Advertisement Banner

ইরানের হাতে মার্কিন বাঙ্কার বাস্টার: যুদ্ধে নতুন মোড়

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম ‘স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক’ গত ১ মে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দাবি করেছে যে, প্রতিটি অবিস্ফোরিত মার্কিন অস্ত্র ইরানের জন্য এক একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সম্পদ। তাদের মতে, ইরান কার্যকরভাবে যুদ্ধক্ষেত্রকে একটি প্রতিরক্ষা শিল্প গবেষণাগারে পরিণত করেছে।

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ইরানের হাতে মার্কিন বাঙ্কার বাস্টার: যুদ্ধে নতুন মোড়
ইরানের পতাকা। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সাথে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ নতুন মোড় নিতে চলেছে। আর এই বাঁক বদল ঘটছে কোনো শক্তি প্রয়োগ না করেই। বরং ইরানে হামলা চালানো কতটা নেতিবাচক হতে পারে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ ইরানের হাতে এখন আছে সম্পূর্ণ অক্ষত জিবিইউ-৫৭ বাঙ্কার বাস্টার। এছাড়া আছে অবিস্ফোরিত মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা এবং ক্ষেপনাস্ত্র। এর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ইরান এই প্রতিটি অবিস্ফোরিত বোমা ও ক্ষেপনাস্ত্রকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। এর পেছনে আছে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এসব অস্ত্রের পেছনে কারিগরি জ্ঞানকে আয়ত্ত করা। আর জ্ঞান শুধু ইরানের মধ্যে সীমিত থাকছে না, তা পৌঁছে যাচ্ছে দুই বন্ধু দেশ চীন ও রাশিয়ার কাছে। এসবই এখন ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমেরিকার কাছে।

সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সংবাদ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণকে আমূল বদলে দিতে পারে। গত ২৯ এপ্রিল ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরান অন্তত ১৫টি অবিস্ফোরিত মার্কিন প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন বা নির্ভুল লক্ষ্যভেদী অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো একটি সম্পূর্ণ অক্ষত জিবিইউ-৫৭ (GBU-57) ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (MOP)। প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের এই বিশালাকার বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী পরমাণু অস্ত্রবিহীন বাঙ্কার-বাস্টার অস্ত্র, যা মূলত ইরানের ফোর্দো এবং নাতাঞ্জের মতো মাটির গভীরে অবস্থিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। এই অস্ত্রটি অক্ষত অবস্থায় ইরানের হাতে পড়া তেহরানের সামরিক ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা বিজয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি এবং প্রেস টিভি, ইরনা ও তাসনিম নিউজের মতো রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর সূত্র অনুসারে, এই অস্ত্রগুলো এখন ইরানের ‘প্রযুক্তিগত ও গবেষণা ইউনিটের’ কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং-এর জন্য। এর ফলে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের জন্য এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনার কৌশলগত তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। জিবিইউ-৫৭ বোমাটি আমেরিকার কৌশলগত আক্রমণ সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি। যদি ইরান এই বোমার প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়, তবে তারা ভবিষ্যতে তাদের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোকে এমনভাবে নকশা করতে পারবে– যা এই ধরনের আক্রমণের বিরুদ্ধে আরও বেশি প্রতিরোধী হবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জাঞ্জান প্রদেশে চারটি জিবিইউ-৫৭ বোমা আবিষ্কৃত হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয় এবং একটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৯,৫০০টি ক্লাস্টার বোমলেট, ৫২টি রকেট, ১০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি অক্ষত ক্রুজ মিসাইলও ইরানের হস্তগত হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সামরিক প্রযুক্তি ইরানের কাছে আসা মানে হলো আমেরিকার আক্রমণ পদ্ধতির প্রতিটি দুর্বলতা এখন ইরানের নখদর্পণে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ২০১১ সালে ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল ড্রোন অক্ষত অবস্থায় আটক করেছিল, তখন অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু এক দশকের মধ্যেই ইরান সেই ড্রোনটির রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করে শাহেদ-১৭১ এবং শাহেদ-১৯১ এর মতো অত্যাধুনিক স্টেলথ ড্রোন বহর গড়ে তুলেছে। বর্তমানের এই বোমা উদ্ধারের ঘটনাটি সেই ড্রোন ট্র্যাজেডির চেয়েও বড় আঘাত হতে পারে পেন্টাগনের জন্য।

