Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ভারতের সরকারি তথ্য কেন বিশ্বাসযোগ্য নয়

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০৯: ৩৫
ভারতের সরকারি তথ্য কেন বিশ্বাসযোগ্য নয়

ভারতের উপাত্ত বা ডেটা কতটা বাজে তা কীভাবে বুঝবেন? এর জন্য আপনাকে শৌচাগারগুলোর দিকে তাকাতে হবে। ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে উত্তর-পশ্চিম ভারতের পর্যটকদের প্রিয় রাজ্য রাজস্থান নিজেকে উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ মুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছিল। অন্যদিকে, সরকারি নিরীক্ষকরা একটি আবাসন-ভর্তুকি প্রকল্পের অধীনে নির্মিত ঘরগুলো পরিদর্শনে গিয়ে এক বিচিত্র তথ্য পান। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ঘরগুলোর ৪৯ শতাংশেই কোনো শৌচাগার নেই। এই তথ্য ফাঁস হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ড্যাশবোর্ডে কিন্তু শৌচাগার ব্যবহারের হার ১০০ শতাংশই দেখানো হচ্ছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

সরকারের এক বিভাগ অন্য বিভাগের কাজ সম্পর্কে না জানা অনেক দেশেই দেখা যায়, তাই এটা খুব অস্বাভাবিক নয়। তবে বিষয়টি শুধু কারো সমালোচনা নয়; ভারতের নিজস্ব থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক নীতি আয়োগের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দেশের পরিসংখ্যানের মান নিয়ে উদ্বেগ আছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ প্রেক্ষাপটে বড় ঝুঁকি হলো—নীতি ঠিক করতে এমন সংখ্যার ওপর ভর করতে হবে, যেগুলোতে কারো পুরো আস্থা নেই। আর এই কথাটাই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ছয়টি ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

স্বাধীনতার পর অনেক বছর ধরে ভারতের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা বেশ শক্তিশালী ছিল, এমনকি দেশের উন্নয়ন স্তরের তুলনায়ও অনেক এগিয়ে। কিন্তু পরে এটি অবহেলা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১০-এর দশকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়—প্রথমে কংগ্রেস সরকারের সময়, পরে বিজেপি সরকারের সময়ও। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জিডিপি হিসাব, বেকারত্ব ও মানুষের খরচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, যা দেশ-বিদেশে ভারতের তথ্যের ওপর আস্থা কমিয়ে দেয়। এমনকি একসময় ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল কমিশনের দুই কর্মকর্তা প্রতিবাদ জানিয়ে পদত্যাগ করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারতের সরকারি কর্মকর্তা সৌরভ গর্গ। ছবি: রয়টার্স
ভারতের সরকারি কর্মকর্তা সৌরভ গর্গ। ছবি: রয়টার্স

একটি দক্ষ রাজনৈতিক দল সাধারণত জানে কীভাবে তথ্য নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ভারতে অনেক সময় তথ্য লুকানো বা দুর্বল পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি আসলের চেয়ে আরও খারাপ দেখিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার বুঝতে পারে, ভুল তথ্য লাভের চেয়ে বেশি ক্ষতি করছে। তাই ২০২৪ সালে পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ আমলা সৌরভ গর্গকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নীতি নির্ধারক, গবেষক এবং সাংবাদিকদের মতো যারা নিয়মিত এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেন, তাদের কাছে সৌরভ গর্গ বেশ প্রশংসিত। তার যোগ্যতা প্রশ্নাতীত। ভারতের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি, সেরা বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ এবং আমেরিকার জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট রয়েছে তার। সৌরভ বলেন, "যদি নির্ভরযোগ্য তথ্য না থাকে, তবে সেই শূন্যস্থান পূরণে অনির্ভরযোগ্য তথ্যের আবির্ভাব ঘটবেই।" এই স্লোগানটি টি-শার্টে ছাপলে ভারতে নিশ্চিতভাবেই অনেকে তা কিনবে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গর্গ তথ্য প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার তৈরি করেছেন, জমে থাকা সমীক্ষাগুলো শেষ করেছেন এবং তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের গতি বাড়িয়েছেন। অলাভজনক সংস্থা ডেটা ফর ইন্ডিয়া-এর প্রমিত ভট্টাচার্য বলেন, ২০২৩ সালেও যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করত যে আগামী তিন বছরে এসব হবে কি না, আমি বলতাম অসম্ভব।

বিগত জঞ্জাল পরিষ্কার করার পর গর্গ এখন ভারতের প্রায় ৮০০টি জেলার জন্য অর্থনৈতিক তথ্য তৈরির দিকে মনোনিবেশ করছেন, যাতে উপাত্তগুলো আরও সুক্ষ্ম হয়। তার আরেকটি বড় প্রকল্প হলো ভারতের পরিসংখ্যানগত কাঠামোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উপযোগী করে তোলা। এর জন্য তথ্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং মেটাডেটা স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করার মতো জটিল কাজ করতে হচ্ছে। ভারতের অনেক বিভাগ এখনও তাদের তথ্য পিডিএফ বা ছবির আকারে প্রকাশ করে, যা এআই প্রক্রিয়াকরণের জন্য অনুপযুক্ত।

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

তবে তার প্রতি এই অতিরিক্ত প্রশংসা ভারতের শাসনব্যবস্থার একটি গভীর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে। প্রায় আট দশকের স্বাধীনতা এবং ১৪৫ কোটি জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারতের প্রশাসনিক সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য। ভারতের সিভিল সার্ভিস বা প্রশাসন মাত্র ৫ হাজার ৫৭৭ জন কর্মকর্তা দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৫ বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে ১১০০-এরও কম, অথচ এই সময়ে জনসংখ্যা বেড়েছে ২৫ কোটি এবং অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ হয়েছে। তুলনা করলে দেখা যায়, ব্রিটেনের জনসংখ্যা ভারতের ২০ ভাগের এক ভাগ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এত ছোট জনবল নিয়ে মেধার গভীরতা বজায় রাখা কঠিন। এছাড়া ভারতীয় আমলাতন্ত্র প্রায়ই প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার চেয়ে ব্যক্তিগত দক্ষতার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। গর্গ ইতিমধ্যেই সরকারি অবসরের বয়স ৬০ বছর পার করেছেন এবং এই পদের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছেন। তিনি একদিন চলে যাবেন। তবে তিনি যদি তার কাজ ঠিকঠাক করে থাকেন, তবে ভারতের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা হয়তো আর কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, বরং নিজস্ব শক্তিতেই মাথা তুলে দাঁড়াবে।

বিষয়: কর্মকর্তাসরকারপরিসংখ্যানরাজনীতিভারত
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড