Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

দুই বছরে ৩ সরকার, রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে বদলও ৩ বার

রেজাউল করিম

রেজাউল করিম

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৮
দুই বছরে ৩ সরকার, রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে বদলও ৩ বার
রূপালী ব্যাংকের লোগো

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনার যে ধারা তৈরি হয়েছে, রূপালী ব্যাংকেও তার অন্যথা হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী সানাউল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টেই তিনি পদ ছাড়েন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা। এরপর ২০২৫ সালে ধাপে ধাপে একাধিক নতুন পরিচালক যুক্ত হয়ে আগের পর্ষদের বড় অংশ একেবারে বদলে যায়। গত মাসেও আবার তিনজন নতুন পরিচালককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বদলেই যাচ্ছে সময়ে সময়ে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ব্যাংকখাত বিশ্লেষকরা বলছেন, রূপালী ব্যাংক রাষ্ট্রের মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে সরকারের মনোনয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সরকার পরিবর্তনের পর পর্ষদে বদল আসা শুধু ব্যক্তির বদল নয়, বরং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী কাঠামোতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রূপালী ব্যাংকের গত দুই বছরের পর্ষদ পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়, ৫ আগস্টের পরের সময় এবং বর্তমান সরকারের সময়ে- এই তিন দফায় ব্যাংকটির পর্ষদে একের পর এক নতুন মুখ এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর চরচাকে বলেন, “আওয়ামী লীগ বা বিএনপি হোক, এসব পরিচালনা পর্ষদে পার্টির লোকই নিয়োগ দেওয়া হয় পার্টিকে খুশি করার জন্য। হয়ত এমনটা হয়, উপরে তাদেরকে দেখে মনে হয় না যে সে কোনো দলের। মনে হতে পারে সে হয়ত কোনো দল করে না। কিন্তু সেটা ঠিক নয়। তারা অবশ্যই কোনো দলের হয়ে কাজ করে, কিন্তু সেটা গোপনে। আর এই কারণেই তাকে নিয়োগ দেয় দল। আর দল থেকে যখন তাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তখন সেই দলকেই সার্ভ করবে। এতেই অনিয়ম হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।”

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ের পর্ষদ

আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন কাজী সানাউল হক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের সময়ও তার নেতৃত্বে আগের পর্ষদের বড় অংশ দায়িত্বে ছিল। কাজী সানাউল হক দীর্ঘদিন সরকারি ও আর্থিক খাতে কাজ করেছেন। তিনি ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

সরকার বদলালেই বদলে যায় সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, কী ক্ষতি হয়sonali-bank

তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই পর্ষদের স্থায়িত্ব বেশি দিন ছিল না। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে কাজী সানাউল হক পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদাকে ব্যাংকের পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেয়। ফলে সরকার পরিবর্তনের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদলে যায়।

নজরুল হুদার নিয়োগের মধ্য দিয়ে রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে নতুন পর্যায়ের সূচনা হয়। নিয়োগের পর তিনি পরবর্তী দুই বছর ধরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন। তার মেয়াদ আগামী বছরের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বদলে যায় পর্ষদের বড় অংশ

নজরুল হুদা চেয়ারম্যান হওয়ার পরও রূপালী ব্যাংকের পর্ষদ একেবারে স্থির হয়নি। বরং ২০২৫ সালে ধাপে ধাপে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এবং আগের পর্ষদের একাধিক সদস্য বিদায় নেন। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মুজিব এ সিদ্দিকী ও এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। একই সময়ের পর্ষদে প্রশাসন, ব্যাংকিং ও ব্যবসায়ীক অভিজ্ঞতার বিভিন্ন ব্যক্তিকে যুক্ত করা হয়।

মুজিব এ সিদ্দিকীর পেশাগত জীবনে ব্যাংকিং ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে, এ বি এম আব্দুস সাত্তার ছিলেন সাবেক যুগ্ম সচিব। তবে তার পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রকাশ্য রাজনৈতিক ভূমিকা। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে এসব প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে তিনি রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এরপর ২০২৫ সালের ২৫ মে এ এইচ এম মঈন উদ্দিনকে পরিচালক করা হয়। তিনি ব্যবসায়ী। একই বছরের ৩ আগস্ট এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীনকে পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তিনি সরকারের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তালিকায় তাদের মনোনয়নের তারিখ যথাক্রমে ২০২৫ সালের ২৫ মে ও ৩ আগস্ট দেখানো হয়েছে।