একটি জিবিইউ-৫৭ বোমার ওজন প্রায় ১৩.৬ টন। এটি মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত গ্রানাইট বা কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম। ইরান এখন এই বোমার ফিউজ সিকোয়েন্সিং, টার্মিনাল পেনিট্রেশন আচরণ এবং এর আবরণের ধাতব বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ পাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা কেবল এই বোমার মতো অস্ত্র তৈরিই করবে না, বরং তাদের ভূগর্ভস্থ টানেলগুলোর জ্যামিতি এবং সুরক্ষা স্তর পরিবর্তন করে এই বোমার কার্যকারিতা শূন্যে নামিয়ে আনতে পারবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আমেরিকা বা ইসরায়েল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ করতে চায়, তবে তাদের আরও বেশি ঝুঁকি নিতে হবে এবং আরও উন্নত ও ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।

এতে করে হামলাকারীর খরচ ও ঝুঁকি বাড়বে, যা আদতে ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী সামরিক প্রতিরক্ষা হিসেবে কাজ করবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করে বলেছেন যে, ফোর্দোর মতো স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা অবিস্ফোরিত অস্ত্রগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হলো এই বোমার উৎপাদন প্রক্রিয়া। জিবিইউ-৫৭ তৈরি করা অত্যন্ত জটিল এবং এর সরবরাহ ব্যবস্থা সীমিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই বোমার উৎপাদন ২০২৮ সাল পর্যন্ত বিলম্বিত হতে পারে। এমতাবস্থায় একটি অক্ষত বোমা হারানো মানে কেবল কয়েক মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি নয়, বরং আমেরিকার প্রচণ্ড আক্রমণ সক্ষমতার গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়া। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার তথ্যমতে, একটি জিবিইউ-৫৭ বোমার দাম কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এর কৌশলগত মূল্য অর্থের চেয়েও অনেক বেশি। যদি ইরান এই বোমার পেনিট্রেশন প্রোফাইল বুঝে ফেলে, তবে মার্কিন বিমান বাহিনীর পুরো আক্রমণ পরিকল্পনা ও বর্তমান অস্ত্র ভাণ্ডার অকেজো হয়ে পড়বে। এর ফলে আমেরিকাকে হয়তো বাধ্য হয়ে জিবিইউ-৭২ এর মতো পরবর্তী প্রজন্মের পেনিট্রেটর তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে। অন্যদিকে, ইরান ইতিমধ্যেই দাবি করেছে যে তারা তাদের ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসনিক মিসাইল ফ্যামিলির জন্য ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসকারী যুদ্ধাস্ত্র তৈরির পথে অনেক দূর এগিয়েছে, যার অনুপ্রেরণা এই জিবিইউ-৫৭।

এই ঘটনার প্রভাব কেবল ইরান বা আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আনতে পারে। ইরান যদি এই প্রযুক্তির তথ্য রাশিয়া বা চীনের মতো মিত্র দেশগুলোর সাথে শেয়ার করে, তবে তা বিশ্বজুড়ে মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। চীন ইতোমধ্যেই তাদের নিজস্ব ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা বাড়াতে এই ধরনের তথ্য ব্যবহার করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এছাড়া হিজবুল্লাহ বা হুতিদের মতো ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোও এই প্রযুক্তির পরোক্ষ সুবিধা পেতে পারে। ইসরায়েলের জন্যও এটি একটি বড় বিপর্যয়। কারণ তাদের সামরিক ডকট্রিন মূলত প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত ও নিখুঁত আক্রমণের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। ইরানের স্থাপনাগুলো যদি আরও দুর্ভেদ্য হয়ে যায়, তবে ইসরায়েলের পক্ষে কোনো বড় অভিযান পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধের এক নতুন সংস্কৃতি তৈরি হবে যেখানে আক্রমণকারী নয়, বরং আক্রান্ত দেশই প্রযুক্তিগতভাবে লাভবান হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম ‘স্টুডেন্ট নিউজ নেটওয়ার্ক’ গত ১ মে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে দাবি করেছে যে, প্রতিটি অবিস্ফোরিত মার্কিন অস্ত্র ইরানের জন্য এক একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা সম্পদ। তাদের মতে, ইরান কার্যকরভাবে যুদ্ধক্ষেত্রকে একটি প্রতিরক্ষা শিল্প গবেষণাগারে পরিণত করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আমেরিকাকে হামলার পরিকল্পনা করার সময় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে। কারণ তারা নিশ্চিত হতে পারবে না যে তাদের অস্ত্রগুলো আসলেও লক্ষ্য পূরণ করবে নাকি উল্টো শত্রুর হাতে উন্নত প্রযুক্তির ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা তুলে দেবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স

