানকে তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পকে তাদের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার সততা অ্যান্ড কোং-এর ম্যানেজার মো. সৈকত আলী জানান, দিনে তাদের স্বাভাবিক চাহিদা অকটেনের জন্য ২৭ হাজার লিটার এবং ডিজেলের জন্য ১৮ হাজার লিটার। কিন্তু শনিবারের তথ্য বলছে, তারা ডিপো থেকে বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র চার হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ৯ হাজার ডিজেল।
সৈকত চরচাকে বলেন, “ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের পরদিন পর্যন্ত তেল ছিল না। আজ সীমিত তেল পাওয়ায় দুপুরে পাম্প খুলেছি। কিন্তু এই তেল দিয়ে আজকের চাহিদাও মেটানো সম্ভব নয়।”
সাউদার্ন অটোমোবাইল লিমিটেডেরও একই অভিযোগ। পাম্পের সহকারী ম্যানেজার ফায়জুর রহমান জানান, তাদের পাম্পে প্রতিদিন ১৬ হাজার লিটারের বেশি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তারা তেল পাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক। ফলে তারা বাধ্য হয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দিচ্ছেন।
সংকট ঢাকার বাইরেও
সংকট কেবল ঢাকাতেই নয়। রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি চিঠি থেকে জানা যায়, ডিপোগুলো ট্যাঙ্ক লরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না। একটি সাড়ে চার হাজার লিটারের চেম্বারের বিপরীতে মাত্র দুই বা তিন হাজার লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর ফলে পাম্প মালিকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, পুরো লরির ভাড়া দিয়ে তারা অর্ধেক তেল আনছেন।
সংগঠনটির দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী সময়ে এসব তেল কালোবাজারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সরকারি আশ্বাস বনাম বাস্তবতা: তথ্যের গরমিল
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, পাম্প মালিকদের অভিজ্ঞতা এবং তেল কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। গত বছরের তুলনায় ২৫ ভাগ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে। সবাই তেল পাবে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার অনুরোধ করছি।”
তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে মাঠের তথ্যের কোনো মিল নেই। একদিকে মন্ত্রী বলছেন সরবরাহ ২৫ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে পদ্মা অয়েলের এমডি সরাসরি স্বীকার করছেন–তারা গত বছরের কোটার বাইরে এক লিটার তেলও বেশি দিচ্ছেন না। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের প্রতিফলন পড়েছে তেল পাম্পগুলোর সামনে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই পরিস্থিতির জন্য ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি’কে দায়ী করেছেন। চরচাকে তিনি বলেন, “কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা হয়ত তেল থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের হয়রানি করে থাকতে পারে। বিষয়টা সরকারের নজরদারিতে আছে।” তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করা বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি প্রতিমন্ত্রী।
একদিকে সরকার বলছে সরবরাহ পর্যাপ্ত। অন্যদিকে বাস্তবে সরবরাহ সীমিত রাখা হচ্ছে। এই দ্বৈত ব্যবস্থার কারণে জনমনে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
সংকটের প্রধান কারণ
বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা গেছে–
ব্যাংকিং জটিলতা: টানা সাত দিনের ব্যাংক ছুটির কারণে পাম্প মালিকরা সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনে দেরি হয়েছে।
কোটা পদ্ধতি: বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়িয়ে আগের বছরের ডেটার ওপর ভিত্তি করে তেল দেওয়া হচ্ছে, যা সংকটকে তীব্র করেছে।
আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয়: গুজব ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছেন, যা সাময়িকভাবে বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা: ব্যাংক ছুটি, সরবরাহ পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
অর্থাৎ, বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত আমদানির অভাব নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাজাত সংকট। সরকার যদি গত বছরের ‘কোটা পদ্ধতি’ থেকে সরে এসে বর্তমানের বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়ায়, তবে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
২৪ মার্চ ব্যাংক খোলার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধন না করলে পাম্পগুলোতে জনভোগান্তি কমবে না বলেই মনে করছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা।
সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর করতে সরকারকে অবিলম্বে স্বচ্ছ সরবরাহ তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং কঠোর বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

রাজধানীর তেজগাঁও, মহাখালী, বাড্ডা, উত্তরাসহ সব এলাকার পেট্রোল পাম্পে এখন একই দৃশ্য। যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কোথাও দুই ঘণ্টা, কোথাও তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর মিলছে সামান্য তেল।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কেনা শুরু করায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার। পরে রাইডশেয়ারিং চালকদের জন্য মোটরসাইকেলে জ্বালানির সীমা দুই লিটার থেকে বাড়িয়ে পাঁচ লিটার করা হয়।
গত ১৫ মার্চ থেকে জ্বালানি বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেয় সরকার। তবুও ঈদের ছুটিতে ঢাকার বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে অনেক জায়গায় তেল না থাকায় বিপাকে পড়েছে অনেকে।
অথচ জ্বালানি বিভাগের তথ্য এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের দাবি, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও কেন মিলছে না পেট্রোল অকটেন? সংকট কি আসলেই আছে? এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
চরচার অনুসন্ধান বলছে, সংকটের মূলে তেলের অভাব নয়, বরং তেল কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ ‘কোটা’ পদ্ধতি, টানা সাত দিনের ব্যাংক ছুটি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অব্যবস্থাপনা।
আতঙ্কের সূচনা: একটি ফেসবুক পোস্ট ও রহস্যময় প্রচার
সোমবার সকালে ফেসবুকে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাংশের নাম দিয়ে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে বলা হয়, ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই পোস্টটি আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পাম্পের সামনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের অনেকের মনে সংশয় তৈরি হয়। তেলের পাম্পে অপেক্ষারত অনেকেই বলেছেন, “শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি হয়তো বাংলাদেশেও শুরু হতে যাচ্ছে!”