এই পর্যায়ে রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে প্রশাসনের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, ব্যাংকিং খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীক পটভূমির ব্যক্তিদের সমন্বয় দেখা যায়। ২০২৫ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের সাধারণ সভাতেও নজরুল হুদার সঙ্গে এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মুজিব আহমদ সিদ্দিকী, এ এইচ এম মঈন উদ্দীন, এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীন, মো. আবু ইউসুফ মিয়াসহ একাধিক পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান বদলের মাধ্যমে যে পরিবর্তন শুরু হয়েছিল, তা ২০২৫ সালে আরও বিস্তৃত হয়। পুরনো পর্ষদের একাধিক সদস্যের জায়গায় নতুন পরিচালক যুক্ত হওয়ার ফলে এক বছরের মধ্যেই ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোতে বড় পরিবর্তন ঘটে।

বিএনপির সময়ে আবার পর্ষদে বদল

রূপালী ব্যাংকের পর্ষদ পরিবর্তনের ধারাটি ২০২৬ সালেও থামেনি। গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক সাইফুল আলমকে পরিচালক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আরেক ব্যক্তি রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে যুক্ত হন।

বর্তমান পর্ষদের মধ্যে এ বি এম আব্দুস সাত্তারের রাজনৈতিক পরিচয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পাওয়ার মতো। বর্তমান সরকারের সময়ে ব্যাংকের পর্ষদে এমন একজন ব্যক্তিও রয়েছেন, যার পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি দায়িত্ব পালনের সম্পর্ক রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান রূপালী ব্যাংক পর্ষদের চেয়ারম্যান নজরুল হুদা। পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন মো. আবু ইউসুফ মিঞা, মুজিব এ সিদ্দিকী, এ বি এম শওকত ইকবাল শাহীন, এ এইচ এম মঈন উদ্দিন ও সাইফুল আলম। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আছেন কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম।

রাজনৈতিক-পেশাগত পরিচয়ের প্রশ্ন

রূপালী ব্যাংকের গত দুই বছরের পর্ষদ পরিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, পর্ষদে আসা ব্যক্তিদের পেশাগত পরিচয় এক রকম নয়। কেউ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা, কেউ প্রশাসনের কর্মকর্তা, কেউ ব্যাংকিং ও ব্যবসায়ীক খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তি, আবার কেউ পেশাদার হিসাববিদ। ফলে পর্ষদ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু ব্যক্তির পরিবর্তন নয়, তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

এর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নও সামনে আসে। এ বি এম আব্দুস সাত্তারের প্রকাশ্য রাজনৈতিক দায়িত্বও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্য পরিচালকদের ক্ষেত্রে প্রকাশ্য দলীয় পদ বা সক্রিয় রাজনৈতিক পরিচয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পদে দলীয় লোকই নিয়োগ হয় তবে সেটা প্রকাশ্যে হয়ত দেখা যায় না। অনেকে গোপনেও দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: টাকা ফেরত পেলেও কাটছে না আস্থার সংকটbank-cash

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী চরচাকে বলেন, “একটা ব্যাংক পরিচালিত হয় তার পরিচালনা পর্ষদের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে। তাই পরিচালনা পর্ষদকে অনেক দক্ষ ও যোগ্য হতে হয়। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া পরিচালনা পর্ষদ যোগ্য হওয়ার সম্ভাবনা কম। তারা যেহেতু রাজনৈতিকভাবে নিয়োগ পাওয়া সেহেতু তারা রাজনীতিবিদদের স্বার্থ বজায় রেখে কাজ করেন। তারা অনেক সিদ্ধান্ত নেন যেগুলো ব্যাংকিং নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে যায় না।”

সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তনের বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন- জানতে চেয়ে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সরকারের সঙ্গে ব্যাংকের পর্ষদ বদলালে ক্ষতি কোথায়?