এদিকে আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি ২৯ এপ্রিল জিবিইউ-৫৭ বোমটিকে ‘পেন্টাগনের ব্ল্যাক বক্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বলেছে যে, গত ৪০ দিনের সংঘাত ও ইসরায়েলি হামলার মুখে ইরানের টিকে থাকার ‘পুরস্কার’ হিসেবে এই শক্তিশালী বোমাটি তাদের হস্তগত হয়েছে। এই ঘটনাটি ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। ইরানের কট্টরপন্থী পত্রিকা কায়হান-এর প্রধান সম্পাদক হোসেন শরীয়তমদারি একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যেন এই রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারড প্রযুক্তি চীন ও রাশিয়ার মতো ‘আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বী’ দেশগুলোর সাথে বিনিময় করে। এটি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তেহরান এই যুদ্ধাস্ত্রগুলোকে কেবল সামরিক নয়, বরং একটি বড় কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

তেহরানভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এহসান তাগাদোসি এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে করা এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছেন যে, জিবিইউ-৫৭ বোমার আসল গুরুত্ব এর বিশাল আকৃতিতে নয়, বরং এর ‘মস্তিষ্কে’ বা অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তিতে। ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের মতো বি-২ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমান পরিচালনা করে না, কিন্তু এই বোমার পেনিট্রেটর ডিজাইন বা অনুপ্রবেশ ক্ষমতার নকশা, স্মার্ট ফিউজ এবং নির্ভুল নির্দেশিকা ব্যবস্থা অত্যন্ত মূল্যবান।

তাগাদোসি যুক্তি দেখান যে, ইরান তাদের নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্ল্যাটফর্মে এই অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে চাইবে। এর মাধ্যমে ইরান নিজস্ব ডেলিভারি সিস্টেম ব্যবহার করেই মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রযুক্তি চুরির ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে নতুন প্রজন্মের বাঙ্কার-বাস্টিং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে, কারণ তাদের বর্তমান প্রযুক্তির গোপনীয়তা এখন ইরানের কাছে উন্মুক্ত।

এফ-১৫ ফাইটার জেট। ছবি: রয়টার্স
এফ-১৫ ফাইটার জেট। ছবি: রয়টার্স

‘ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া’র বিশেষ বিশ্লেষণটি একটি নতুন সামরিক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। একটি যুদ্ধের ময়দানে অবিস্ফোরিত বোমা কেবল ধ্বংসাবশেষ নয়, বরং তা হতে পারে প্রযুক্তির আকর। ইরান সফলভাবে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষকে তাদের জাতীয় শক্তিতে রূপান্তরিত করার কৌশল রপ্ত করেছে। যদিও তেহরান হয়তো রাতারাতি জিবিইউ-৫৭ এর মতো বোমা হুবহু তৈরি করতে পারবে না। কারণ তাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা বি-২ বোম্বারের মতো কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। কিন্তু এই অস্ত্রের কার্যকারিতা নষ্ট করার বা এর থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তারা অর্জন করেছে।

এর ফলে আমেরিকার যে ‘প্রিসিশন-স্ট্রাইক এক্সক্লুসিভিটি’ বা নিখুঁত আক্রমণের একচেটিয়া ক্ষমতা ছিল, তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন আর কেবল বোমার শব্দ নয়, বরং প্রযুক্তির এক নীরব লড়াই শুরু হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আগামী দিনে ওয়াশিংটনের সমর পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে হতে পারে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধে জয় কেবল শত্রু স্থাপনা ধ্বংসের মধ্যে নয়, বরং নিজের প্রযুক্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্যেও নিহিত।

সম্পর্কিত