তবে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হক এই পোস্টের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তার মতে, একটি গুজবকে কেন্দ্র করে অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
নাজমুল আরও বলেন, টানা কয়েক দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকরা পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। ব্যাংক খোলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা তার।
মাঠের চিত্রে ‘হাহাকার’
পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের সভাপতি নাজমুল পরিস্থিতিকে ‘গুজব’ বললেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডের সিটিজেন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বড় করে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আশপাশের পাম্পগুলোতে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
উত্তর বাড্ডার মক্কা পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি চলমান থাকলেও সামনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হওয়া মোটরসাইকেলের লাইন গিয়ে শেষ হয়েছে বাড্ডা লিংক রোডে। এই পাম্পের লাইনে মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষারত হাফিজুর রহমান বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। মনে হচ্ছে তেল নিতে এখনো আরো দুই ঘণ্টা সময় লাগবে। শেষে তেল পাব কি না, সেটাও অনিশ্চিত।”
মহাখালীর চিত্র আরও নাজুক। ক্রিসেন্ট পাম্প বন্ধ থাকায় সব চাপ পড়েছে সেনা নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে। সেখানে লাইন জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে মহাখালী শাহীনবাগ সিভিল এভিয়েশন স্কুল পর্যন্ত পৌঁছেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক আহাদ জানান, তিনি সকাল ১০টার আগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন এবং দুপুর ২টার দিকে পাম্পের কাছে পৌঁছাতে পেরেছেন।
প্রাইভেটকার চালক আফজাল হোসেনের কণ্ঠে ছিল উদ্বেগ। তিনি বলেন, “কাল থেকে অফিস শুরু হবে। তখন চাপ আরও বাড়বে। অফিসের সময়ে লাইনে দাঁড়ানো সম্ভব নয় বলে আজই তেল নিতে এসেছি। কিন্তু তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আর কতক্ষণ লাগবে জানি না।”
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে ‘রেশনিং’ নিয়ে। চালকদের দাবি, পাম্পগুলো খোলা থাকলেও তারা পর্যাপ্ত তেল দিচ্ছে না। পাঁচ বা ১০ লিটারের বেশি তেল দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ। এমনকি ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনেও গ্রাহকের চাহিদার তুলনায় কম তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকার ‘রেশনিং’ তুলে দিয়েছে।

সরবরাহ ব্যবস্থার গোড়ায় গলদ: ‘কোটা’ বনাম ‘রেশনিং’
সংকটের কারণ জানতে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মফিজুর রহমানের সাথে। তার বক্তব্য, সরকার প্রকাশ্যে রেশনিংয়ের কথা অস্বীকার করলেও কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণভাবে একটি কঠোর ‘কোটা’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে।
মফিজুর রহমান চরচাকে বলেন, “সরকার তো একদম ওপেন করে দেয়নি। আমাদের গত বছরের যে কোটা, গত বছর মার্চে যেটা নিছে আমরা ওইটার মধ্যে আছি। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী যে গত বছর যেটুকু নিয়েছে, এর চেয়ে বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না।”
মফিজুর এই ব্যবস্থাকে ‘রেশনিং’ বলতে নারাজ। তবে স্বীকার করেছেন যে, তারা আসলে চাহিদার লাগাম টেনে ধরতে চাইছেন। তার ভাষায়, “সবাই এখন ডিমান্ড করছে, কেউ নিয়ে ঘরে রাখছে কেউ হয়তো নিয়ে মজুত করতেছে। এইভাবে ওপেন যদি আমরা করে দিতাম, কন্ট্রোল করতে পারবে না।”
পদ্মা অয়েলের এমডির বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সেটি বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে ‘সীমাবদ্ধতা’ আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমান বাজারের বর্ধিত চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা তেল কোম্পানিগুলোর নেই। তারা কেবল গত বছরের তথ্য অনুযায়ী তেল দিচ্ছে, যা এই পরিস্থিতিতে সংকটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নথি কী বলছে?
