প্রতি তিন বছর পরপর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সংগঠন হিসেবে পরিচিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং আগামী দিনের অর্থনীতি নিয়ে যারা চিন্তা করেন, এই পরীক্ষার ফল তাদের রীতিমত উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
৮ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার সর্বশেষ ফল প্রকাশিত হয়। এবারের ফল নিয়ে কিছুটা আশা ছিল। কারণ, মহামারির পরপর নেওয়া আগের পরীক্ষায় গণিত, পড়া ও বিজ্ঞানে শিক্ষার্থীদের ফল অনেক খারাপ হয়েছিল। নীতিনির্ধারকেরা আশা করেছিলেন, মহামারির সেই সংকট কেটে যাওয়ায় এবার ফল কিছুটা ভালো হবে। কিন্তু তা হয়নি।
ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের তথ্যমতে, ধনী দেশগুলোতে এই পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ফল আরও খারাপ হয়েছে। গণিত, পড়া ও বিজ্ঞানে নম্বর কমেছে। পড়ার দক্ষতায় অবনতির গতি আরও বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্কুলে শিক্ষার্থীদের ভালো করার সক্ষমতা কমে যাওয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের কিছু কারণ রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা আরও কমে যেতে পারে।
দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ওইসিডির এই প্রকল্পের নাম পিসা (পিআইএসএ)। এতে বাধ্যতামূলক স্কুলজীবনের শেষ পর্যায়ের দিকে থাকা তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা ও সক্ষমতা পরিমাপ করা হয়।
বছরের পর বছর এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দেশের সংখ্যা বেড়েছে। সর্বশেষ পরীক্ষায় ওইসিডির ৩৮টি সদস্যদেশের পাশাপাশি আরও ৫৩টি দেশ ও অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে অনেক উন্নয়নশীল দেশও রয়েছে। এই পরীক্ষার ফল দিয়ে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের দক্ষতার একটি আন্তর্জাতিক তালিকা তৈরি করা হয়।
এ বছরও ২০০০ সালের পর থেকে প্রায় প্রতিটি পরীক্ষার মতো এশিয়ার দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। ২০১৮ সালের পর এবার প্রথমবারের মতো চীনের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তারা প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে অনেক ভালো ফল করেছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ফল কিছুটা বেশি হওয়ার কারণও আছে। সেখানে মাত্র চারটি ধনী প্রদেশের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
বিজ্ঞান ও গণিতে চীনের শিক্ষার্থীরা ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর গড় নম্বরের চেয়ে ১০০ পয়েন্ট বেশি পেয়েছে। সাধারণভাবে, ২০ পয়েন্টকে গড়ে একজন শিক্ষার্থী এক বছরে যতটা শেখে, তার সমান ধরা হয়। চীনের পর রয়েছে সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও, তাইওয়ান ও জাপানের শিক্ষার্থীরা।
পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে এস্তোনিয়ার শিক্ষাব্যবস্থা এখনো সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। তুরস্কও খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ব্রিটেনের জন্যও ভালো খবর রয়েছে। দেশটির শিক্ষার্থীরা এখন তিনটি বিষয়েই বিশ্বের সেরা ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে। তিন বছর আগের তুলনায় ব্রিটেনের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানে ফল ভালো হয়েছে। পড়ার দক্ষতা ও গণিতে ফল মোটামুটি একই রয়েছে। অন্য অনেক দেশের ফল যেখানে খারাপ হয়েছে, সেখানে এই ফলকে ভালো বলেই ধরা হচ্ছে।
তবে পুরো চিত্রটা দেখলে দীর্ঘমেয়াদি অবনতিই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। পিসা পরীক্ষার প্রতিটি পর্বে অংশ নেওয়া ২৩টি ওইসিডি দেশের গড় ফল ২০১২ সালের দিকে সবচেয়ে ভালো ছিল। এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে কমছে।
গণিত ও পড়ার দক্ষতা—দুই ক্ষেত্রেই এখন এসব দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ফল এমন পর্যায়ে নেমেছে, যা এক দশক আগে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে পারত।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো। কারণ, এসব দেশের শিক্ষার্থীদের ফল শুরু থেকেই ধনী দেশগুলোর তুলনায় কম। তবে সেসব দেশের অনেক জায়গাতেও গণিত ও পড়ার দক্ষতায় শিক্ষার্থীদের ফল ক্রমেই কমছে।
যেসব শিক্ষার্থী আগে থেকেই পড়াশোনায় সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল, তারা এখন আরও পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোতে ভালো ও খারাপ ফল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যবধান এখন পিসার পরীক্ষার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। পিসার যেসব বিষয়ে পরীক্ষা নেয়, সব কটিতেই এই ব্যবধান দেখা গেছে।
ওইসিডির দেশগুলোতে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রায় ২০ শতাংশ পড়া, গণিত ও বিজ্ঞান–এই তিন বিষয়েই খুব দুর্বল। চার বছর আগে এই হার ছিল ১৬ শতাংশ।
সংস্থাটির মতে, এসব শিক্ষার্থীর জন্য খুব সহজ লেখা ছাড়া অন্য কিছু বোঝা কঠিন হবে। এমনকি বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিলের মতো সাধারণ বিষয় বুঝতেও তাদের সমস্যা হতে পারে।
মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের কারণে শিশুরা বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও প্রমাণও রয়েছে। প্রতীকী ছবি
এই অবনতির কারণ কী?
বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এর একটি বড় কারণ হতে পারে। এ বছরের পিসা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বয়স করোনা মহামারি শুরুর সময় ১০ বছরের মতো ছিল। তাই স্কুলজীবনের ওই সময়ে পড়াশোনায় হওয়া বড় ধরনের বিঘ্নের কারণে তারা হয়তো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের তুলনায় যেসব শিক্ষার্থী তখন স্কুলজীবনের আরও পরের ধাপে ছিল, তাদের ওপর এর প্রভাব কম হতে পারে।
মহামারির সময় তৈরি হওয়া আরও কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। এর মধ্যে স্কুলে অনুপস্থিতির হার অন্যতম। করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগের তুলনায় এখন শিক্ষার্থীদের স্কুলে অনুপস্থিতির হার অনেক বেশি। তবে এর কারণ নিয়ে নানা মত রয়েছে।
পিসার তথ্যমতে, উন্নত দেশগুলোতে প্রায় ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত এক দিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে। ২০১৯ সালে এই হার ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও অনুপস্থিতি বেড়েছে। কয়েক দিন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলেও পরীক্ষার ফলাফলে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
শিশুরা কি শিখছে?
পিসার ফল কমে যাওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা ও শেখার ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়েও দীর্ঘদিনের উদ্বেগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে পড়ার দক্ষতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে চিন্তা বাড়ছে।
ওইসিডির শিক্ষা বিভাগের প্রধান আন্দ্রেয়াস শ্লাইখারের মতে, মোবাইল ফোন বেশি ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহজে প্রবেশের কারণে তরুণেরা জটিল লেখা বোঝার অনুশীলন কম করছে। তিনি বলেন, পরীক্ষায় এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে, যারা দ্রুত পড়া শেষ করছে, কিন্তু অনেক প্রশ্নের উত্তর ভুল দিচ্ছে। মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসের কারণে শিশুরা বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও প্রমাণও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পড়ার দক্ষতা কমে যাওয়ার কারণে অন্য বিষয়গুলোর ফলও খারাপ হতে পারে। কারণ গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয় ভালোভাবে শেখার জন্যও ভালোভাবে পড়তে ও বুঝতে পারা জরুরি। তাদের মতে, এই সমস্যাগুলো মোকাবিলায় স্কুলে ভালো ও কার্যকর নীতি দরকার। কিন্তু শিক্ষা নিয়ে নানা বিষয়ে অনেক দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না।
শ্লাইখারের আশঙ্কা, স্কুলগুলো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এমন ধারণা দিচ্ছে যে মাঝারি মানের কাজও যথেষ্ট ভালো। তিনি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষামূলক সফটওয়্যারের অতিরিক্ত ও অপরিকল্পিত ব্যবহারেরও সমালোচনা করেছেন। তার মতে, যথেষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে এক ধরনের পরীক্ষামূলক বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
কিছু তথ্য বলছে, স্কুলের পরিবেশও আগের তুলনায় বেশি অশান্ত হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে উন্নত বিশ্বের শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, শুধু শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই তাদের আগের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।
২০০০ সালে প্রথম পিসা পরীক্ষা নেওয়া হয়। তখন ফিনল্যান্ড সবার ওপরে উঠে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। এরপর বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখতে রাজধানী হেলসিঙ্কিতে ছুটে যান। সেখান থেকে ফিরে তারা নিজেদের দেশের শিক্ষকদের কাছে ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ফিনল্যান্ড খুব বেশি পরীক্ষা ও পরিদর্শন ছাড়াই ভালো ফল করেছিল বলে মনে হয়েছিল। দেশটির শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ করে ছোট শিশুদের জন্য খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর জোর দেওয়া হতো। তাদের ধারণা ছিল, শিক্ষকরা শুধু বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার বদলে শিক্ষার্থীদের নিজেরাই বিষয়গুলো বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সহায়তা করবেন।
কিন্তু ২০০০ সালের সেই প্রথম পরীক্ষার পর ফিনল্যান্ডের ফল যতটা দ্রুত কমেছে, ততটা খুব কম দেশেরই কমেছে। সর্বশেষ ফলাফলেও দেশটির এই অবনতি অব্যাহত রয়েছে।
ফিনল্যান্ডের সমালোচকদের মতে, ২০০০ সালে দেশটির ভালো ফল আসলে তখনও চালু থাকা পুরোনো ধাঁচের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে হয়েছিল। পরে যে আধুনিক ও নতুন ধরনের শিক্ষা পদ্ধতির জন্য দেশটি বিখ্যাত হয়, সেটি ওই ভালো ফলের মূল কারণ ছিল না।
