আল জাজিরার বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের ভোটের যুদ্ধ: ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
বাংলাদেশের ভোটের যুদ্ধ: ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব
ত্রয়োদশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব। ছবি: চরচা

‘নৌকা, ধানের শীষ আর লাঙলের দিন শেষ; দাঁড়িপাল্লা এখন গড়বে বাংলাদেশ’- দ্রুতলয় ও ছন্দময় এই গানের কথাগুলো গ্রামীণ বাংলাদেশের জীবনধারা নিয়ে কোনো ভাষ্য বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে অবশ্য এটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রচারের জন্য তৈরি একটি রাজনৈতিক সংগীত। এই গানটি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের শুরুতে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে ব্যাপক ভাইরাল হয়।

‘নৌকা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের প্রতীক, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন। ‘ধানের শীষ’ হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতীক। আর ‘লাঙল’ হলো জাতীয় পার্টির নির্বাচনী প্রতীক, যারা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের মিত্র ছিল। এই দলটি আশির দশকে এক সামরিক শাসকের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এটি মূলত বিএনপি এবং জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে একটি সরাসরি লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে। ২২ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার। তবে অনলাইন জগতে দলগুলোর এই লড়াই চলছে মাসখানেক ধরে। তাদের মূল লক্ষ্য জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের ভোটারদের আকৃষ্ট করা। এই প্রজন্মই ২০২৪ সালে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রজন্ম পরবর্তী সরকার গঠনেও মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, জামায়াতপন্থী গানটির অনলাইন জনপ্রিয়তা অন্যান্য দলগুলোর মধ্যেও গান তৈরির এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে বিশাল জনসভাই এখন কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছানোর একমাত্র মাধ্যম নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও এখন সমান শক্তিশালী হাতিয়ার।

লন্ডনভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাতা এইচ এ এল বান্না জামায়াতপন্থী গানটি সুর করেছেন এবং গেয়েছেন। তিনি আল জাজিরাকে জানান, গানটি মূলত ঢাকার একজন প্রার্থীর জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বান্না বলেন, “যখন মানুষ এটি শেয়ার করা শুরু করল, অন্যান্য প্রার্থীরা বুঝতে পারলেন এটি সাধারণ ভোটারদের সাথে সংযোগ তৈরি করছে। পরে তারাও এটি ব্যবহার শুরু করেন।”

বিএনপিও তাদের নিজস্ব নির্বাচনী প্রচারণার গান নিয়ে এসেছে। জনমত জরিপে জামায়াতের চেয়ে সামান্য এগিয়ে থাকা এই দলটির গানের কথায় বোঝানো হয়েছে যে তারা নিজেদের চেয়ে দেশকে বেশি গুরুত্ব দেয়। গানের কথাগুলো হলো, “আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ; ক্ষমতার আগে জনতা, সবার আগে বাংলাদেশ।”

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ। ছবি: বাসস
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ। ছবি: বাসস

২০২৪ সালের হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের সম্মুখভাগে থাকা শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) তাদের নিজস্ব গান প্রকাশ করেছে, যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

তবে এই ডিজিটাল প্রচারণায় গান ছিল কেবল একটি অংশ মাত্র।

ছোট ছোট নাটিকাধর্মী ভিডিও, ভোটারদের আবেগপূর্ণ সাক্ষাৎকার, নির্বাচনী নীতিমালার ব্যাখ্যামূলক ভিডিও এবং বিদ্রূপাত্মক বা স্যাটায়ারধর্মী কনটেন্টে সয়লাব হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যম।

এ বছর অনলাইন যুদ্ধ কেবল সংসদীয় আসনের লড়াইয়ের চেয়েও বড় কিছু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা কেবল নতুন সরকারই নির্বাচন করবেন না, বরং সেই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের ওপর একটি গণভোটেও অংশ নেবেন। এটি নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত একটি সংস্কার প্যাকেজ। সরকারের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এই সনদের অনুমোদন অপরিহার্য।