শনিবারের ‘অ্যালটমেন্ট অব পিওএল প্রোডাক্টস ফর গোদনাইল ডিপো’ শীর্ষক পদ্মা অয়েলের একটি নথি চরচার হাতে আসে। এই নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এদিন মাত্র ১০৪টি পাম্প ও প্রতিষ্ঠানকে তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পকে তাদের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক কম তেল দেওয়া হয়েছে।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার সততা অ্যান্ড কোং-এর ম্যানেজার মো. সৈকত আলী জানান, দিনে তাদের স্বাভাবিক চাহিদা অকটেনের জন্য ২৭ হাজার লিটার এবং ডিজেলের জন্য ১৮ হাজার লিটার। কিন্তু শনিবারের তথ্য বলছে, তারা ডিপো থেকে বরাদ্দ পেয়েছে মাত্র চার হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ৯ হাজার ডিজেল।
সৈকত চরচাকে বলেন, “ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের পরদিন পর্যন্ত তেল ছিল না। আজ সীমিত তেল পাওয়ায় দুপুরে পাম্প খুলেছি। কিন্তু এই তেল দিয়ে আজকের চাহিদাও মেটানো সম্ভব নয়।”
সাউদার্ন অটোমোবাইল লিমিটেডেরও একই অভিযোগ। পাম্পের সহকারী ম্যানেজার ফায়জুর রহমান জানান, তাদের পাম্পে প্রতিদিন ১৬ হাজার লিটারের বেশি চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তারা তেল পাচ্ছেন প্রায় অর্ধেক। ফলে তারা বাধ্য হয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দিচ্ছেন।
সংকট ঢাকার বাইরেও
সংকট কেবল ঢাকাতেই নয়। রাজশাহী বিভাগীয় পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের একটি চিঠি থেকে জানা যায়, ডিপোগুলো ট্যাঙ্ক লরির ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল দিচ্ছে না। একটি সাড়ে চার হাজার লিটারের চেম্বারের বিপরীতে মাত্র দুই বা তিন হাজার লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এর ফলে পাম্প মালিকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। কারণ, পুরো লরির ভাড়া দিয়ে তারা অর্ধেক তেল আনছেন।
সংগঠনটির দাবি, এই পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী সময়ে এসব তেল কালোবাজারে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সরকারি আশ্বাস বনাম বাস্তবতা: তথ্যের গরমিল
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমদানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, পাম্প মালিকদের অভিজ্ঞতা এবং তেল কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। গত বছরের তুলনায় ২৫ ভাগ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে। সবাই তেল পাবে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার অনুরোধ করছি।”
তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে মাঠের তথ্যের কোনো মিল নেই। একদিকে মন্ত্রী বলছেন সরবরাহ ২৫ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে পদ্মা অয়েলের এমডি সরাসরি স্বীকার করছেন–তারা গত বছরের কোটার বাইরে এক লিটার তেলও বেশি দিচ্ছেন না। এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের প্রতিফলন পড়েছে তেল পাম্পগুলোর সামনে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই পরিস্থিতির জন্য ‘অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি’কে দায়ী করেছেন। চরচাকে তিনি বলেন, “কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা হয়ত তেল থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের হয়রানি করে থাকতে পারে। বিষয়টা সরকারের নজরদারিতে আছে।” তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করা বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি প্রতিমন্ত্রী।
একদিকে সরকার বলছে সরবরাহ পর্যাপ্ত। অন্যদিকে বাস্তবে সরবরাহ সীমিত রাখা হচ্ছে। এই দ্বৈত ব্যবস্থার কারণে জনমনে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
সংকটের প্রধান কারণ
বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা গেছে–
ব্যাংকিং জটিলতা: টানা সাত দিনের ব্যাংক ছুটির কারণে পাম্প মালিকরা সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। ফলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলনে দেরি হয়েছে।
কোটা পদ্ধতি: বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়িয়ে আগের বছরের ডেটার ওপর ভিত্তি করে তেল দেওয়া হচ্ছে, যা সংকটকে তীব্র করেছে।
আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত ক্রয়: গুজব ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছেন, যা সাময়িকভাবে বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা: ব্যাংক ছুটি, সরবরাহ পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
অর্থাৎ, বর্তমান জ্বালানি সংকট মূলত আমদানির অভাব নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতাজাত সংকট। সরকার যদি গত বছরের ‘কোটা পদ্ধতি’ থেকে সরে এসে বর্তমানের বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না বাড়ায়, তবে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
২৪ মার্চ ব্যাংক খোলার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি সংশোধন না করলে পাম্পগুলোতে জনভোগান্তি কমবে না বলেই মনে করছেন পেট্রোল পাম্প মালিকরা।
সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর করতে সরকারকে অবিলম্বে স্বচ্ছ সরবরাহ তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং কঠোর বাজার তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করতে পারে। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল অবস্থিত এই ছোট দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নিলে দেশটির তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হতে পারে, ফলে আয়ের বড় উৎস হারিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করা যেতে পারে।

প্রতি বছর ঈদের সময় এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ে। ফলে রাজধানী ফাঁকা হয়ে যায়। আর এই সুযোগে রাজধানীতে বাড়ে চুরি-ডাকাতির সংখ্যা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ঈদের ছুটি রাজধানীতে শতাধিকেরও বেশি চুরি ও ডাকাতি হয়। এ বছর বাড়ি ফাঁকা রেখে গেলে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার বা গুরুত্বপূর

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন এক সংকট তৈরি হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব আজ হোক বা কাল বিশ্ব অর্থনীতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছাবে। তবে এরই মধ্যে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এই সংকটের কারণে কিছু দেশ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে, অথবা এই ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা তাদের একেবারেই কম।