যদি এই ধারণা সত্যি হয়, তাহলে ফিনল্যান্ডের সাফল্য দেখে বিশ্বের অনেক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ভুল পথে চলে গিয়ে থাকতে পারে।
কোন দেশগুলো নতুন উদাহরণ হতে পারে?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থার ফলও কিছুটা খারাপ হয়েছে। তবে অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় এশিয়ার অবনতি কম। পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর পরীক্ষার ফলাফলে বড় ব্যবধান রয়েছে। তাই পূর্ব এশিয়ার শিক্ষা নীতিগুলো আবার গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
এশিয়ার দেশগুলোতে অভিভাবকেরা সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে খুবই আগ্রহী। অনেকেই অতিরিক্ত পড়াশোনার জন্য অনেক টাকা খরচ করেন। সমালোচকরা বলেন, সমাজের এই বৈশিষ্ট্য অন্য দেশে সহজে অনুসরণ করা সম্ভব নয়।
দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, এশিয়ার রাজনীতিবিদদের কিছু ভালো সিদ্ধান্তও রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় এশিয়ার দেশগুলো ছোট ক্লাসের ওপর কম গুরুত্ব দেয়। তারা সাধারণত বেশি শিক্ষক নিয়োগ না করে কমসংখ্যক শিক্ষক রাখে। তবে সেই শিক্ষকদের তুলনামূলক বেশি বেতন দেওয়া হয় এবং আরও ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি ভালো কাজ করছে বলেই মনে হয়।
এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা অনেক দেশ শিক্ষার্থীদের ফল ভালো করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আরও বেশি কর্মী নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে।
ব্রিটেনের ভালো ফলাফলের দিকেও আরও বেশি নজর দেওয়া দরকার। প্রায় ১৫ বছর আগে রক্ষণশীলদের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় ইংল্যান্ডে শিক্ষা সংস্কার শুরু হয়। ইংল্যান্ড ব্রিটেনের চারটি আলাদা শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে বড়। তখন বিশ্বের অনেক দেশ যে পথে যাচ্ছিল, ইংল্যান্ড তার বিপরীত পথে হাঁটে। ইংল্যান্ডের শিক্ষাক্রমে আরও বেশি তথ্য ও জ্ঞানভিত্তিক বিষয় যুক্ত করা হয়। অন্য অনেক দেশের নীতিনির্ধারকেরা তখন সৃজনশীলতা ও নানা ধরনের দক্ষতা শেখানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিলেন।
ইংল্যান্ডে পরীক্ষার মান কঠিন করা হয়। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের কাজের ওপর নির্ভরতা কমানো হয়, কারণ এসব কাজে সহজেই নকল করা সম্ভব। স্কুল পরিদর্শনের নিয়মও কঠোর করা হয়।
ইংল্যান্ডের এসব নীতি শিক্ষার্থীদের ফলাফল খারাপ হওয়া কিছুটা ঠেকাতে পেরেছে। এর সবচেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় পাশের দেশ স্কটল্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করলে।
২০ বছর আগে স্কটল্যান্ডের শিক্ষার্থীরা ইংল্যান্ডের শিক্ষার্থীদের চেয়ে ভালো ফল করত। এখন তারা সাধারণত ইংল্যান্ডের চেয়ে খারাপ ফল করে। অথচ স্কটল্যান্ডে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে শিক্ষাখাতে খরচ অনেক বেশি।
স্কটল্যান্ডের সমালোচকরা এর জন্য আধুনিক ধরনের শিক্ষাক্রম এবং শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলার বিষয়ে শিথিল নীতিকে দায়ী করেন। করোনা মহামারি বা মোবাইল-কম্পিউটারের পর্দার ব্যবহার দিয়ে এই পার্থক্য ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ ব্রিটেনের সব শিশুই এসব সমস্যার প্রায় একইভাবে মুখোমুখি হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরীক্ষার ফল কোনো মানুষের পুরো পরিচয় নয়। ভালো বা খারাপ ফল দেখে কেউ জীবনে সফল হবে কি না, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তবে ভালো ফলাফলের সঙ্গে বেশি আয়, ভালো স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ জীবনযাপনের সম্পর্ক রয়েছে। আরও অনেক সুবিধার সঙ্গেও ভালো ফলাফলের যোগসূত্র আছে।
একটি দেশের ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যায়। কোনো দেশের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দক্ষতা যত বাড়ে, পরবর্তী সময়ে সেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও তত বাড়তে দেখা যায়।
একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, পিসা পরীক্ষার ফল ২৫ পয়েন্ট বাড়াতে পারলে উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে ভালো শিক্ষার মূল্য ভবিষ্যতে কমে যাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো খুব বেশি প্রমাণ নেই। তবে এমন অনেক কারণ রয়েছে, যার ভিত্তিতে মনে করা যায়, এই প্রযুক্তি কম দক্ষ মানুষদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করবে। তাই শিক্ষা সংস্কারকদের এখন আবার স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিয়ে নজর দেওয়ার সময় এসেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।