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। ঋণ অনুমোদন ও তদারকি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অডিট, ব্যবস্থাপনার ওপর নজরদারি এবং ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণেও পর্ষদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে যদি পর্ষদও দ্রুত পরিবর্তিত হয়, তাহলে ব্যাংকের নীতিগত ধারাবাহিকতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি ব্যাংকের ঋণ ব্যবস্থাপনা বা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ফল এক বছরে পাওয়া যায় না। কোনো ঋণ প্রকল্পের ঝুঁকি, বড় গ্রাহকের আর্থিক সক্ষমতা, খেলাপি ঋণ আদায়, পুনঃতফসিল, প্রভিশন এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। পর্ষদের সদস্যরা ঘন ঘন পরিবর্তিত হলে নতুন পর্ষদকে পুরনো সিদ্ধান্ত, ঝুঁকি ও দায় সম্পর্কে আবার নতুন করে ধারণা নিতে হয়।

রূপালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যাংকটির পর্ষদে গত দুই বছরে একাধিক দফায় পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে চেয়ারম্যান বদল, ২০২৫ সালে একাধিক নতুন পরিচালক নিয়োগ এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল ও আগস্টে নতুন পরিচালক যুক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতা দেখায় যে, পর্ষদটি একটি স্থির কাঠামোর মধ্যে থাকেনি।

সরকার বদলের সাথে বদলায় পর্ষদের চরিত্র

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবর্তনের সময়কাল। চেয়ারম্যান নজরুল হুদার নিয়োগ হয়েছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় সরকার পরিবর্তনের পর। এরপর ২০২৫ সালে পর্ষদের বড় অংশে পরিবর্তন আসে। আবার ২০২৬ সালে নতুন তিনজন পরিচালক যুক্ত হয়েছেন। ফলে রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে পরিবর্তনগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সরকার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে চলমান একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সরকার মালিক। তাই সরকার তার মালিকানা ক্ষমতা ব্যবহার করে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আনতেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তন কতটা প্রয়োজনভিত্তিক, কতটা দীর্ঘমেয়াদি ব্যাংকিং কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং পর্ষদের সদস্যদের পেশাগত ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে।

মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, “এই কালচার থেকে আমাদের বের হতে হবে। যারা যোগ্য তাদেরই পরিচালনা পর্ষদে নিয়ে আসা উচিত। এতে ক্ষমতাসীন দল হয়তো কিছু সমস্যায় পড়তে পারেন। অর্থাৎ তখন রাজনীতিবিদরা অবৈধ সুবিধা আদায় করতে পারবেন না। তবে ধীরে ধীরে এটার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। এভাবেই ভালো কালচার তৈরি হবে। দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিরা এসব গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসবে। এতে ব্যাংকগুলো ভালো চলবে।”

বিষয়: রূপালী ব্যাংকসরকারঋণটাকা
সর্বশেষ
  • ১

    রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সজ্জিত হচ্ছে সিলেট

  • ২

    দুই বছরে ৩ সরকার, রূপালী ব্যাংকের পর্ষদে বদলও ৩ বার

  • ৩

    বরিশালে বোরকা পরা দুর্বৃত্তদের হাতে কৃষক খুন

  • ৪

    সিকৃবির উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন স্থগিত

  • ৫

    ‘আমাদেরকে পুতুল বানানো হয়েছে, আমাদের বাজার নেওয়ার জন্য’

সম্পর্কিত
  • এবারের ব্রিকস সম্মেলন ঐক্যের মাইলফলক হতে পারে

    এবারের ব্রিকস সম্মেলন ঐক্যের মাইলফলক হতে পারে

    নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে সম্মেলন ঘিরে ভারতের এবারের প্রকাশ্য আয়োজন তিন বছর আগে জি-২০ সম্মেলনের সময়ের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নয়। আয়োজন সাদামাটা হলেও সম্মেলনটির গুরুত্ব কমে যায়নি।

  • হুতিরা কি লোহিত সাগর বন্ধ করে দিতে পারে?

    হুতিরা কি লোহিত সাগর বন্ধ করে দিতে পারে?

    গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী মোখাসহ হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ডজন ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তবে তা তাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও হুতিদের বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াশিংটন থেকেও সরাসরি সহায়তা

  • টিএনএজারদের শেখার ক্ষমতা কি কমে যাচ্ছে?

    টিএনএজারদের শেখার ক্ষমতা কি কমে যাচ্ছে?

    প্রতি তিন বছর পরপর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সংগঠন হিসেবে পরিচিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে।

  • কীভাবে ৯/১১ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মার্কিন রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে

    কীভাবে ৯/১১ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মার্কিন রাজনীতিতে ঢুকে পড়েছে

    নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে দুটি বিমান হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পঁচিশ বছর পরও ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলোর রেশ কাটেনি; বরং এগুলো আরও ‘শক্তিশালী’ হয়েছে এবং নতুন রূপ ধারণ করেছে।