কেন অনলাইন প্রচার এত গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ কোটি, যা মোট আনুমানিক ১৭ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ।

২০২৫ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত গ্লোবাল ডিজিটাল রিসার্চ প্ল্যাটফর্ম ‘ডেটারিপোর্টাল’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের চমকপ্রদ তথ্য।

প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা (১৮+ বছর) ফেসবুক ব্যবহারীর সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি ৪০ লাখ, টিকটক পাঁচ কোটি ৬০ লাখ, ইউটিউব পাঁচ কোটি, ইনস্টাগ্রাম ৯১ লাখ ৫০ হাজার, এক্স ১৭ লাখ ৯০ হাজার।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল ডিজিটাল বিস্তৃতিই বলে দেয় কেন রাজনৈতিক দলগুলো অনলাইনে নিজেদের ন্যারেটিভ বা প্রচারণার জন্য এত বিপুল বিনিয়োগ করছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, বাংলাদেশের মোট ভোটারের ৪৩.৫৬ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৭ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে অনেকেই নতুন ভোটার অথবা এমন তরুণ যারা শেখ হাসিনার শাসনামলে নিজেদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মনে করতেন। ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো অনিয়ম, বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন এবং বর্জনের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ ও লোকদেখানো নির্বাচনে পরিণত হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাই এবার তরুণদের মাঝে ক্ষোভকে ভোট দেওয়ার দৃঢ় সংকল্পে রূপান্তর করেছে।

ডিজিটাল কৌশল

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করেছে, যার মধ্যে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণও অন্তর্ভুক্ত।

এর ফলে নির্বাচনটি একটি দ্বিমুখী প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে।

একদিকে রয়েছে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন জোট, যারা নিজেদের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের অভিজ্ঞ বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক হত্যাকাণ্ড, গুম এবং দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বিএনপি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শাসন করেছে।

অন্যদিকে রয়েছে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট, যার মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) অন্তর্ভুক্ত।

সিলেটের আলিয়া মাদরাসায় বিএনপির জনসমাবেশ। ছবি: চরচা
সিলেটের আলিয়া মাদরাসায় বিএনপির জনসমাবেশ। ছবি: চরচা

বিএনপি নেতা মাহদী আমিন আল জাজিরাকে জানান, দলটি এখন নীতিগত প্রস্তাবনা প্রচার এবং ভোটারদের মতামত সংগ্রহের দিকে মনোনিবেশ করছে। তিনি বলেন, “বিএনপি একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল যার দেশ শাসনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিটি খাতের জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে।”

অনলাইনে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে বিএনপি MatchMyPolicy.com-এর মতো ওয়েবসাইট চালু করেছে, যেখানে ভোটাররা দলটির প্রস্তাবিত নীতিমালার ওপর তাদের সম্মতি বা অসম্মতি জানাতে পারেন। বিএনপি জানিয়েছে, নির্বাচিত হলে তারা এই নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন করবে।

বিএনপির মতো জামায়াতে ইসলামীও একটি ওয়েবসাইট janatarishtehar.org-চালু করেছে। দলটি জানিয়েছে, এর লক্ষ্য হলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির জন্য ভোটারদের মতামত সংগ্রহ করা।

জামায়াত নেতা জুবায়ের আহমেদ বলেন, আমরা যে আদর্শে বিশ্বাস করি সেই বয়ানগুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের অনলাইন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। অন্যান্য দল এবং তাদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে জুবায়ের বলেন, “আমরা অন্যদের পর্যবেক্ষণ করি, কিন্তু কাউকে অনুসরণ করি না। আমাদের প্রতিযোগিতা হবে বুদ্ধিবৃত্তিক।”

অনলাইনে এই লড়াইয়ে কি কেউ জিতছে? বিশ্লেষকরা এখনই কাউকে পরিষ্কার বিজয়ী ঘোষণা করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির হিউম্যানিটেরিয়ান অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর অ্যাডজান্ট ফেলো মোবাশ্বার হাসান এই দুই দলের প্রচারণ কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

হাসান বলেন, বিএনপির অনলাইন কনটেন্টগুলো সাধারণত তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোকে ছোট ছোট ক্যাপশনযুক্ত ভিডিও এবং শেয়ারযোগ্য ‘কার্ড’-এর মাধ্যমে তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু পোস্টে তাদের প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের প্রচার করা হয়, যার অধীনে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ৫০ লাখ নারী ও পরিবার প্রতি মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার প্রয়োজনীয় পণ্য সহায়তা পাবে। অন্যান্য ক্লিপ এবং গ্রাফিক্সে তাদের ‘ফার্মার কার্ড’ বা কৃষক কার্ড পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে সার, বীজ ও কীটনাশকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের সহজ ঋণ ও বিমা সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে তিনি যুক্তি দেন যে, জামায়াতপন্থী অনলাইন কনটেন্টগুলো প্রায়ই বিএনপিকে আক্রমণ করার দিকে মনোযোগ দেয় এবং প্রচার করে যে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের মধ্যে ‘আসলে কোনো পার্থক্য নেই’।

ফ্যাক্ট-চেক আউটলেট ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির বলেন, জামায়াত-ঘেঁষা অনলাইন প্রচারণাগুলো ভারত-বিরোধী বার্তাগুলোকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। ২০২৪ সালের আগস্টে পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত আছেন এবং ঢাকা থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তাকে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তিনি বলেন, “এই থিমগুলো এখন জামায়াতের গণ্ডি ছাড়িয়ে মিম এবং বিভিন্ন ফরম্যাটের মাধ্যমে তরুণ ব্যবহারকারীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে।”

গণভোটও এখন ভাইরাল

এ বছর অনলাইন যুদ্ধ কেবল দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘জুলাই চার্টার’ বা জুলাই সনদ নামে পরিচিত সংস্কার প্রস্তাবের ওপর রাষ্ট্র সমর্থিত গণভোটের ওপরও অনলাইনে প্রচার চলছে। জুলাই বিপ্লবের স্মরণে এই সনদের নাম রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে একটি ডিজিটাল প্রচারণা শুরু করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম আল জাজিরাকে বলেন, প্রথাগত মিডিয়া বা মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তা ও মানুষের কাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমে আসায় তারা এই ডিজিটাল কৌশল গ্রহণ করেছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনার। ছবি: চরচা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় শেখ হাসিনার। ছবি: চরচা

শফিকুল আলম বলেন, “প্রথাগত গণমাধ্যম এখন দিন দিন কম ব্যবহৃত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, সংস্কারগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য জনগণের অনুমোদন পেতে অনলাইন প্রচারের প্রয়োজন ছিল।

এই জুলাই সনদে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং নির্বাচনে কারচুপি প্রতিরোধের রক্ষাকবচ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সাংবিধানিক সংস্কারের আহ্বানও এতে জানানো হয়েছে।

জুলাই বিপ্লব থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক কমিটিও (এনসিপি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অনলাইনে প্রচারণা চালাচ্ছে।

তবে বিশ্লেষক এবং কনটেন্ট নির্মাতারা মনে করেন, অফলাইন বা মাঠপর্যায়ের প্রচারণা এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাল হওয়া জামায়াতপন্থী গানের সুরকার এইচ এ এল বান্না বলেন, মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে সরাসরি গণসংযোগের কোনো বিকল্প নেই।

তবে তিনি এও বলেন, “অনলাইন প্রচারণাগুলো অফলাইনে মানুষের আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে দেয়।” বাংলাদেশের মতো তরুণ ভোটারবহুল দেশের ক্ষেত্রে এটিই হতে পারে জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি।

সম্পর্কিত